kalerkantho

রবিবার । ২১ জুলাই ২০১৯। ৬ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৭ জিলকদ ১৪৪০

ইন্টেরিয়র

দেয়ালের ভোল বদল

ঘরের দেয়ালটা যাচ্ছেতাই ময়লা হয়েছে? সামনে আসছে রমজান, পরপর দুটো উত্সব। নতুন রং করা খরচসাপেক্ষ ব্যাপার। কম খরচে এই মুশকিলের সহজ সমাধান ওয়ালপেপার। দেখতে রঙের চেয়ে কোনো অংশে কম না। খরচও কম আর দেয়ালে লাগাতেও সুবিধা। ইন্টেরিয়র ডিজাইনার গুলসান নাসরিন চৌধুরীর পরামর্শ শুনে লিখছেন নাঈম সিনহা

৬ মে, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দেয়ালের ভোল বদল

ঘরের একটি দেয়াল সাধারণত ফাঁকা রাখলে দেখতে ভালো লাগে; কিন্তু বাচ্চাদের আঁকিবুঁকি আর নানা কিছু লেগে দেয়ালটা হয়ে যায় ময়লা। এসব ক্ষেত্রে একটি দেয়াল আলাদা করে রং করাটা ঝক্কির কাজ। এই দেয়ালটিতে ওয়ালপেপার লাগিয়ে সহজেই ঘরের হারানো জৌলুস ফিরে পেতে পারেন।

দেয়ালের রং বুঝে বাছতে হবে ওয়ালপেপার। অন্য দেয়ালের রং সাদা বা অফহোয়াইট হলে একটি দেয়ালে সাদা-কালোর মিশ্রণ আছে এমন ওয়ালপেপার ব্যবহার করলে ভালো দেখাবে। চাইলে সাদার সঙ্গে অন্য যেকোনো রঙের নকশা থাকতে পারে। বসার ঘর কিংবা ফ্যামিলি লিভিংয়ে দেয়াল হাইলাইট করতে চাইলে লাল বা কমলা রঙের নকশাদার ওয়ালপেপার বেছে নিতে পারেন। হতে পারে গোলাপি বা নীলের নকশাও। ঘর ছোট হলে হিজিবিজি নকশা এড়িয়ে যান। ঘর একটু বড় দেখাতে সাদা বা যেকোনো হালকা রঙের ছিমছাম নকশার ওয়ালপেপার ব্যবহার করুন। বড় ঘরে কমলা ও হলুদের মাঝামাঝি কোনো রং বেছে নিন। ঘরের সাজের থিমের সঙ্গেও সামঞ্জস্য থাকতে পারে ওয়ালপেপারের। সে ক্ষেত্রে সোফা, পর্দা কিংবা আসবাব যেকোনো একটির রঙের সঙ্গে মিলিয়ে হবে ওয়ালপেপারের রং। যেমন পুরো ঘরের সাজে অল্প সবুজ রঙের ছোঁয়া থাকলে গাঢ় সবুজ রঙের ওয়ালপেপার ভালো লাগবে। দেয়ালে নকশাদার ডিজাইন চাইলে ফুলেল নকশার টেক্সচার বা এমবোস ওয়ালপেপার বেছে নিন। অন্যান্য আসবাবের সঙ্গে মানিয়ে গেলে জ্যামিতিক নকশাও থাকতে পারে দেয়ালে।

শোবার ঘরে খাটের মাথার দিকটায় নকশাদার ওয়ালপেপার লাগাতে পারেন। সাধারণত এই ঘরে হালকা আর কম নকশার ওয়ালপেপার লাগানোই ভালো। প্রকৃতির দৃশ্য আছে এমন ওয়ালপেপার বেছে নিতে পারেন। সজীব একটা আবহ আসবে ঘরে। খাবার ঘরের একটা দেয়াল ফোকাস করতে নকশাদার ওয়ালপেপার লাগানো যেতে পারে। তবে নকশা যেন জবরজং না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। হালকা কমলা, নীল, সি গ্রিন রঙের ফ্লোরাল ওয়ালপেপার লাগাতে পারেন খাবার ঘরে। ওয়ালপেপারে নকশা থাকলে দেয়ালে আলাদা করে পেইন্টিং ব্যবহার করার প্রয়োজন নেই। শিশুদের ঘরের দেয়ালজুড়ে থাকতে পারে কার্টুনের নকশা। একেক দেয়ালে শিশুর পছন্দমতো ভিন্ন ভিন্ন কার্টুন চরিত্রের ওয়ালপেপার লাগাতে পারেন।

বাজারে টেক্সচার, এমবোস নানা ধরনের ওয়ালপেপার পাওয়া যায়। এই কাগজগুলো হাত দিয়ে স্পর্শ করলে উঁচু-নিচু ও খসখসে বোধ হয়, যা দেখতে বেশ আধুনিক। এ ছাড়া প্রিন্টেড বা একরঙা ছিমছামও পাবেন। বিভিন্ন ধরনের প্রিন্ট করে ওয়ালপেপারে নকশা করা হয়। এর মধ্যে সারফেইজ, গ্রাভিওর, সিল্কস্ক্রিন, রোটানি ও ডিজিটাল প্রিন্ট জনপ্রিয়। ওয়ালপেপার বড় রোলের মতো করে পেঁচিয়ে রাখা হয়, যাতে দেয়ালের ওপর থেকে সহজেই লম্বাভাবে ঝুলিয়ে দেওয়া যায়। দেয়ালের মাপ অনুযায়ী গজ হিসেবে ওয়ালপেপার বিক্রি হয়। তাই ওয়ালপেপার কিনতে যাওয়ার আগে দেয়ালে মাপ জেনে যাওয়া ভালো। প্রায় সব হার্ডওয়্যারের ও বাড়ির ফিটিংসের দোকানে পাওয়া যায় ওয়ালপেপার। এ ছাড়া বৈচিত্র্যময় কালেকশন চাইলে ঢাকার হাতিরপুল, এলিফ্যান্ট রোড, গ্রিন রোড, গুলশান ও মহাখালী উড়াল সেতুর নিচে রয়েছে ওয়ালপেপারের বেশ কিছু দোকান।

মন্তব্য