kalerkantho

শুক্রবার । ১৯ জুলাই ২০১৯। ৪ শ্রাবণ ১৪২৬। ১৫ জিলকদ ১৪৪০

আপনার শিশু

উত্সবে অপ্রস্তুত শিশু

উত্সব আর নিমন্ত্রণে অনেক অতিথির মধ্যে শিশুরা কখনো কখনো বেশ বেমানান আচরণ করে। শিশুর শারীরিক বা মানসিক সমস্যার কারণে এমন হতে পারে। অভিভাবক এতে বিব্রত হয়। কেউ কেউ আবার শিশুকে বকাঝকাও করেন। চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট এক্সপার্ট ফারহানা আহমেদ-এর পরামর্শ শুনে লিখছেন নাঈম সিনহা

২৯ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



উত্সবে অপ্রস্তুত শিশু

মডেল: নুপুর ও নিধি

সব সময় সব ধরনের অনুষ্ঠান শিশুদের উপযুক্ত হয় না। অথচ অনেক অভিভাবক না বুঝেই প্রায় সব অনুষ্ঠানেই শিশুকে নিয়ে যান। একসঙ্গে অনেক অপরিচিত মুখ, কোলাহল শিশু পছন্দ নাও করতে পারে।

তবে এর মানে এই নয় যে তাকে বাইরের জগত্ থেকে আড়াল করে রাখতে হবে। অনেকেই নির্দিষ্ট কিছু মানুষ ছাড়া বাচ্চাদের কারো সঙ্গে মিশতে দেন না। বাসা থেকে বের হতে দেন না। এতে শিশুর সামাজিক বিকাশ কম হয়। তার ভেতরে অন্তর্মুখীতা বাড়তে থাকে। বিভিন্ন সামাজিক পরিবেশে মিশতে সমস্যা হয়। বিশেষ করে সেটি যদি হয় কোনো উত্সব বা নিমন্ত্রণের অনুষ্ঠান। শিশুরা সাধারণত চেনা লোকজনের সঙ্গেই মিশতে পছন্দ করে। তাই হুট করে অচেনা মানুষের মধ্যে শিশু অপ্রস্তুত হতেই পারে। এমন হলে মা-বাবাকে সময় ও ধৈর্য নিয়ে সমাধানের পথ খুঁজতে হবে। শিশুকে মাঝেমধ্যে বাইরে বেড়াতে নিয়ে যেতে হবে। হতে পারে সেটি আশেপাশের পার্ক। এতে শিশুর বাইরের অচেনা মানুষ ও কোলাহল সম্পর্কে ধারণা সমৃদ্ধ হবে। অপরিচিত লোকদের পর্যবেক্ষণ করতে শিখবে সে। নতুন নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচিত হবে। এতে ভয় অনেকটাই কেটে যাবে।

নিমন্ত্রণে নতুন কারো সঙ্গে শিশুর পরিচয় হলেই দেখা যায় তারা জোর করে শিশুকে কোলে নিতে বা আদর করতে চায়। শিশুরা প্রায় সময় বিষয়টি ভালোভাবে নেয় না। কারণ শিশুরা হুট করে বেশি মনোযোগ পছন্দ করে না। ধীরে ধীরে মিশতে পছন্দ করে। অভিভাবককে সেটি সতর্কতার সঙ্গে সামলাতে হবে। এ জন্য শিশু ও আত্মীয়দের আগে থেকেই কাউন্সেলিং করে রাখা ভালো। কিংবা অনুষ্ঠানে হাসিমুখে বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে হবে। নতুন জায়গায় মা-বাবা ছাড়া অচেনা কারো মনোযোগ শিশু ভালোভাবে নেবে না সেটাই স্বাভাবিক। কখনো আবার অনুষ্ঠানে অভিভাবকরা নিজেদের বন্ধুদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এতে শিশু কিছুটা নিরাপত্তাহীন বোধ করে। সমবয়সী আরো শিশু থাকলেও অপরিচিত হওয়ায় অনেক শিশুই তাদের সঙ্গে স্বচ্ছন্দ্যে মিশতে বা খেলতে পারে না। শিশুর অপ্রস্তুত হওয়ার এটিও বেশ বড় কারণ। এসব ক্ষেত্রে শিশুকে যথেষ্ট মনোযোগ দিতে হবে। অনুষ্ঠানের পুরো সময় অভিভাবককে শিশুর সঙ্গে থাকতে হবে। শব্দ ও কোলাহল কম—এমন জায়গায় শিশুকে সরিয়ে নেওয়া ভালো হবে। তাকে আশ্বস্ত করতে হবে তার এখানে কোনো ভয় নেই। তার সমবয়সীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে অভিভাবককে পাশে থেকে তাদের সঙ্গে মিশতে সাহায্য করতে হবে, যাতে সে নিজের মতো সুন্দর সময় কাটাতে পারে। অনুষ্ঠানস্থলে শিশুদের জন্য আলাদা খেলার জায়গা থাকলে সেখানে নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। মূলত পুরো বিষয়টির সঙ্গে মানসিকভাবে মোকাবেলা করতে তাকে সাহস দিতে হবে।

অনেক সময় নিজের বাড়িতে ঘরোয়া অনুষ্ঠানেও শিশু বিব্রত হতে পারে এবং অস্বস্তিকর আচরণ করতে পারে। এখানেও কারণ হতে পারে চেনা পরিবেশ হুট করে বদলে যাওয়া। লোকের ভিড়ে গুমোট পরিবেশ সৃষ্টি হয়। আবার উচ্চ শব্দে গান বা কোলাহলেও শিশু ভয় পেতে পারে। এসব সময় শিশু ঘাবড়ে গিয়ে কাঁদতে পারে কিংবা খুব রাগ বা জেদ দেখাতে পারে। হতে পারে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতেও অনীহা প্রকাশ করে সে। এমন পরিস্থিতিতে শিশুকে কিছুক্ষণের জন্য অনুষ্ঠানস্থল থেকে মুক্তি দিন। সম্ভব হলে বাইরে কোথাও খোলা জায়গায় ঘুরিয়ে নিয়ে আসতে পারেন। এ সময় তাকে অনুষ্ঠানের মজার বিষয়গুলো ধীরে ধীরে বোঝাতে পারেন। এতে সে কিছুটা সময় পাবে নিজেকে মানিয়ে নিতে এবং ফিরে এসে নতুন পরিবেশের সঙ্গে অভ্যস্ত হতে পারবে।

নির্দিষ্ট বয়স না হলে কিছু কিছু অনুষ্ঠানে শিশুকে সঙ্গে নিয়ে না যাওয়াই ভালো। যেমন হলুদ বা রাতের কোনো পার্টি। যেখানে উচ্চ শব্দে গান বাজানো হয়। অনেক কোলাহল, হৈচৈ আর অচেনা মানুষের আনাগোনা থাকে। হয়তো সেখানে কেউ ধূমপানও করে। বড়দের এ ধরনের অনুষ্ঠানে শিশুরা বিব্রত হয়। এসব পরিস্থিতিতে শিশুকে নিরাপদে বাসায় রেখে যাওয়াই ভালো।

 

মন্তব্য