kalerkantho

শুক্রবার । ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৫ রবিউস সানি          

আপনার শিশু

দুই শিশুতে তুলনা নয়

প্রতিটি শিশুই স্বতন্ত্র এবং নিজের মতো অনন্য। নিজেকে মেলে ধরতে শিশুকে সাহায্য করা আশপাশের সবার দায়িত্ব। শিশুকে কখনোই অন্য শিশুর সঙ্গে তুলনা করে নিরাশ করা যাবে না। সানশাইন ডে কেয়ারের চাইল্ড স্পেশালিস্ট ফারহানা আহমেদের পরামর্শ শুনে লিখেছেন নাঈম সিনহা

২৫ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



দুই শিশুতে

তুলনা নয়

শিশুদের কিছু সাধারণ প্রবৃত্তিগত মিল থাকতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, প্রতিটি শিশুই আলাদা। একজন শিশুর সামনে আরেক শিশুকে মডেল বানিয়ে উপস্থাপন মোটেই ঠিক কাজ নয়। প্রথমত, অনুকরণ ঠিক না, এতে শিশুর স্বকীয়তা নষ্ট হয়। তার নিজের আত্মবিশ্বাস কমে যায়। আর মূল কথা, তার পক্ষে আরেকজনের মতো হওয়া কখনোই সম্ভব না। একটি ক্লাসে সবাই প্রথম হবে না। তাই এক শিশুর সঙ্গে আরেক শিশুর তুলনা করা যাবে না।

কখনো দেখা যায়, পরিবারের দুটি সন্তান। তাদের মধ্যে একজন সাধারণ জ্ঞানে পটু, অপরজন খেলাধুলায়। তাদের একজনকে অপরজনের ভালো গুণগুলো আয়ত্ত করার জন্য তুলনা করা চলবে না। সে কেন অপরজনের মতো শান্ত না, পরীক্ষায় ভালো করছে না, রুটিন মেনে চলে না—এসব নিয়ে তাকে তুলনা বা অভিযুক্ত করা যাবে না।

অভিভাবকের কাছ থেকে এমন আচরণ পেলে পরিবারের সঙ্গে শিশুর দূরত্ব বাড়ে। তার মধ্যে বৈরিতা জন্ম নেয়। সে নিজের অভিভাবককে (মা-বাবা) ভালোবাসতে পারবে না। যার সঙ্গে তার তুলনা করা হয়, তার প্রতিও নেতিবাচক মনোভাব সৃষ্টি হবে। শৈশবে শিশুর এমন ক্ষোভ পরবর্তীকালে প্রভাব ফেলে। এই নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে সে বড় হতে থাকে।

ক্লাসের সহপাঠী কিংবা প্রতিবেশী শিশুদের সঙ্গে তাদের প্রায় তুলনা করা হয়। এতে পড়াশোনা বা অন্য যেকোনো কাজ সে মন দিয়ে করতে পারে না। সেটি তার জন্য আতঙ্কের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। সে ভয় পেয়ে দিন দিন খারাপ করতে থাকে। দেখা যায়, শিশুদের ওপর এমন চাপের কারণে পরীক্ষার আগে অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। এই দায় পুরোপুরি অভিভাবকদের। তাঁদের বুঝতে হবে, ক্লাসে সবাই প্রথম হবে না—এটাই স্বাভাবিক। আনন্দের সঙ্গে শেখাটাই মূল। পরীক্ষার ফলাফলের অসুস্থ প্রতিযোগিতার কারণে শিশুরা কখনো কখনো অসদুপায় অবলম্বন করতে বাধ্য হয়। কারণ সে চিন্তা করে, পরীক্ষায় খারাপ করলে হয়তো তাকে বাড়িতে বকা খেতে হবে। কোচিং বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাকে আরেকজনের সঙ্গে তুলনা করে হেয় করা হবে।

 

করণীয়

প্রথমে মা-বাবাকে বুঝতে হবে, ঘরে একাধিক শিশু থাকলেও হাতের পাঁচটা আঙুলের মতো তারাও ভিন্ন। একজনের সঙ্গে আরেকজনের মিল নেই। শিশু যদি পরীক্ষায় খারাপ ফল করে কিংবা কোনো কাজে ব্যর্থ হয়, তবে তাকে সাহস দিতে হবে। শিশুর মানসিক ধারণক্ষমতা অনুযায়ী তাকে উত্সাহ দিতে হবে। সমস্যাটি নিজেদের মনে করে সমাধানে সাহায্য করতে হবে। কোথায় সমস্যা হচ্ছে কিংবা কিসের ঘাটতি রয়েছে, সেটি শিশুকে বোঝাতে হবে। অনেক সময় অভিভাবকদের নিজেদেরই ঘাটতি পূরণ করতে হয়। যেমন—তারা হয়তো শিশুকে যথেষ্ট সময় দিচ্ছেন না। মনোযোগেরও অভাব হতে পারে। প্রয়োজন হলে কাউন্সেলিং করতে হবে। তবে কোনোভাবেই শিশুর বিরুদ্ধে অভিযোগ বা তুলনা করা যাবে না।

 

মন্তব্য