kalerkantho

আপনার শিশু

মোবাইল থেকে দূরে রাখুন শিশুকে

শিশুর বিনোদনের জন্য অনেকেই তাদের হাতে তুলে দেন মোবাইল বা ট্যাব। বেশির ভাগ অভিভাবকের ধারণা, এতে শিশু ব্যস্ত থাকে, দুষ্টুমি ও বিরক্ত কম করে। প্রযুক্তির অতি ব্যবহারে শিশুর শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শিশুর সুস্থ বিনোদন নিয়ে চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট এক্সপার্ট ফারহানা আহমেদের পরামর্শ জেনে লিখেছেন নাঈম সিনহা

১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মোবাইল থেকে দূরে রাখুন শিশুকে

মডেল : আয়ান

মোবাইল গেমস ও ইন্টারনেটের মজাদার ভিডিও কনটেন্টে সহজেই আসক্ত হয় শিশুরা। এসব থেকে রক্ষা পেতে শিশুদের ঘরের বাইরে খেলাধুলার বিকল্প নেই। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য পাঁচ থেকে ১০ বছর বয়সী শিশুর দিনে অন্ততপক্ষে এক ঘণ্টা খেলাধুলা করা প্রয়োজন।

চাই মনোযোগ

শিশুর সঠিক বিকাশের পরিবেশ তৈরিতে অভিভাবকের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই মা-বাবার কাছ থেকে কোয়ালিটি টাইম বা গুণগত সময় না পাওয়ায় শিশু ইন্টারনেটে বেশি আসক্ত হয়। অভিভাবককে শিশুর বন্ধু হতে হবে। শুধু শিশুর আশপাশে থাকলে হবে না, তার সঙ্গে অ্যাকটিভ থাকতে হবে। শিশুর সামনে বড়রা প্রয়োজন ছাড়া মোবাইল, ট্যাব বা ল্যাপটপ ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। সপ্তাহে অন্তত এক দিন শিশুকে নিয়ে বেড়াতে যান। তা শিশু পার্ক, জাদুঘর, চিড়িয়াখানা কিংবা খোলা উদ্যান হতে পারে।

মুক্ত জগত্

প্রকৃতির সান্নিধ্যে শিশুর খেলাধুলা ও বিভিন্ন ফিজিক্যাল অ্যাক্টিভিটি বাড়ান। প্রতিদিন অল্প সময় হলেও শিশুকে খেলাধুলার সুযোগ করে দিন। এটা শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খুব জরুরি। বাইরে খেলাধুলার পাশাপাশি শিশুরা প্রকৃতি ও পরিবেশের সান্নিধ্য পাবে। মুক্ত পরিবেশে খেলাধুলা করলে প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন শিশুর শরীরে প্রবেশ করে। সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তুলনামূলক কম থাকে। খোলামেলা জায়গায় খেলাধুলা করলে ক্ষীণদৃষ্টিতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে যায়। এই সময়ে অজান্তেই শিশু প্রকৃতি ও ছোট ছোট জিনিস শিখবে, যা তার মানসিক বিকাশে সাহায্য করবে। কাদামাটি, গাছ, পানি, ফুল, প্রজাপতি, কীটপতঙ্গ, পাখিদের সঙ্গে পরিচয় হবে। শিশুর কল্পনাশক্তি বাড়বে। এ ছাড়া খেলার সময় অন্য শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে উঠবে। নতুন সম্পর্ক ও সামাজিকতা শিখবে সে। বিভিন্ন খেলার যেসব নিয়ম-কানুন থাকে, সেখান থেকেই শিশুর ব্যক্তিজীবনে নিয়মানুবর্তী হওয়ার চর্চা হবে।

 

ছবি আঁকা-বই পড়া

ছবি আঁকা ও বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। মোবাইলের বদলে শিশুকে আঁকিবুঁকি করার জন্য রং ও কাগজ দিন। এটি যেমন তার খেলার অনুষঙ্গ, তেমনি মানসিক বিকাশেও সহায়তা করবে। ছোটবেলা থেকেই নিয়ম করে একবেলা শিশুকে বই পড়ে শোনান। এতে ধীরে ধীরে তার বই পড়ার প্রতি আগ্রহ জন্মাবে। চাইলে রঙিন ছাপার কার্টুনের বই দিতে পারেন। যা সে না পড়ে শুধু ছবি দেখেই বুঝতে পারবে।

ইন্টারনেটের পরিমিতিবোধ

শিক্ষার প্রয়োজনে ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রয়োজন হলে সময়সীমা বেঁধে দিন। সম্ভব হলে এই সময়টুকু শিশুর পাশে থেকে তাকে ইন্টারনেটের ইতিবাচক ব্যবহারে অভ্যস্ত করুন। স্কুলগামী শিশু হলে হোমওয়ার্ক শেষ হলে তবেই ইন্টারনেট ব্যবহার করতে দিন। প্রাতিষ্ঠানিক প্রয়োজন শুরু না হওয়া পর্যন্ত শিশুকে ট্যাব, মোবাইল থেকে দূরে রাখুন। শিশুর জন্য নিরাপদ কিছু ওয়েবসাইট আছে, সেগুলো ব্যবহার করুন। এতে শিশু প্রাপ্তবয়স্ক সাইটে ঢুকতে পারবে না।

মন্তব্য