kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ । ১১ আশ্বিন ১৪২৯ ।  ২৯ সফর ১৪৪৪

শীতের ঘরে কার্পেট

শীতে ঘরের মেঝেতে কার্পেট বা শতরঞ্জি ব্যবহার করেন অনেকে। খানিকটা উষ্ণতাও মেলে তাতে। রং, ডিজাইন সব মিলিয়ে কেমন হবে কার্পেট—নাঈম সিনহাকে জানালেন ফারজানা ব্লিসের সিইও ফারজানা গাজী

১৭ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



শীতের ঘরে কার্পেট

মুঘলদের হাত ধরেই নাকি উপমহাদেশে জনপ্রিয় হয় কার্পেট। শীতে কার্পেটের থাকে বাড়তি কদর। কারণ সাধারণত আমরা বাড়ির মেঝেতে টাইলস, মোজাইক বা অক্সাইড রং ব্যবহার করি, যা বেশ ঠাণ্ডা। শীতে এই ঠাণ্ডা আরো বাড়ে।

বিজ্ঞাপন

তাই মেঝের ওপর কার্পেটই ভরসা। শুধু ঠাণ্ডা থেকে রক্ষাই নয়, মুঘলদের মতো ঘরের নকশায় জৌলুস আনতেও জুড়ি নেই কার্পেটের। ঘরের আয়তন বুঝে বেছে নিতে হবে কার্পেট। আর শীতের সময় রংটাও বেশ গুরুত্বপূর্ণ। আসবাব, ঘরের রং বা পর্দার রঙের সঙ্গে সমন্বয় করে বেছে নিন কার্পেট।

 

রং বাহার

হিম আবহাওয়ায় ঝিম ধরানো ফিকে রঙের কার্পেট ব্যবহার না করাই ভালো। এ সময় উজ্জ্বল রঙের কার্পেট ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা। সাধারণত এ সময় গাঢ় লাল, কমলা বা বাদামি রঙের কার্পেট ব্যবহার করা হয়। বাচ্চাদের ঘরে গাঢ় গোলাপি, কমলার রঙের কার্পেট বেশ মানাবে। খাবার ঘরে কার্পেট ব্যবহার করলে কিছুটা কালচে রঙের কার্পেট ব্যবহার করাই ভালো।

অনেকেই ড্রয়িং রুমে একরঙা কার্পেট ব্যবহার করছেন। সে ক্ষেত্রে ঘরে যদি স্নিগ্ধভাব আনতে চান, তাহলে বেছে নিতে পারেন সবুজ রঙের যেকোনো সেডের কার্পেট। তার সঙ্গে মিলিয়ে ঘরে রাখতে পারেন ইনডোর প্লান্ট। তৈরি আপনার স্নিগ্ধ সবুজ গালিচা।

 

যেমন ধাঁচ, তেমন সাজ

ঘরের আসবাব, পর্দার ধাঁচের সঙ্গে মিলিয়ে বেছে নিতে হবে কার্পেট। মাল্টি কালারের কার্পেট বেশ জনপ্রিয়। ড্রয়িং রুমের ক্ষেত্রে অনেকেই বেছে নেন এই কার্পেট। সে ক্ষেত্রে ঘরের আসবাবের ডিজাইনের সঙ্গে মিল রেখে বেছে নিন কার্পেট। যদি আসবাবের ডিজাইন কিছুটা ভিক্টোরিয়ান বা রাজকীয় ধাঁচের হয়, তাহলে মাল্টি কালার নকশার কার্পেট বেছে নেওয়াই ভালো। আর যদি ঘরের আসবাব আধুনিক ধাঁচের হয়, তাহলে সলিড রঙের কার্পেটই বেশি মানাবে।

এখন সলিড কালারের মাঝে হালকা ফ্লোরাল ও জিওম্যাট্রিক নকশার কার্পেট পাওয়া যায়। সে ক্ষেত্রে সোফার কুশনের সঙ্গে কার্পেট কিংবা কার্পেটের সঙ্গে মিলিয়ে কুশন বেছে নিন। দুইয়ে মিলে জমবে বেশ।

শোয়ার ঘরে বিছানার চাদর ও পর্দার রঙের সঙ্গে মিল রেখে কার্পেট ব্যবহার করতে পারলে ভালো। তবে বিছানার চাদরের সঙ্গে সঙ্গে তো আর প্রতিদিন কার্পেট বদলানো যাবে না। তবে রঙের বিষয়টা মাথায় রাখলে সঠিক লুক আনা সহজ হবে।

কিছুটা দেশি লুক আনতে মাটির ফ্লোরাল ভাস ও সতরঞ্জি ব্যবহার করা যেতে পারে। সতরঞ্জির মোটিফসংবলিত মোটা কাপড় দিয়ে রাখতে পারেন কার্পেটে। এটি ধুলাবালি আটকানোসহ ঘরের লুকেও দেশি ধাঁচ আনবে।

ঘরের আয়তন অনুযায়ী মানানসই কার্পেট বিছানো জরুরি। তা না হলে আপনার ঘর সৌন্দর্য হারাবে। তাই কার্পেট কেনার আগে ঘরের সাইজ মেপে নিন। কার্পেট পুরো ঘরে না বিছিয়ে নির্দিষ্ট অংশে বিছানো ভালো। দেখতে বেশ পরিপাটি লাগবে। বসার ঘরে দিতে পারেন চৌকোনা কার্পেট, শোয়ার ঘরে দেওয়া যেতে পারে ডিম্বাকার অথবা গোলাকার কার্পেট।

তবে বর্তমানে কার্পেট শুধু ঘরের মেঝেতেই ব্যবহৃত হচ্ছে না, রান্নাঘর কিংবা বাথরুমেও ব্যবহৃত হচ্ছে রাবারের তৈরি রংবাহারি সব কার্পেট।

 

কার্পেট যত্ন বার্তা কার্পেটের যত্নে

 

♦ সপ্তাহে এক দিন ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে কার্পেট পরিষ্কার করুন।

♦ ঘরের সব ফার্নিচার সরিয়ে মাসে একবার কার্পেটের দুই দিক থেকে ভ্যাকুয়াম ক্লিন করুন। কার্পেটের কর্নার থেকে শুরু করে মাঝের অংশ পরিষ্কার করুন। ভ্যাকুয়াম ক্লিনার না থাকলে ব্রাশ বা ঝাড়ু ব্যবহার করা যেতে পারে।

♦ কার্পেট বেশি নোংরা হলে ধুতে দিন।

♦ কার্পেটের রং জ্বলে বা ফিকে হয়ে গেলে নতুন করে রং করার ব্যবস্থাও রয়েছে। সে ক্ষেত্রে পুরনো কার্পেটকে ঝকঝকে করে ফেলতে পারেন।

♦ যাঁরা বাইরের কাজে ভরসা কম পান, তাঁদের জন্য বাজারে এখন বিভিন্ন ধরনের লিকুইড ওয়াশেবল ডিটারজেন্ট পাওয়া যায়। সেগুলো দিয়ে ঘরে বসে নিজেই মনমতো পরিষ্কার করে নিতে পারেন।

♦ কার্পেটে স্লিপ করার আশঙ্কা দূর করতে তলায় প্যাড বা লাইনিং দিয়ে নিন।

♦ কার্পেটের একাংশ ভিজে গেলে, পুরো কার্পেট শুকানো ঝামেলার ব্যাপার। কাজ কমাতে ব্যবহার করুন হেয়ার ড্রায়ার। তবে ইস্ত্রি ব্যবহার করে বিপত্তি ডেকে আনা থেকে বিরত থাকুন।

♦ বেশি দিন কার্পেটের ওপর আসবাব থাকলে কার্পেটে দাগ পড়ে ক্ষয় হয়। তাই কার্পেটের ওপর মোটা কাগজ ভাঁজ করে দিন।

♦ কার্পেটের গন্ধ দূর করতে কার্পেটের ওপর ফ্রেব্রিকস পারফিউম ব্যবহার করতে পারেন, কিংবা নিজেই সুগন্ধি তৈরি করতে পারেন। যেমন ১০ থেকে ২০ ল্যাভেন্ডার তেলের সঙ্গে ১৬ আউন্স বেকিং সোডা ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। যেন সোডা তেল শোষণ করে নেয়। কার্পেটে ব্যবহার করে তারপর পাঁচ মিনিট অপেক্ষা করে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে কার্পেট পরিষ্কার করে নিন। এটি চাইলে বোতলে সংরক্ষণ করতে পারেন।

 

বাজার হাল

নকশা, ডিজাইন, সাইজের ওপর নির্ভর করে কার্পেটের দরদাম। কার্পেট সাধারণত স্কয়ার ফুট হিসেবে বিক্রি করা হয়। কার্পেটের স্কয়ার ফুট ৫০-৪০০ টাকা পর্যন্ত।

এসব কার্পেট সাধারণত তুরস্ক, ইরান, চীন, বেলজিয়াম ও দুবাই থেকে আমদানি করা হয়।

পাবেন রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড, পল্টন, গুলিস্তান, বায়তুল মোকাররম মার্কেট, উত্তরা ও গুলশানে।