kalerkantho

শুক্রবার । ২৪ মে ২০১৯। ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৮ রমজান ১৪৪০

অন্য কোনোখানে

শতবর্ষী জমিদারবাড়ি

সুমন্ত গুপ্ত   

২৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শতবর্ষী জমিদারবাড়ি

সুনামগঞ্জের গৌরারং জমিদারবাড়ির নাম জানতে পারি ফেসবুকে। এক শুক্রবারে বেরিয়ে পড়ি  জমিদারবাড়িটি দেখতে। প্রথমে যেতে হবে চৌহাট্টায়। সেখান থেকে মাইক্রো করে সুনামগঞ্জ শহর। চৌহাট্টায় গিয়ে একজন ড্রাইভারের দেখা পেলাম। তাঁকে সঙ্গে নিয়েই সুনামগঞ্জ। সিলেট শহর থেকে লামাকাজী, গোবিন্দগঞ্জ, জাউয়া বাজার, পাগলা বাজার ধরে আমাদের গাড়ি চলছে। শান্তিগঞ্জ বাজার পেরিয়ে পৌঁছে যাই সুনামগঞ্জ শহরে। গাড়ি থেকে নেমে খাবারের দোকানে ঢুকলাম। গরম গরম মিষ্টি সিরা থেকে উঠিয়ে মাত্র পাত্রে তোলা হয়েছে। দেখে লোভ সামলাতে পারলাম না। রুটি আর গরম মিষ্টি দিয়ে সেরে নিলাম পেটপূজা। এর পর দোকানদারই আমাদের জমিদারবাড়ির পথ দেখিয়ে দিলেন—রিকশা নিয়ে চলে যান নতুন ব্রিজ। সেখান থেকে সিএনজি নিয়ে জমিদারবাড়ি। অল্প সময়ের মধ্যে পৌঁছে গেলাম জামিদারবাড়ি।

পুরনো ভবনের প্রতিটি স্থানে অসাধারণ শৈল্পিক কাজ এখনো আগত দর্শনার্থীদের চোখ জুড়িয়ে দেয়। অনেক বড় এলাকা নিয়ে অবস্থিত বাড়িটি। দেখা হলো এই এলাকার প্রবীণ একজন মানুষের সঙ্গে। তিনি জানালেন, ২০০ বছর আগে জমিদার রাজেন্দ্রকুমার চৌধুরী ও জমিদার রাকেশরঞ্জন চৌধুরীর হাতে এই জমিদারবাড়ির গোড়াপত্তন হয়। পুরো বাড়ি ৩০ একর জমির ওপর। তাঁদের সময় জমিদারি চালু হলেও মূলত জমিদার রাম গোবিন্দ চৌধুরীর আমলে বাড়ি বিস্তৃতি লাভ করে। তিনি ছিলেন এই এলাকার প্রতাপশালী জমিদার। তাঁর আমলে জমিদার বংশের ছাড়া অন্য কেউ এখান দিয়ে জুতা পায়ে হাঁটতে পারত না।

জমিদারবাড়িতে আলাদা আলাদা ছয়টি ভবন ও রংমহল, অন্দরমহল, সিংহাসন ও জলসাঘর। জমিদারবাড়ির ইতিহাস শোনানোর সঙ্গে সঙ্গে লোকটি আমাদের ঘুরিয়ে দেখাচ্ছিলেন। তাঁর কাছেই জানা যায়, প্রতাপশালী এই জমিদারবাড়ির জৌলুসে ভাটা পড়ে ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগের সময়। জমিদারি প্রথা বিলুপ্তির সঙ্গে সঙ্গে জমিদারবাড়িও হারিয়ে ফেলে তার প্রভাব-প্রতিপত্তি আর জৌলুস। মুক্তিযুদ্ধের সময় ইতিহাস বিজড়িত এই জমিদারবাড়ি পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে ক্ষতির শিকার হয়। এর আগে ১৮ শতকের প্রচণ্ড ভূমিকম্পে বাড়িটি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভূমিকম্পে ভবন ধসে তত্কালীন জমিদারের এক ভাই নিহত হন। কালক্রমে জমিদারের উত্তরসূরিরা অন্যত্র চলে গেলে বাড়িটি অরক্ষিত এবং পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। একটু এগিয়ে গেলে বাড়ির সামনে প্রবহমান নদীর স্বচ্ছ জলধারা। পেছনে সুবিশাল হাওর, তারপর দিগন্ত বিস্তৃত সবুজ আর সবুজ। শেষ দিকের একটি কক্ষে ঢুকে গা ছমছম করছিল। অন্ধকার কক্ষের মাঝে ছিদ্র দিয়ে আলো প্রবেশ করছে। ভেতরে ভাপসা গন্ধ। তার সামনে শান বাঁধানো পুকুরঘাট। ভরা বর্ষায় বাড়িটিকে মনে হয় জলের মধ্যে ভাসমান রাজপ্রাসাদ। অনুপম নির্মাণশৈলীর কারণে এই জমিদারবাড়িকে হাওর রাজ্যের রাজমহল হিসেবে আখ্যায়িত করেন স্থানীয়রা।

 

যাবেন কিভাবে

ঢাকা থেকে সরাসরি সুনামগঞ্জ বাস ভাড়া ৫৫০ টাকা। এনা, শ্যামলী, মামুন বাস যায়। ট্রেনে ঢাকা থেকে সিলেট। তারপর বাসে সুনামগঞ্জ। সুনামগঞ্জ নতুন ব্রিজ থেকে সিএনজিতে জমিদারবাড়ি। ভাড়া জনপ্রতি ২৫ টাকা।

 

মন্তব্য