kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২০ জুন ২০১৯। ৬ আষাঢ় ১৪২৬। ১৬ শাওয়াল ১৪৪০

রূপচর্চা

চুল ধোয়ার আগে ও পরে

৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



চুল

ধোয়ার

আগে

ও পরে

 

অপরিষ্কার স্কাল্পে চুল পড়া, খুশকি-ফুসকুড়ির মতো ছত্রাক সংক্রমণ হতে পারে সঠিকভাবে চুল পরিষ্কারের জন্য শ্যাম্পু করার সঠিক পদ্ধতি জানতে হবে শ্যাম্পুর আগে-পরে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করলে চুলের যেকোনো সমস্যা অনেকটাই কমবে বিস্তারিত জানাচ্ছেন শোভন মেকওভারের রূপ বিশেষজ্ঞ শোভন সাহা গ্রন্থনা করেছেন নাঈম সিনহা

 

চুল ধোয়ার আগে

চুল পরিষ্কারের জন্য সব সময় শুধু শ্যাম্পু যথেষ্ট নয়। ভালো ফল পেতে গোসলের এক ঘণ্টা আগে নারকেল বা জলপাই তেল কুসুম গরম করে চুলে বিলি কেটে মাথায় লাগান। তারপর বড় দাঁতের চিরুনি দিয়ে সব চুল ভালো করে আঁচড়ে নিন। ময়লা পরিষ্কার হওয়ার পাশাপাশি তেল চুলের গোড়ায় পুষ্টি জোগাবে। চুল হবে নরম ও ঝরঝরে। তবে প্রতিদিনই তেল দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন শ্যাম্পুর আগে হট অয়েল ম্যাসাজ করা ভালো। তেল না দিলেও প্রতিদিন গোসলের আগে মোটা দাঁতের চিরুনি দিয়ে চুল আঁচড়ে নেওয়া ভালো। এতে চুলের গোড়ায় রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি পায়। প্রতিদিন বাইরে বের হতে না হলে এক দিন পর পর শ্যাম্পু করাই ভালো। বাইরে বের হলে অবশ্য প্রতিদিনই শ্যাম্পু করতে হবে।

 

ঠিক নিয়মে শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার

এখন বাজারে মাথার ত্বক ও চুলের জন্য আলাদা শ্যাম্পু পাওয়া যায়। মাথার ত্বকের শ্যাম্পু রুক্ষ, তেলতেলে ভাব, খুশকিসহ নানা সমস্যা দূর করতে কাজ করে। তাই চুলের ধরন অনুযায়ী শ্যাম্পু নির্বাচন করতে হবে। রুক্ষ, তেলতেলে ও স্বাভাবিক চুলের জন্যও আলাদা শ্যাম্পু রয়েছে বাজারে। আবার বিশেষ কোনো সমস্যা থাকলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে শ্যাম্পু সে অনুযায়ী বাছাই করা ভালো। যেমন—চুল পড়া, খুশকি, আগা ফাটা ইত্যাদি সমস্যার জন্য আলাদা শ্যাম্পু পাবেন। শ্যাম্পুর ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, সরাসরি মাথার ত্বকে শ্যাম্পু দেওয়া নিরাপদ নয়। একটি ছোট বাটিতে অল্প পানি নিয়ে শ্যাম্পু গুলে তারপর মাথা ও চুলে লাগান। এরপর আঙুলের আগা দিয়ে চুলের গোড়ায় হালকাভাবে ম্যাসাজ করে চুল ধুয়ে ফেলুন। খেয়াল রাখুন জোর দিয়ে চুলে ঘষাঘষি ঠিক নয়। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক মিনিটের বেশি সময় নেবেন না। দীর্ঘ সময় মাথায় শ্যাম্পু রাখাও চুলের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তেল দিলে একইভাবে দ্বিতীয়বার শ্যাম্পু করুন। আগে ধারণা করা হতো, মাথার ত্বকে শ্যাম্পু লাগানো ঠিক নয়। তবে এখন মাথার ত্বকের আলাদা শ্যাম্পু থাকায় তা নিয়ে চিন্তা নেই। সেই দিক বিবেচনা করেই শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। এবার নরম তোয়ালে দিয়ে চুল পেঁচিয়ে নিন। এরপর কন্ডিশনার লাগানোর পালা। মনে রাখতে হবে, দূষণ থেকে চুল সুরক্ষায় সারা বছর কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। এমনকি তৈলাক্ত চুলেও কন্ডিশনার জরুরি। এখন চুল ছাড়া মাথার ত্বকের জন্যও আলাদা কন্ডিশনার পাওয়া যায়। চুলের কন্ডিশনার হাতের তালুতে নিয়ে দুই হাতের সাহায্যে সব চুলে লাগান। স্কাল্প থেকে দুই ইঞ্চি চুল বাদ দিয়ে চুলের বাকি অংশে কন্ডিশনার লাগান। ২ থেকে ৪ মিনিট অপেক্ষা করে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

 

সাবধানে চুল শুকান

গোসলের পর কিছুক্ষণ চুলে তোয়ালে পেঁচিয়ে রাখুন। তোয়ালে চুলের বাড়তি পানি শুষে নেবে। এবার হালকাভাবে চুলের গোড়ায় বিলি কেটে ফ্যানের ঠাণ্ডা বাতাসে চুল শুকাতে হবে। কোনোভাবেই হেয়ার ড্রায়ারের গরম বাতাসে চুল শুকানো ঠিক নয়। খুব তাড়া থাকলে ড্রায়ারের শীতল হাওয়ায় চুল শুকানো যেতে পারে। যত তাড়াই থাকুক, ভেজা চুলে বাইরে বের হবেন না। কিংবা রাতে গোসলের অভ্যাস থাকলে ভেজা চুল নিয়ে ঘুমাতে যাবেন না। ভেজা অবস্থায় চুলের গোড়া বেশ নাজুক থাকে। তাই বালিশের ঘষায় চুলের গোড়া আরো দুর্বল হয়ে চুল ঝরে পড়বে।

মন্তব্য