kalerkantho

শনিবার । ২৫ মে ২০১৯। ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৯ রমজান ১৪৪০

কাজের মানুষ

অফিসে পরামর্শ নেবেন কার কাছ থেকে?

৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অফিসে পরামর্শ নেবেন কার কাছ থেকে?

যিনি সব বিষয়ে মতামত দেন, সব বিষয়েই গভীর জ্ঞান আছে বলে মনে করেনএমন কারো পরামর্শ নেওয়ার আগে দ্বিতীয়বার ভাবুন আসলে পৃথিবীর সব কিছু একজনের পক্ষে জানা, বোঝা সম্ভব নয় আর আপনি পরামর্শ নেবেন বিশেষজ্ঞের আর যিনি বিশেষজ্ঞ তিনি একাধিক বিষয়ে হয়তো দখল রাখতেই পারেন তাই বলে সব বিষয়ে নয় এক কথায়, সবজান্তাদের এড়িয়ে আসল বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন

 

 

অফিস একা কাজ করার জায়গা নয়। দলগত কাজের জায়গা হচ্ছে অফিস। একে অন্যকে পরামর্শ দেবে, একযোগে কাজ চলবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু সবার পরামর্শ গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং আপনাকে আগেই সিন্ধান্ত নিতে হবে, কার পরামর্শ শুনবেন আর কারটা শুনবেন না। কারণ এর ওপরেই নির্ভর করবে আপনার কাজের ফলাফল। পরামর্শক নির্বাচনে আপনার জন্য রইল ১০ পরামর্শ।

 

১.

এমন কারো পরামর্শ শুনবেন না, যিনি নিজের কাজেই অদক্ষ বা সফলতা পাননি। সফলরা বলবেন, কী করলে সফল হওয়া যাবে, ভুক্তভোগীরা বলবেন, কী কী করা যাবে না। আপনার জন্য দুটিই দরকারি। আপনি শুধু নিজের সমস্যার অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নেবেন, কার পরামর্শ শুনবেন এবং কতটুকু শুনবেন। এর ফলাফলও আপনি যাচাই করে নেবেন। ভুল হলে যাতে পরবর্তী সময় শুধরে নিতে পারেন।

 

২.

যিনি সব বিষয়ে মতামত দেন, সব বিষয়েই গভীর জ্ঞান আছে বলে মনে করেন, এমন কারো পরামর্শ নেওয়ার আগে দ্বিতীয়বার ভাবুন। আসলে পৃথিবীর সব কিছু একজনের পক্ষে জানা, বোঝা সম্ভব নয়। আর আপনি পরামর্শ নেবেন বিশেষজ্ঞের। আর যিনি বিশেষজ্ঞ তিনি একাধিক বিষয়ে হয়তো দখল রাখতেই পারেন। তাই বলে সব বিষয়ে নয়। এক কথায়, সবজান্তাদের এড়িয়ে আসল বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

 

৩.

যিনি পরামর্শ দেন তিনি হয়তো নিজেই সেই পরামর্শে বিশ্বাস করেন না। কিংবা অনুসরণ করেন না। এমন কারো পরামর্শ না নেওয়াই উত্তম। যাদের কথা ও কাজে মিল নেই, পরামর্শের ক্ষেত্রে তাদের এড়িয়ে চলুন। সচরাচর তাদের আমরা ‘হিপোক্রেট’ বলে সম্বোধন করি।

৪.

আগে শত্রু ছিল, বর্তমানে খুব ভালো সম্পর্ক বা খুব ভালো বন্ধু হয়েছেন, এমন কারো পরামর্শ নেওয়ার আগে ভাবুন। কথায় আছে, ‘শত্রু যদি বা বন্ধু কখনো হয়, সাবধান থেকো সব সময়’।

 

৫.

এমন কারো পরামর্শ শুনবেন না, যিনি নিজের স্বার্থ সিদ্ধির জন্য পরামর্শ দেন। আপনি অফিসে অনেক সহকর্মীর দেখা পাবেন, বিশেষ করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, যাঁরা তাঁদের নিজেদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য অধস্তন সহকর্মীদের ব্যবহার করেন। এগুলো অফিস রাজনীতির অংশ। আপনি তাঁদের পরামর্শ শুনে নিজের অজান্তেই এই ধরনের ফাঁদে পা দিতে পারেন।

 

৬.

নেতিবাচক মানুষদের সংশয় এড়িয়ে চলুন। সব কিছুতেই যারা নেতিবাচক তারা কখনোই আপনাকে সফল হওয়ার সঠিক পরামর্শ দিতে পারবে না। তারা সব কিছু নিয়েই সিদ্ধান্তহীনতায় থাকে। কোনো কিছু করার আগে অতিরিক্ত সতর্ক থাকে। যা মনোবল অনেকটাই দুর্বল করে দেয়।

 

৭.

আপনি যখনই কাউকে পথ প্রদর্শক বা মেন্টর হিসেবে বেছে নেবেন, তার পেছনের ইতিহাস এবং বর্তমান অবস্থা জেনে নিন। ব্যক্তিটি যাতে বিতর্কিত না হন, নেতিবাচক না হন। উত্সাহী আর উদ্দীপ্ত হন, সফল ও দক্ষ হন। এই বিষয়গুলো খেয়াল রাখবেন। একজন যোগ্য পথপ্রদর্শক আপনার জীবন পাল্টে দিতে পারে।

 

৮.

এমন মানুষের পরামর্শ নেবেন, যিনি আপনার সাফল্যে আনন্দিত হন। আপনাকে এগিয়ে যেতে দেখলে গর্বিত হবেন। যিনি আপনার প্রমাণিত শুভাকাঙ্ক্ষী নয় এমন মানুষের থেকে পরামর্শ না নেওয়াই ভালো।

 

৯.

অফিসে যিনি আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী, আপনার সঙ্গে যাঁর কাজের ফলাফল নিয়ে প্রতিযোগিতা হয়, এমন কারো কাছ থেকে পরামর্শ নেওয়ার আগে বারবার ভেবে দেখতে হবে। আপনার কোনো ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা আছে কি না তা বুঝেই পরামর্শ নিন।

 

১০.

এমন কারো কাছ থেকে পরামর্শ নেবেন না, যাঁর কাছে পরামর্শ নিতে গিয়ে নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করতে হয়। তিনি যেন কোনোভাবেই আপনার দুর্বলতার সুযোগ না নিতে পারেন। তাঁদের সাহায্য নিতে গিয়ে হিতে বিপরীত হওয়ার উপক্রম বেশি।

 

মন্তব্য