kalerkantho

বুধবার । ২২ মে ২০১৯। ৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬। ১৬ রমজান ১৪৪০

শখের শাঁখা

শারদীয় দুর্গোৎসব দ্বারপ্রান্তে। এ সময় সাজসজ্জার অন্যতম অনুষঙ্গ শাঁখা-পলা। বাজার ঘুরে এসে জানাচ্ছেন নাঈম সিনহা

৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শখের শাঁখা

সারা বছরের তুলনায় দুর্গাপূজার সময় শাঁখা-পলার চাহিদা বেশি থাকে। তাই শেষ সময়ের কেনাকাটায় কোনো কমতি না রাখতে নারীরা ছোটে শাঁখার দোকানে। শখের শাঁখাটি বেছে নিতে চুলচেরা বিশ্লেষণের থাকে না কমতি। শাঁখা বেশি আঁকাবাঁকা হলে চলবে না। হাতের মাপের সঙ্গে হতে হবে মানানসই ও মজবুত। শাঁখার ডিজাইন নিয়ে চলে সমীক্ষা। শাঁখার জন্য বিখ্যাত পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজার।

শাঁখারীবাজারের মা মনসা শঙ্খ শিল্পালয়ের স্বত্বাধিকারী সদানন্দ নাগ জানালেন, ‘দুর্গাপূজার আগে শাঁখা-পলার চাহিদা বেশি থাকে। বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা প্রস্তুত থাকি। অনেকেই প্রতিমাকে শাঁখা ও সিঁদুর অঞ্জলি হিসেবে দিতে পছন্দ করেন। তাই শাঁখা কেনেন। শঙ্খের মান, নকশা ও হাতের কাজের ওপর নির্ভর করে শাঁখার দাম নির্ধারণ হয়। শাঁখার আকার ও নকশা যত সুন্দর হবে, দাম তত বেশি হবে।’

টিকাটুলী থেকে শাঁখা কিনতে এসেছেন গৃহিণী মিতু হালদার। তিনি বললেন, ‘পূজায় নতুন শাঁখা পরা আমাদের বাড়ির ঐতিহ্য। সাধারণত সারা বছর শাঁখা কেনা হয় না। এই সময়েই কিনি। শাঁখার অনেক ধরন থাকে, আবার সমস্যাও থাকে। যেমন—বেশিদিন ব্যবহার করলে লাল হয়ে যায়, পাতলা হলে ভেঙে যায়। তাই শাঁখা নিজ হাতে দেখে যাচাই করে কেনাই ভালো। স্থায়িত্বের কথা মাথায় রেখেই ডিজাইন পছন্দ করি।’

সুর প্রডাক্টসের বাসুদেব সুর জানালেন, ‘শাঁখার মূল কাঁচামাল শঙ্খের উত্স ভারত মহাসাগর। মূলত শ্রীলঙ্কা ও ভারতের চেন্নাই থেকে ধলা শঙ্খ আমদানি করা হয়। দেশীয় শাঁখারিরা সেই শঙ্খ কেটে নকশা করেন। শ্রীলঙ্কান শঙ্খ কাটা শাঁখা তুলনামূলক ভালো। এটি টেকসই ও উজ্জ্বল। পুডিং দেওয়া ইন্ডিয়ান শাঁখার দাম ও স্থায়িত্ব কম। এ ছাড়া এগুলো অল্প দিনের মধ্যেই লাল হয়ে যায়। হাতের শাঁখার মধ্যেও বিভিন্ন নামের শাঁখা রয়েছে। এর মধ্যে সাতকানা, পাঁচদানা, তিনদানা, বাচ্চাদার, সাদাবালা, আউলাকেশী উল্লেখযোগ্য। শৌখিনদের জন্য রয়েছে সোনা বাঁধাই শাঁখা। এসবের মধ্যে রয়েছে টালি, চিত্তরঞ্জন, সতীলক্ষ্মী, জালফাঁস, লতাবালা, মোটলতা, তারপেঁচ ইত্যাদি। নকশা করা শাঁখার মধ্যে ময়ূরমুখ, হাঁসমুখ, মকরমুখ শাঁখা বেশি আকর্ষণীয়।

 

দরদাম

শাঁখা : হাতের শাখা পাওয়া যাচ্ছে ২০০, ৩০০ ও ৫০০ টাকা দরে। বাঁধানো শাখা ১০০০ থেকে ১২০০ টাকায়। এ ছাড়া শাঁখারীবাজারের বিভিন্ন দোকান অর্ডার নিয়ে শাঁখা তৈরি করে। সেখানে নিজের পছন্দের ডিজাইন এবং স্বর্ণের ও তামার কাজ করাতে পারবেন। কাজের ওপর ভিত্তি করে দাম নির্ধারিত হবে।

পলা : ফাইবারের চিকন লাল পলা প্রতি জোড়া পাওয়া যাচ্ছে ২০ টাকা দরে। স্টাইলিশ ফেন্সি পলা রয়েছে, যার দাম ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা। গোল্ড প্লেটে বাঁধানো পলার ফ্রেম পাবেন ২০০ টাকায়। এগুলোকে সোনার দোকান থেকে আলাদাভাবে বাঁধিয়ে নিতে পারবেন। আছে একটু মোটা ধরনের বিভিন্ন কাটিং, পুঁতি বসানো ও সিটি গোল্ড বসানো পলা। দাম ২০০ থেকে ৫০০ টাকা।

 

কোথায় পাবেন

ঢাকার শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, ঢাকেশ্বরী মন্দির ও স্বামীবাগের লোকনাথ মন্দিরের সামনের স্টেশনারি দোকানগুলোতে শাঁখা পাওয়া যায়। তবে যাচাই-বাছাই করে কিনতে চাইলে শাঁখারীবাজার থেকেই কেনা ভালো। সেখানে এক জায়গায় বিভিন্ন নকশা ও মানের শাঁখা পাবেন। দামও থাকে হাতের নাগালেই।

মন্তব্য