kalerkantho

সোমবার । ১১ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৬ জুলাই ২০২১। ১৫ জিলহজ ১৪৪২

ভালো থাকার দাওয়াই
কম্পিউটার ভিশন সিনড্রম

ঘরোয়া উপায়ে সমাধান

কম্পিউটার মনিটরে অনেকক্ষণ কাজ করলে চোখের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ অবস্থাকে কম্পিউটার ভিশন সিনড্রম বলে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন ডাক্তার কাওসার মতিন   

৩০ জুন, ২০১৪ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ঘরোয়া উপায়ে সমাধান

লক্ষণ

চোখে ব্যথা, মাথাব্যথা, চোখ জ্বালাপোড়া, চোখে ক্লান্তি বোধ, ঝাপসা দেখা বা মাঝেমধ্যে দুটি দেখা, ঘাড়ে ও কাঁধে ব্যথা, চোখ শুষ্ক হয়ে কাঁটা কাঁটা লাগা।

কারণ

কম্পিউটার মনিটরের অক্ষরগুলো ছাপার অক্ষরের মতো নয়। ছাপার অক্ষরগুলোর মাঝে এবং পাশের ঘনত্ব একই রকম। ফলে দেখার জন্য সহজেই চোখে ফোকাস করা যায়, অন্যদিকে মনিটরের অক্ষরের মাঝখান ভালো দেখা যায় কিন্তু পার্শ্বভাগের ঘনত্ব কম হওয়ায় পরিষ্কার ফোকাসে আসে না। মনিটরের অক্ষরগুলোর এই ফোকাসের অসমতার জন্য চোখের নিকটে দেখার যে প্রক্রিয়া বা অ্যাকোডোমেশন ঠিকমতো কাজ করতে পারে না। এভাবে দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারে কাজ করলে চোখের নানা উপসর্গ দেখা দেয়।

কম্পিউটারের চশমা

কম্পিউটারে কাজ করার জন্য বিশেষ পাওয়ারের চশমা পাওয়া যায়। ৩৫ বছরের কম বয়সী ব্যক্তিদের ইউনিফোকাল বা শুধু একটি পাওয়ারের চশমা দিলেই চলে কিন্তু পঁয়ত্রিশোর্ধ্বদের জন্য কোনো কোনো সময় এই চশমা দিয়ে কাছের কপি পড়তে অসুবিধা হতে পারে। তাঁদের জন্য মাল্টিফোকাল চশমা দিলে কপি পড়া এবং মনিটরে কাজ করার সুবিধা হবে।

প্রতিকার

* কম্পিউটারে কাজ করার আগে চোখ পরীক্ষা করে, চোখে পাওয়ারের সমস্যা থাকলে অবশ্যই চশমা ব্যবহার করতে হবে।

* ঘরের ভেতর বা বাইরে থেকে আসা অতিরিক্ত আলো চোখ ব্যথার কারণ হতে পারে। বাইরে থেকে আলো এসে যাতে চোখে না লাগে বা কম্পিউটার পর্দায় না পড়ে সে জন্য পর্দা ব্যবহার করা যেতে পারে।

* কম্পিউটার মনিটরে অ্যান্টি গ্লেয়ার স্ক্রিন ব্যবহার এবং চশমায় অ্যান্টি রিফ্লেকটিভ প্লাস্টিকের কাচ ব্যবহার করলে গ্লেয়ার (স্ক্রিনের চকচকে ভাব যা চোখে লাগে) কমানো যায়।

* ঘরের আলোর সঙ্গে সামঞ্জস্যতা বজায় রেখে কম্পিউটার মনিটরের আলো কমানো বা বাড়ানো, এতে মনিটরে লেখাগুলো দেখতে আরামদায়ক হয়।

* কম্পিউটারে কাজ করার সময় চোখের পলক পড়া কমে যায়। ফলে চোখের পানি কমে শুষ্ক হতে পারে। তাই কম্পিউটারে কাজের সময় ঘন ঘন চোখের পলক ফেলুন। এর পরও সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

* ৩০ মিনিট কম্পিউটারে কাজ করার পর অন্যদিকে দূরে তাকান। সম্ভব হলে ঘরের বাইরে কোথাও দেখুন এবং আবার কাছে অন্য কিছু দেখুন। এতে চোখের বিভিন্ন ফোকাসিং মাংসপেশির ব্যায়াম হবে। এভাবে কয়েকবার করে আবার কাজ করুন।

* মাঝেমধ্যে কয়েক মিনিটের জন্য বিরতি দিন। এক ঘণ্টা কম্পিউটারে কাজ করে ৫-১০ মিনিটের বিরতি দিয়ে অন্য কোনো দিকে দেখুন বা অন্য কোনো কাজে সময় কাটিয়ে আবার কম্পিউটারের কাজ শুরু করুন।

* কম্পিউটারে কাজ করার চেয়ারটি এমন উঁচুতে থাকা উচিত, যাতে কাজের সময় চোখের উচ্চতা কম্পিউটার মনিটরের চেয়ে সামান্য উঁচুতে থাকে। মনিটর বাঁকা থাকলে অক্ষরগুলোর পরিবর্তন হতে পারে, যা চোখের ব্যথার কারণ হতে পারে। অনেক সময় টাইপ করার কপি এখানে সেখানে রেখে বারবার মনিটর থেকে অনেকখানি দূরে কপি দেখতে হয়। এতেও মাথাব্যথা ও চোখে ব্যথা হতে পারে। মনিটরের পাশেই পরিমিত আলো ফেলে কপিস্ট্যান্ডে লেখাগুলো রাখা যেতে পারে। এতে চোখে চাপ কম পড়বে এবং কাজ আরামদায়ক হবে।