kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ শ্রাবণ ১৪২৮। ২৭ জুলাই ২০২১। ১৬ জিলহজ ১৪৪২

বাগান-বাড়ি

বারান্দায় নিজের ইচ্ছামতো বাগান করা গেলেও ঘরে বাগানের গাছ একটু ভেবেচিন্তে নির্বাচন করা উচিত।

বড় বারান্দা না থাকলেও চিন্তার কিছু নেই। ঘরেই বানিয়ে ফেলুন শখের বাগান। ব্যবহার করুন ইনডোর প্লান্ট। শোভা বাড়ানোর সঙ্গে এটি ঘরের আবহাওয়াটাও ঠাণ্ডা রাখে। বিস্তারিত জানাচ্ছেন এস্থেটিক ইন্টেরিয়র ডিজাইনার সাবিহা কুমু। লিখেছেন মারজান ইমু   

৩০ জুন, ২০১৪ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বাগান-বাড়ি

ঘরের সদর দরজার সামনে মরা গাছের ডালে লাগান লতানো ও ঝোপজাতীয় গাছ

গাছের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন আলো। তাই ঘরের যেখানে পর্যাপ্ত আলো আসে সেখানে বাগান করুন। সাধারণত চিরসবুজ গাছ, যাতে ফুল হয় না, অর্ধেক দিন আলো পেলে ভালো থাকে। আলোর পাশাপাশি গাছের জন্ম ও বৃদ্ধি নির্ভর করে তাপ ও বাতাসের আর্দ্রতার ওপর। ঘরে বাগানের জন্য ২০ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড তাপমাত্রা আদর্শ। আর ৩০ শতাংশর বেশি আর্দ্রতা প্রয়োজন।

বারান্দা, ফয়ার, লিভিং রুম, ফ্যামিলি লিভিং এমনকি খাবার ঘরেও বাগান করতে পারেন। তবে যে ঘরেই বাগান করুন খেয়াল রাখুন যেন সেখানে প্রাকৃতিক আলো-বাতাস চলাচল করে। প্রাকৃতিক আলো-বাতাস একেবারেই না পেলে গাছগুলোকে দু-তিন দিন পর পর বারান্দা বা ছাদে দিনের আলোতে রাখুন। মনে রাখুন, এয়ারকন্ডিশন দেওয়া ঘরে বাগান করা যাবে না। এমনকি ফ্যানের বাতাস যেন সরাসরি গাছে না লাগে সেদিকেও লক্ষ রাখুন।

সব ধরনের গাছ ইনডোর প্লান্টস হিসেবে ব্যবহার করা যায় না। বৈরী আবহাওয়ায় টিকে থাকতে পারে এমন ধরনের গাছ ঘরে বাগানের জন্য বাছাই করতে হবে। যেমন- ফার্নজাতীয় এবং ডেসিনা গ্রুপের উদ্ভিদ। ডেসিনা গ্রুপের মধ্যে আছে গোল্ডেন ডেসিনা, বিরাগ ডেসিনা, বাঁশপাতা, অগ্নিসর, কলকি ইত্যাদি। এ ছাড়া আম্রেলা প্লান্ট, আফ্রিকান ভায়োলেট, রাবার প্লান্ট, বাগানবিলাস, অ্যাসপারাগাস, অ্যালোভেরা, ক্রিস্টাল ফার্ন, গাবপাতা, মেরেন্তা উল্লেখযোগ্য। আর ঝুলন্ত ইনডোর প্লান্টসের মধ্যে আছে বিভিন্ন ধরনের অর্কিড। যেমন- ডেন্ডোরিয়ম, মোক্কারা, অনসিডিয়াম, ক্যাটালগ। এ ছাড়া গ্রিন লিফ, ক্যাকটাস, আইল্যান্ড স্টার, মানিপ্লান্ট অন্দরসজ্জার জন্য ভালো। পাতাবাহার বা ক্যাকটাস গাছের মধ্যে বিভিন্ন প্রজাতি আছে। এসব গাছ ঘরের অন্ধকার পরিবেশেও দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে।

ঘরে বাগান করার দুটি পদ্ধতি আছে। টবে লাগানো গাছ দিয়ে বাগান করা। আর অন্য পদ্ধতিকে মেঝেতেই গাছ লাগানো হয়। এতে পুরোপুরি বাগানের আবহ থাকে। এ জন্য প্রথমে মেঝের টাইলস বা মোজাইক তুলে মোটা পলিথিন বিছিয়ে দিন। এই পলির ওপরে বালু ও মাটির স্তর দিয়ে তাতে গাছ লাগান। বাগানের এলাকা আলাদা করার জন্য চারপাশে একটা ব্যারিকেড দিন।

ঘরে বাগানের জন্য আলাদা করে জায়গা না থাকলেও ঘরে সবুজের ছোঁয়া রাখতে পারেন।

বসার ঘরের সোফার পাশে, ঘরের কোণে আর ডাইনিংয়ের পাশে গাছ রেখে ঘর সাজাতে পারেন। বসার বা খাবার ঘরে বনসাই এনে দেবে ভিন্নতা। বেডরুমেও গাছ রাখা যায়। লম্বা পাতা যুক্ত পাতাবাহার গাছ। এ গাছগুলো ছোট গ্লাসে পানিসহ রাখতে পারেন। এসব গাছ পানিতে অনেক দিন থাকে। ডাইনিং স্পেসের পাশের বেসিনের দেয়ালে ঝুলন্ত গাছ ভালো মানাবে। বাথরুমের জানালায় রাখতে পারেন মানি প্লান্টস। আর এক্সেসরিজ রাখার র‌্যাক ও বেসিনের পাশে খুব ছোট টবে ক্যাকটাস।

যত্ন-আত্তি

* গাছে প্রতিদিন পানি দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

* গাছের শুকনো ডাল-পাতা ছেঁটে ফেলুন।

* টবের মাটি মাঝে মাঝে ওলট-পালট করে দিন। এতে উর্বরতা বৃদ্ধি পাবে।

* সপ্তাহে একবার পোকার ওষুধ দিন।

* অনেক সময় গাছের পাতায় সাদা ছোপ ছোপ দেখা যায়। এটা ফাঙ্গাল ইনফেকশন। অল্প সাবানের গুঁড়া পানিতে মিশিয়ে নরম কাপড়ে মুছুন। পরিষ্কার হয়ে যাবে।

* সপ্তাহে এক দিন গাছ রোদে দিন।

* ব্যবহার করা চা-পাতা ও ডিমের খোসা গুঁড়া করে ভালো করে মিশিয়ে এক-দুই সপ্তাহ রোদে রাখুন। গাছের সার হিসেবে খুব ভালো কাজ করবে।

* ঘরে সারা দিন ফ্যান চললে গাছগুলো রাতের বেলা বারান্দায় রাখতে পারেন সকাল পর্যন্ত। এতে প্রাকৃতিক বাতাসে গাছ ভালো থাকবে।