kalerkantho

শনিবার । ২৭ আষাঢ় ১৪২৭। ১১ জুলাই ২০২০। ১৯ জিলকদ ১৪৪১

পঞ্চম শ্রেণি
বিজ্ঞান, দ্বিতীয় অধ্যায়

পরিবেশদূষণ

পরিবেশদূষণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। এর ফলে সৃষ্ট দুর্যোগও ভয়ংকরভাবে বেড়েছে। পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের দ্বিতীয় অধ্যায় থেকে গল্পে গল্পে পরিবেশদূষণ সম্পর্কে জানাচ্ছেন নূসরাত জাহান নিশা

২৮ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



পরিবেশদূষণ

নুহা আর সুহা গ্রাম থেকে শহরে মামার বাসায় বেড়াতে এসেছে। প্রথম দিন অনেক জায়গা ঘুরে বেড়িয়েছে ওরা, মজাও পেয়েছে; কিন্তু দ্বিতীয় দিন সুহার শরীরটা একটু খারাপ হলো। খুব কাশি শুরু হলো। ওদের মামা তার পরিচিত ডাক্তারকে ফোন করে সুহার কথা বলল। সব শুনে ডাক্তার জানাল, সুহার ডাস্ট অ্যালার্জি হয়েছে।

নুহা : ডাস্ট অ্যালার্জি কী মামা?

মামা : ডাস্ট মানে ধুলাবালি। এই ধুলাবালি যখন নাক দিয়ে ফুসফুসে প্রবেশ করে, তখন এই অ্যালার্জি হতে পারে।

সুহা : কিন্তু মামা, সুহা তো গ্রামেও অনেক ঘুরে বেড়ায়; এমন তো ওর খুব কম হয়।

মামা : গ্রামে পরিবেশদূষণ কম। কারণ যানবাহন কম, ময়লা-আর্বজনাও তুলনামূলকভাবে কম, তাই।

নুহা : মামা পরিবেশদূষণ কী?

মামা : তার আগে বলো, গতকাল ঢাকায় ঘুরতে গিয়ে কী কী খারাপ লেগেছে?

নুহা : ময়লার স্তূপ দেখেছি, এখানে-সেখানে অনেক।

সুহা : হ্যাঁ মামা, শহরের রাস্তা খুব নোংরা। তা ছাড়া গাড়ির অনেক শব্দ।

মামা : একেবারে ঠিক বলেছ। পরিবেশদূষণের কারণ এগুলোই। তা ছাড়া ধুলাবালি এবং কলকারখানার ধোঁয়াও পরিবেশদূষণের জন্য দায়ী। এসব জিনিসের পরিমাণ যখন বেড়ে যায়, যা জীবজন্তু আর পরিবেশের ক্ষতি করে তখন পরিবেশদূষণ হয়।

সুহা : এগুলো থেকে পরিবেশদূষণ কিভাবে হয় মামা?

মামা : পরিবেশদূষণ চার ভাবে হতে পারে। বায়ুদূষণ, পানিদূষণ, মাটিদূষণ আর শব্দদূষণ।

নুহা : মামা, আমাদের একটা একটা করে সব দূষণ সম্পর্কে বলো।

মামা : আচ্ছা তাহলে বায়ুদূষণ দিয়ে শুরু করি। বায়ুদূষণ প্রাকৃতিকভাবেও হয় খুব অল্প পরিমাণে। যেমন—আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুত্পাত, ধূলিঝড়, দাবানল ইত্যাদি। এগুলো আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না; কিন্তু মানুষরাও বায়ুদূষণের জন্য দায়ী।

সুহা : কেন মামা?

মামা : জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন—তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা পেড়ানোর ফলে শিল্পকারখানা থেকে তৈরি হয় কালো ধোঁয়া; এখানে-সেখানে ময়লা ফেলার কারণে বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়ায়, গাড়ির কালো ধোঁয়া তো আছেই। এগুলো বায়ুতে মিশে বায়ুদূষণ করে। ফলে মানুষের ফুসফুসে ক্যান্সার, পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি, এসিড বৃষ্টি—এসব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষ চাইলে এর নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

নুহা : এবার বলো পানিদূষণ কী?

মামা : ময়লা-আবর্জনা, কলকারখানার কেমিক্যালযুক্ত পানি নদী বা পুকুরে ফেললে, ভালো পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকলে, খোলা জায়গায় মল ত্যাগ করলে, ক্ষেতে বেশি বেশি সার ব্যবহার করলে বৃষ্টির মাধ্যমে তা পানিতে মিশে যায় আবার মাটিতেও মিশে যায়। তাই মাটি ও পানি দুটিই দূষিত করে। পানিদূষণের ফলে জলজ প্রাণী মারা যায়। আর এ পানি পান করার ফলে ডায়রিয়া, কলেরা, চর্মরোগ দেখা দেয়। মাটির উর্বর শক্তি হারায়, যা ফসল ফলাতে সাহায্য করে। পশু-পাখি, পোকা-মাকড় মারা যায়।

সুহা : এ জন্য আমাদের পানি ছেঁকে নিয়ে ফুটিয়ে পান করতে হবে। যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলা যাবে না।

মামা : ঠিক বলেছ। এবার বলছি শব্দদূষণের কথা। বিনা প্রয়োজনে গাড়ির হর্ন বাজানো, মাইক বাজানো, জোরে গান শোনা—এগুলো শব্দদূষণ করে, যা আমাদের শ্রবণশক্তির ক্ষতি করে। শুধু মানুষ নয়, পশু-পাখিরও ক্ষতি করে।

নুহা : মামা আমরা এই দূষণগুলো কিভাবে কমাতে পারি?

মামা : আমরা চেষ্টা করলে কমাতে পারি। যেমন—ধরো, ১. গাড়ি ব্যবহার না করে হাঁটা বা সাইকেল ব্যবহার করা।

২. ময়লা-আবর্জনা মাটি বা পানিতে না ফেলা।

৩. প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার কমিয়ে জিনিসের রিসাইকেল করে ব্যবহার করা।

৪. গাছ কাটা কমিয়ে গাছ লাগানো। আর সবচেয়ে বড় উপায় হলো জনসচেনতা বৃদ্ধি করা।

সুহা : এবার গ্রামে ফিরে সবাইকে বলব আমরা কিভাবে আমাদের পৃথিবীটাকে মানুষ আর জীবজন্তুর বসবাসের অযোগ্য করে তুলছি।

নুহা : হ্যাঁ আমাদের এখন থেকেই সচেতন হতে হবে।

 

পরিবেশদূষণ কাকে বলে, কেন হয়—গল্পে গল্পে আমরা জেনে নিলাম। এবার কিছু প্রশ্নের উত্তর জেনে নেওয়া যাক।

১। ক্ষতিকর ও বিষাক্ত পদার্থ পরিবেশে মিশলে কী হয়?

উত্তর : পরিবেশদূষণ হয়।

২। পরিবেশদূষণের প্রধান কারণ কী?

উত্তর : শিল্পায়ন।

৩। জীবাশ্ম জ্বালানি কী?

উত্তর : তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ইত্যাদি।

৪। পরিবেশদূষণের আরো একটি বড় কারণ কী?

উত্তর : জনসংখ্যা বৃদ্ধি।

৫। পরিবেশদূষণ রোধের কিছু উপায় বলো।

উত্তর : গাড়ির পরিবর্তে সাইকেল ব্যবহার, বিদ্যুত্ ও জীবাশ্ম জ্বালানি কমানো, বর্জ্য ও ময়লা সঠিক স্থানে ফেলা হত্যাদি।

৬। কিভাবে পরিবেশ দূষিত হয়?

উত্তর : বায়ু, মাটি, পানি, শব্দদূষণের মাধ্যমে।

৭। মাটিদূষণের একটি উদাহরণ দাও।

উত্তর : কীটনাশকের ব্যবহার।

৮। শব্দদূষণের ফলে কী হয়?

উত্তর : শ্রবণশক্তি হ্রাস পায়।

৯। এসিড বৃষ্টি, ফুসফুসে ক্যান্সার, পৃথিবীর তাপমাত্রা বৃদ্ধি কোন দূষণের ফল?

উত্তর : বায়ুদূষণ।

১০। পানিদূষণের ফলে কোন কোন রোগ হয়?

উত্তর : কলেরা, ডায়রিয়া ও বিভিন্ন চর্মরোগ।     

গ্রন্থনা : নূসরাত জাহান নিশা

মন্তব্য