kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

পঞ্চম শ্রেণি : বিজ্ঞান

আমি পানি বলছি

পঞ্চম শ্রেণির বিজ্ঞান বইয়ের তৃতীয় অধ্যায়ে পানি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তোমাদের জন্য পানির কথা শুনেছেন মো. জামাল হোসেন

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আমি পানি বলছি

আমার নাম পানি। তোমরা কি চেনো আমাকে? আমি কিন্তু তোমাদের চারপাশেই থাকি। আমাকে তোমরা বৃষ্টি, নদী এবং সমুদ্রে পাবে। আবার তোমরাও আমাকে ধরে রাখার জন্য দিঘি, পুকুর, কূপ খনন করো, নলকূপও লাগাও।

আমাকে ছাড়া জীবজগৎ কিন্তু বাঁচতে পারে না। তোমরাই তো আমাকে তোমাদের প্রয়োজনে বিভিন্নভাবে ব্যবহার করে থাকো। তোমরা কি জানো, উদ্ভিদের বেঁচে থাকার জন্য আমাকে তাদের বেশি প্রয়োজন। উদ্ভিদের দেহের প্রায় ৯০ শতাংশে আমাকে পাবে। আবার উদ্ভিদ খাদ্য তৈরি করার সময় আমাকে ব্যবহার করে। উদ্ভিদ যখন তার শিকড় দিয়ে মাটি থেকে পুষ্টি উপাদান সংগ্রহ করে, তখন ওইসব পুষ্টি উপাদান আমাকে বহন করে উদ্ভিদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় পৌঁছে দিতে হয়। গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড গরমে উদ্ভিদের দেহকে আমি শীতল রাখি।

এবার তোমাদের কথা বলি। তোমাদের মানে মানবদেহের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই কিন্তু আমি। আমাকে ছাড়া তোমরা প্রাণিজগৎ বেঁচে থাকতে পারবে না। তোমরা যখন খাবার খাও তখন তোমাদের পেটের খাবার পরিপাকে আমি সাহায্য করি। পুষ্টি উপাদান তোমাদের দেহের প্রতিটি অঙ্গে পৌঁছে দিই। তোমাদের দেহের তাপমাত্রা স্বাভাবিক রাখি।

তোমরা কি জানো, আমি যখন বরফ হয়ে থাকি তখন যদি আমাকে তাপ দাও আমি আবার তরল হয়ে যাব, আবার বেশি তাপ দিলে বাষ্প হয়ে যাব।

রাতে ঘাসে ও গাছপালার ওপর যখন আমি বিন্দু বিন্দু হয়ে জমে থাকি তখন আমাকে সবাই শিশির বলে ডাকে। এই নামটি আমার খুব পছন্দ। আমি যখন বাতাসের সঙ্গে মিশে থাকি তখন ওই বাতাসকে যদি বেশি ঠাণ্ডা করো তবে দেখবে আমি আবার তরল হয়ে গেছি। এই প্রক্রিয়াকে কী বলে জানো? একে বলে ঘনীভবন। আবার এর উল্টোটা যখন করো—মানে তরলকে তাপ দিয়ে বাষ্প করো, তখন এই প্রক্রিয়াকে বলে বাষ্পীভবন।

আমার সব সময় এক রকম থাকতে ভালো লাগে না। তাই যখন মন চায় তরল হয়ে যাই, যখন মন চায় বরফ—অর্থাৎ কঠিন হয়ে যাই, আবার কখনো বাষ্প হয়ে মনের আনন্দে ভেসে বেড়াই

আমি কিন্তু এক জায়গায় সব সময় স্থির থাকতে পারি না। গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড তাপে আমি সব জায়গা থেকে বাষ্প হয়ে আকাশে উড়ে যাই। আকাশে জমা হয়ে হয়ে মেঘ হয়ে যাই। তারপর বৃষ্টি হয়ে আকাশ থেকে নিচে নেমে আসি। এই প্রক্রিয়াকে তোমরা পানিচক্র বলে থাকো।

তোমাদের মতো আমারও কিছু দুঃখ-কষ্ট রয়েছে। এই দুঃখ-কষ্ট মূলত তোমরাই দিয়ে থাকো। তোমরা বিভিন্নভাবে আমাকে দূষণ করে থাকো। যেমন—তোমাদের কৃষিকাজে তোমরা যে কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার করো, গৃহস্থালির বর্জ্য, কলকারখানার রাসায়নিক দ্রব্য ইত্যাদির মাধ্যমে আমি দূষিত হই। এ ছাড়া তোমরা নদী ও পুকুরে তোমাদের গরু-ছাগলকে গোসল করিয়ে এবং কাপড় ধুয়ে আমাকে দূষিত করো।

আমাকে দূষিত করে তোমরা নিজেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছ। জলজ প্রাণী মারা যাচ্ছে। তোমাদের বিভিন্ন রোগ হচ্ছে। তোমরা যদি এই দূষণ বন্ধ না করো, তবে ক্ষতির পরিমাণ দিন দিন বাড়তে থাকবে।

তোমরা কি বলতে পারবে কিভাবে এই দূষণ প্রতিরোধ করা যায়? আমি বলছি শোনো—

১. তোমাদের কৃষিজমিতে কীটনাশক এবং রাসায়নিক সারের ব্যবহার কমাতে হবে। ২. রান্নাঘরের ময়লা, টয়লেটের বর্জ্য যেখানে-সেখানে ফেলা যাবে না। ৩. পুকুর, নদী ও সমুদ্রে ময়লা না ফেলা। ৪. পানিতে ভাসমান ময়লা পরিষ্কার করা। এইভাবে তোমরা আমাকে দূষণমুক্ত রাখতে পারো। জেনে রেখো আমাকে নিরাপদ রাখলেই তোমরাও নিরাপদ থাকবে।

মন্তব্য