kalerkantho

রবিবার। ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৭ জুন ২০২০। ১৪ শাওয়াল ১৪৪১

একাদশ-দ্বাদশ বাংলা প্রথম পত্র

নির্মল সরকার
সহকারী অধ্যাপক, বিভাগীয় প্রধান, বাংলা বিভাগ, সেন্ট যোসেফ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। লেখক, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড, ঢাকা। প্রধান পরীক্ষক, জাতীয় শিক্ষা বোর্ড

১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



একাদশ-দ্বাদশ বাংলা প্রথম পত্র

অপরিচিতা : রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

 

১। বাবার স্বপ্ন রাইমাকে অনেক বড় ঘর দেখে বিয়ে দেবেন। যোগ্য পাত্র পেয়েও যান। বরপক্ষ ও কনেপক্ষের প্রথম পর্ব সম্পন্ন হয় নির্বিঘ্নে। উভয় পক্ষেরই এ বিয়েতে পুরোপুরি মত। এবার পাকাপাকি দিনক্ষণ ঠিক করতে কথা বলার পালা। উভয় পক্ষের কর্তাব্যক্তিরা আলোচনায় বসেন। বরের দিক থেকে কোনো আপত্তি নেই। তবে একটি ফর্দ ধরিয়ে দেওয়া হলো রাইমার বাবার হাতে। বাবার কাছে এই বিশাল ফর্দ সামান্যই। তিনি সম্মতি প্রকাশ করলে দিন ধার্য হয়। রাইমা এর কিছুই জানে না। বিয়ের আসরে বরের পাশের আসনে বসে সে জিনিসপত্রের বাহার দেখে অবাক হয়! উঠে দাঁড়িয়ে বাবাকে জানায়, ‘তুমি কি তোমার মেয়ে-জামাইকে কিনে নিচ্ছ? কেনা গোলামকে তোমার মেয়ে বিয়ে করবে না।’ এই বলে হনহন করে অন্দরমহলে গিয়ে নিজের ঘর বন্ধ করে।

ক। মামা কী হলে হাবড়ার পুল পার হওয়াটাকে তাঁর সংহিতায় একেবারে নিষেধ করে দিতেন?

খ) প্রজাপতির সঙ্গে পঞ্চশরের বিরোধ না থাকার কারণ কী? বুঝিয়ে লেখো।

গ) ‘অপরিচিতা’ গল্পের কল্যাণীর সঙ্গে রাইমার কোন দিক থেকে মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ) বিয়ে মেনে নিলে কল্যাণী-রাইমাকে যার কাছে মাথা নোয়াতে হতো তার চিরতরে বিনাশ হওয়ার মধ্য দিয়েই সমাজে নারীর মূল্যায়ন সম্ভব। মন্তব্যটির যথার্থ নিরূপণ করো।

 

আহ্বান : বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

২। অকালবার্ধক্যে নত কদম আলী

তার ক্লান্ত চোখের আঁধার—

আমি চিনি, আমি তার চিরচেনা স্বজন একজন। আমি

জমিলার মা’র

শূন্য খাঁ খাঁ রান্নাঘর শুকনো থালা সব চিনি

সে আমাকে চেনে।

ক) গল্পকথক দ্বিতীয়বার কী মাসে গ্রামে আসেন?

খ) গল্পকথকের কাছে বুড়ির খালি হাতে না আসার পেছনে কারণ কী?

গ) উদ্দীপকে বর্ণিত জমিলার মায়ের সঙ্গে ‘আহ্বান’ গল্পের কোন চরিত্রের সাদৃশ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।           

ঘ) সংসারে বহু অমূল্য সম্পর্ক রয়েছে, যা বস্তুজাগতিক দিক থেকে বিচার করা যায় না। উদ্দীপক ও ‘আহ্বান’ গল্পের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।

 

আমার পথ : কাজী নজরুল ইসলাম

৩। সামিউল সাহেব সকাল-সন্ধে কঠোর পরিশ্রম করেন। আপন কাজের মধ্যে নিমগ্ন থেকেই তাঁর তৃপ্তি। অপরের দোষ-গুণ নিয়ে সমালোচনা করা তাঁর স্বভাববিরুদ্ধ। কারণে-অকারণে কখনো মিথ্যে বলেন না। সমাজের যা কিছু মন্দ-অন্যায়-অধর্ম, তার বিরুদ্ধে স্পষ্ট ভাষণে তিনি সোচ্চার। কুচক্রীমহল তাঁকে ফাঁদে ফেলতে চেষ্টা করেছে; কিন্তু বিন্দুমাত্রও টলাতে পারেনি।

ক) ভুলের মধ্য দিয়ে গিয়ে কী পাওয়া যায়?

খ) কারো বাণীকে বেদবাক্য বলে মেনে নেওয়া উচিত নয় কেন?

গ) উদ্দীপক ও ‘আমার পথ’ প্রবন্ধ কোন দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

ঘ) উক্ত দিকের বিপরীত মেরুতে যা রয়েছে, তা মানবচরিত্রকে কলুষিত করে। উদ্দীপক ও ‘আমার পথ’ প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটির যথার্থ বিচার করো।

 

বায়ান্নর দিনগুলি : শেখ মুজিবুর রহমান

৪।

ক) মহিউদ্দিনের কী শারীরিক সমস্যা ছিল?

খ) মানুষের যখন পতন আসে, তখন পদে পদে ভুল হতে থাকে—কেন?

গ) উদ্দীপকে চিত্রায়িত মানুষটির সঙ্গে কোন দিক থেকে ‘বায়ান্নর দিনগুলি’ রচনার রচয়িতার সাযুজ্য লক্ষ করা যায়? ব্যাখ্যা করো।

ঘ) উক্ত দিক উদ্দীপকের মানুষটি ও ‘বায়ান্নর দিনগুলি’ রচনার রচয়িতাকে মহান করে তুলেছে। মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।

 

রেইনকোট : আক্তারুজ্জামান ইলিয়াস

৫। তোমাকে পাওয়ার জন্যে, হে স্বাধীনতা

তোমাকে পাওয়ার জন্যে

আর কতবার ভাসতে হবে রক্তগঙ্গায়?

আর কতবার দেখতে হবে খাণ্ডবদাহন?

তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা,

সাকিনা বিবির কপাল ভাঙল,

সিঁথির সিঁদুর মুছে গেল হরিদাসীর।

তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা,

শহরের বুকে জলপাই রঙের ট্যাঙ্ক এলো

দানবের মতো চিৎকার করতে করতে

তুমি আসবে বলে, হে স্বাধীনতা,

ছাত্রাবাস, বস্তি উজাড় হলো। রিকয়েললেস রাইফেল

আর মেশিনগান খই ফোটাল যত্রতত্র।

ক) শনিতে সাত মঙ্গলে তিন, আর সব দিন দিন—এটি কোন ধরনের স্টেটমেন্ট?

খ। চাবুকের বাড়ির দিকে নুরুল হুদার মনোযোগ দেওয়া না-হয়ে ওঠার কারণ কী?

গ) উদ্দীপকের সঙ্গে ‘রেইনকোট’ গল্পের কোন দিক থেকে সাযুজ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ) উদ্দীপকটি ‘রেইনকোট’ গল্পের আংশিক রূপায়ণ মাত্র—মন্তব্যটি যাচাই করো।

 

নেকলেস : গী দ্য মোপাসাঁ

৬। দোতলা বাড়ির লোহার গরাদে দেওয়া

একতলা ঘর।

পথের ধারেই/লোনাধরা দেয়ালেতে মাঝে মাঝে ধসে গেছে বালি/মাঝে স্যাঁতাপড়া দাগ/বেতন পঁচিশ টাকা/

সওদাগরি আপিসের কনিষ্ঠ কেরানি/খেতে পাই দত্তদের বাড়ির ছেলেকে পড়িয়ে/শেয়ালদা ইস্টিশনে যাই/

সন্ধেটা কাটিয়ে আসি/আলো জ্বালাবার দায় বাঁচে।

ক) মসিঁয়ে লোইসেলের বন্ধুরা এক রবিবার কোথায় ভরতপাখি শিকারে গিয়েছিল?

খ) মাতিলদার বদলে যাওয়ার কারণ কী?

গ) উদ্দীপকের সঙ্গে ‘নেকলেস’ গল্পের কোন দিক থেকে সাযুজ্য রয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ) উদ্দীপকে ‘নেকলেস’ গল্পের সমগ্র দিক প্রতিফলিত হয়নি। মন্তব্যটি বিচার করো।

 

লালসালু : সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ

১। অবশেষে যথাক্রমে খাবো; গাছপালা, নদী-নালা/গ্রাম-গঞ্জ, ফুটপাত, নর্দমার জলের প্রপাত,/চলাচলকারী পথচারী, নিতম্ব-প্রধান নারী।/উড্ডীন পতাকাসহ খাদ্যমন্ত্রী ও মন্ত্রীর গাড়ি—/আমার ক্ষুধার কাছে কিছুই ফেলনা নয় আজ।/ভাত দে হারামজাদা, তা-না হলে মানচিত্র খাব।

ক) সাত ছেলের বাপ কে?

খ) ‘শষ্যের চেয়ে টুপি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি।’ উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

গ) উদ্দীপকে ‘লালসালু’ উপন্যাসের কোন বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা করো।

ঘ) উক্ত বিষয় মজিদের কর্মকাণ্ডের সমধর্মী হলেও উভয়ের আদর্শ এক নয়। মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

 

২। শিপনের বয়স অল্প। তার দোষ সে স্পষ্ট কথা বলে, যা নিজের কাছে যথার্থ মনে হয়, তা বলতে এতটুকু দ্বিধাবোধ করে না। কারো কথা ঠিক মনে না হলে সরাসরি মুখের ওপর ভুল ধরিয়ে দেয়। মুরব্বিদের অন্যায্য কথার প্রতিবাদ করে। সমাজ তাদের একঘরে করে। তার সঙ্গে কেউ কথা বলে না, পরিবারের কারো কাছে কেউ কিছু বিক্রি পর্যন্ত করে না। তবু শিপনের বিশ্বাস, একদিন সমাজের ভুল ভাঙবে। নতুন প্রজন্ম তার কথার মর্মার্থ উপলব্ধি করতে পারবে। 

ক) নিরাক পড়েছে কখন?

খ) ‘শষ্যের চেয়ে টুপি বেশি, ধর্মের আগাছা বেশি’—উক্তিটির মধ্য দিয়ে কী বোঝানো হয়েছে?

গ) উদ্দীপক ও ‘লালসালু’ উপন্যাসের চেতনাগত সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো।

ঘ) উদ্দীপকটি ‘লালসালু’ উপন্যাসের খণ্ডাংশ মাত্র। মন্তব্যটি যাচাই করো।

 

নাটক

সিরাজউদ্দৌলা : সিকান্দার আবু জাফর

১। স্বাধীনতা-হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে,

কে বাঁচিতে চায়? দাসত্বশৃঙ্খল বল কে পরিবে পায় হে,

কে পরিবে পায়।

কোটিকল্প দাস থাকা         নরকের প্রায় হে,

নরকের প্রায়।

দিনেকের স্বাধীনতা, স্বর্গ-সুখ তায় হে,

স্বর্গ-সুখ তায়।

সার্থক জীবন আর বাহু-বল তার হে,

বাহু-বল তার।

আত্মনাশে যেই করে দেশের উদ্ধার হে,

দেশের উদ্ধার।

ক) বাঙালি বীরদের প্রাণপণে যুদ্ধ করার আহ্বান জানান কে?

খ) ‘যারা নিজের স্বার্থের চেয়ে দেশের স্বার্থ বড় করে দেখতে শিখেছিল, মুষ্টিমেয় সেই কজনই শুধু যুদ্ধ করে প্রাণ দিয়ে গেছে।’ ব্যাখ্যা করো।

গ) উদ্দীপক ও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটক কোন দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা করো।

ঘ) উক্ত দিক সিরাজউদ্দৌলাকে মহিমান্বিত করেছে। মন্তব্যটির যথার্থ নিরূপণ করো।

 

২। রুষিলা বাসবত্রাস! গম্ভীরে যেমতি

নিশীথে অম্বরে মন্দে জীমূতেন্দ্র কোপি,

কহিলা বীরেন্দ্র বলী,—“ধর্মপথগামী,

হে রাক্ষসরাজানুজ, বিখ্যাত জগতে

তুমি;—কোন্্ ধর্ম মতে, কহ দাসে, শুনি,

জ্ঞাতিত্ব, ভ্রাতৃত্ব, জাতি,—এ সকলে দিলা

জলাঞ্জলি? শাস্ত্রে বলে, গুণবান্ যদি

পরজন, গুণহীন স্বজন, তথাপি

নির্গুণ স্বজন শ্রেয়ঃ, পরঃ পরঃ সদা!

এ শিক্ষা, হে রক্ষোবর, কোথায় শিখিলে?

কিন্তু বৃথা গঞ্জি তোমা! হেন সহবাসে,

হে পিতৃব্য, বর্বরতা কেন না শিখিবে?

গতি যার নীচ সহ, নীচ সে দুর্মতি।”

ক) নবাবের কয়েদখানা থেকে মানিকচাঁদের মুক্তি হয়েছে কিসের বিনিময়ে?

খ) ‘পেছন থেকে আক্রমণ করবার সুযোগ দিলে মৃত্যুর হাত থেকে পালানো যায় না।’ উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

গ) রাক্ষসরাজানুজ ও মীরজাফরের সমন্বয় ব্যাখ্যা করো।

ঘ) বাসবত্রাস সিরাজউদ্দৌলার প্রতিনিধিত্ব করে কি? বিশ্লেষণ করো।

 

 

মন্তব্য