kalerkantho

বুধবার । ২৯ জানুয়ারি ২০২০। ১৫ মাঘ ১৪২৬। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

ক্যাডেট কলেজে ভর্তি

পরীক্ষার আগে জেনে নাও

মাছুম বিল্লাহ ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচিতে কর্মরত সাবেক অধ্যাপক (ইংরেজি)

৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



পরীক্ষার আগে জেনে নাও

উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ করার আগ পর্যন্ত মোটামুটি নিশ্চিন্ত ক্যাডেট কলেজজীবন। তা ছাড়া স্কুলে নিয়ে যাওয়া, নিয়ে আসার ঝামেলা নেই; কারণ ক্যাডেট কলেজের শিক্ষা আবাসিক। নিরাপত্তার বিষয়টিও ভালো। এসব কারণে ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হতে হয় তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে

ক্যাডেট কলেজগুলো বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেলের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত স্বায়ত্তশাসিত আবাসিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান লেখাপড়ার পাশাপাশি সমান গুরুত্বের সঙ্গে সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে ক্যাডেটদের সুনাগরিক ও চৌকস ব্যক্তি হিসেবে গড়ে তোলে। সামরিক অফিসারের তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক সামরিক প্রশিক্ষণ এবং নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে ক্যাডেটদের এমনভাবে গড়ে তোলা হয়, যাতে ভবিষ্যতে তারা সশস্ত্র বাহিনীসহ সমাজের সব ক্ষেত্রে দেশে ও বিদেশে যোগ্য নেতৃত্ব প্রদান করতে পারে।

২০২০ শিক্ষাবর্ষে সপ্তম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ করা শুরু হয়েছে ৩ নভেম্বর ২০১৯ থেকে, এটি চলবে আগামী ১০ ডিসেম্বর ২০১৯, বিকেল ৫টা পর্যন্ত। আবেদন ফি এক হাজার ৫০০ টাকা, যা প্রতিটি ক্যাডেট কলেজে ও ঢাকার আর্মি স্টেডিয়ামে একটি করে বুথ খোলা হয়েছে, যেখান থেকে জমা দেওয়া যাবে। লিখিত পরীক্ষা ৩ জানুয়ারি ২০২০। সকাল ৯টা থেকে ১১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ১৬০ নম্বরের গণিত ও বাংলা বিষয়ের এবং দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ১৪০ নম্বরের ইংরেজি ও সাধারণ জ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ভর্তি পরীক্ষা মোট ৩৫০ নম্বরের। এর মধ্যে লিখিত পরীক্ষা ৩০০ ও মৌখিক পরীক্ষা ৫০ নম্বরের। ষষ্ঠ শ্রেণি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং ১ জানুয়ারি ২০২০ সালে বাংলাদেশের নাগরিক, যার বয়স সর্বোচ্চ ১৩ বছর ছয় মাস এবং বালক ও বালিকা উভয়ের ক্ষেত্রে উচ্চতা ন্যূনতম চার ফুট আট ইঞ্চি তারা আবেদনের যোগ্য। পূর্বে অবতীর্ণ ও অনুত্তীর্ণরা আবেদনের অযোগ্য। বাংলা বা ইংরেজি যেকোনো একটি মাধ্যমে লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা যাবে। প্রার্থীরা ১২ ডিসেম্বর ২০১৯ থেকে পরীক্ষার আগের দিন পর্যন্ত প্রবেশপত্র প্রিন্ট বা ডাউনলোড করতে পারবে। লিখিত পরীক্ষার ফল ২-৬ ফেব্রুয়ারি ২০২০ তারিখের মধ্যে প্রকাশ করা হবে। মৌখিক ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার তারিখ, সময় ও স্থান ক্যাডেট কলেজের ওয়েবসাইটে এবং ক্যাডেট কলেজগুলো যথাসময়ে প্রকাশ করা হবে।

আমাদের দেশে শিক্ষার যে মান এবং স্কুল ও কলেজের যে পরিবেশ, তাতে খুব কম অভিভাবকই সন্তানকে স্কুল কিংবা কলেজে পাঠিয়ে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন। ইংরেজি মাধ্যম বিদ্যালয়গুলো বড় বড় শহরে সীমাবদ্ধ আর এসব প্রতিষ্ঠানে যারা ভর্তি হয়, তারা সাধারণত অবস্থাপন্ন পরিবারের ছেলে-মেয়ে। ইংরেজি মাধ্যমের খরচ বহন করা অনেক অভিভাবকের পক্ষেই সম্ভব হয় না, কারণ প্রতিটি বিষয়ই প্রাইভেট শিক্ষকের কাছে পড়তে হয়। বাংলা মাধ্যমে নামিদামি কয়েকটি স্কুল ও কলেজ দেশে গড়ে উঠেছে, সেগুলো সবই প্রাইভেট সেক্টরে। এসব স্কুল ও কলেজে ভর্তি হতে হয় বিশাল এক যুদ্ধের মাধ্যমে। ভর্তির পর শুরু হয় প্রাইভেট বাণিজ্য। তা ছাড়া এসব স্কুল-কলেজে কোচিং সেন্টারের মতো শুধু বিষয় নিয়েই আলোচনা ও পড়াশোনা হয়। সহপাঠক্রমিক কোনো বিষয় তেমন একটা গুরুত্ব পায় না। এই দিক দিয়ে ক্যাডেট কলেজের শিক্ষা মোটামুটি আদর্শ শিক্ষা। তাই শিক্ষিত, চাকরিজীবী ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির অনেক অভিভাবকই চান ছেলে ও মেয়েকে কোনো ক্যাডেট কলেজে ভর্তি করাতে। উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ করার আগ পর্যন্ত মোটামুটি নিশ্চিন্ত ক্যাডেট কলেজজীবন। তা ছাড়া স্কুলে নিয়ে যাওয়া, নিয়ে আসার ঝামেলা নেই; কারণ ক্যাডেট কলেজের শিক্ষা আবাসিক। নিরাপত্তার বিষয়টিও ভালো। এসব কারণে ক্যাডেট কলেজে ভর্তি হতে হয় তীব্র প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে। প্রতিযোগিতায় টিকতে নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাছি কিছু কৌশল অবলম্বন করতে হয়।

 

কলেজগুলোতে শিক্ষার মাধ্যম ইংরেজি, তবে প্রার্থী ইচ্ছা করলে ভর্তি পরীক্ষা বাংলা ও ইংরেজি উভয় মাধ্যমে দিতে পারবে। প্রার্থী তার আবেদনপত্রে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যম উল্লেখ করবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীকে ক্যাডেট কলেজের চাহিদা মোতাবেক প্রয়োজনীয় সব তথ্য ও সনদপত্র সরবরাহ করতে হয়, অন্যথায় প্রার্থীর নির্বাচন বাতিল বলে গণ্য হয়। আগের ভর্তি পরীক্ষাগুলোতে একজন প্রার্থী একটিমাত্র কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য পছন্দ দিতে পারত, কোনো পছন্দক্রম ছিল না। ফলে দেখা যেত, একজন প্রার্থী ঢাকার কাছাকাছি কলেজ—যেমন মির্জাপুর কিংবা কুমিল্লা ক্যাডেট কলেজে ভর্তির জন্য ফরম পূরণ করেছে এবং ৭৮ শতাংশ নম্বর পেয়েছে অথচ চান্স পায়নি। কারণ এ দুই কলেজের প্রতিটিতে ঢাকার প্রার্থীরা বেশি ভিড় করে এবং তাদের মধ্য তীব্র প্রতিযোগিতা হয়। আর ঢাকার প্রার্থী বলে তাদের পরীক্ষাও ভালো হয়। আবার রংপুর কিংবা রাজশাহীতে দেখা যায়, একজন প্রার্থী ৭৪ শতাংশ নম্বর পেয়েও সহজেই ভর্তি হতে পারত। একই প্রশ্নপত্রে পুরো দেশে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বর্তমান নিয়মানুযায়ী একজন প্রার্থী পছন্দক্রম দিতে পারে। এটি একটি চমৎকার পদ্ধতি। কারণ একজন প্রার্থী তার পছন্দের কলেজে ভর্তি হতে না পারলে ক্যাডেট কলেজে পড়ার স্বপ্ন ভেঙে যেত, এখন তা থেকে অনেকটাই আশার পথ দেখতে পায়।

২০২০ সালের ৩ জানুয়ারি যে ভর্তি পরীক্ষা হতে যাচ্ছে, প্রার্থীদের প্রস্তুতির জন্য এখানে নিয়মিত বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নপত্র ছাপা হবে।

 

তার আগে এবার ভর্তি পরীক্ষার একটু বিস্তারিত সিলেবাস দেখে নেওয়া যাক। ইংরেজি পরীক্ষা হবে ১০০ নম্বরের। সিলেবাস—Grammar- 1. Sentence 2. Parts of Speech, 3. Gender 4. Number 5. Punctuation and use of capital letters 6. Tense 7. Subject and predicate 8. Agreement of subject and verb 9. Transformation of sentences 10. Correct form of verbs 10. Contractions 11. Re-arrange jumbled words to make sentences 12. Spelling 13. Phrases & idioms

Open-ended; i. Paragrpah writing ii. Storing writing from given outline iii. Comprehension iv. Argumentative essay.

গণিত (১০০ নম্বর) : ১। স্বাভাবিক সংখ্যা ও ভগ্নাংশ ২। অনুপাত ও শতকরা ৩। পূর্ণ সংখ্যা ৪। বীজগণিতীয় রাশি ৫। সরল সমীকরণ ৬। জ্যামিতির মৌলিক ধারণা ৭। ব্যাবহারিক জ্যামিতি ৮। তথ্য ও উপাত্ত ৯। বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক অঙ্ক

বাংলা (৬০ নম্বর) : ব্যাকরণ—১। ভাষা ও বাংলা ভাষ্য, ধ্বনিতত্ত্ব, রূপতত্ত্ব, বাক্যতত্ত্ব, বাগধারা; ২। শব্দ ও পদ পরিচয় : শব্দ, পদ, পদের শ্রেণিবিভাগ, পদ পরিবর্তন, বিপরীত শব্দ, দ্বিরুক্ত শব্দ ও সংখ্যাবাচক শব্দ; ৩। লিঙ্গ; ৪। বচন; ৫। ক্রিয়ার কাল : শ্রেণিবিভাগ ও প্রয়োগ; ৬। কারক; ৭। বাগধারা; ৮। এককথায় প্রকাশ; ৯। বিরাম চিহ্ন।

নির্মিতি/রচনারীতি : ১। ভাব-সম্প্রসারণ ২। অনুচ্ছেদ লিখন/যুক্তিভিত্তিক অনুচ্ছেদ (১০-১৫ বাক্য) ৩। অনুধাবন ৪। সারাংশ ও সারমর্ম

বিষয় : বিজ্ঞান, বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচিতি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং সাধারণ জ্ঞান-৪০

১। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস ২। বিশ্ব ও বাংলাদেশের ভৌগোলিক বিষয় ৩। বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী ৪। বিশ্ব ও বাংলাদেশের চলতি ঘটনাবলি ৫। বাংলাদেশ ক্যাডেট কলেজসমূহ ৬। বাংলাদেশের সমাজ ও সংস্কৃতি ৭। খেলাধুলা ৮। সাধারণ জ্ঞান ৯। পরিবেশ ও দৈনন্দিন জীবন ১০। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি।

মন্তব্য