kalerkantho

বুধবার । ২৯ জানুয়ারি ২০২০। ১৫ মাঘ ১৪২৬। ৩ জমাদিউস সানি ১৪৪১     

এসএসসি ২০২০

দুটি ভাব-সম্প্রসারণ

শরীফুল ইসলাম শরীফ, সিনিয়র শিক্ষক (বাংলা) আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল, ঢাকা

৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুটি  ভাব-সম্প্রসারণ

স্পষ্টভাষী শত্রু নির্বাক মিত্র অপেক্ষা ভালো

মানবজীবনে বন্ধুর সাহচর্য অত্যন্ত প্রয়োজন। তবে স্পষ্টভাষী শত্রুর ভূমিকা জীবনের জন্য ক্ষতিকর না হয়ে কল্যাণকর হতে পারে; কিন্তু নির্বাক বন্ধু জীবনের কোনো উপকারে আসে না।

মানবজীবন সুখকর করে তোলার জন্য শত্রুকে একদিকে যেমন পরিহার করতে হয়, তেমনি বন্ধুর সাহচর্য পরম প্রত্যাশিত। তবে স্পষ্টভাষী শত্রুর ভূমিকা জীবনের জন্য ক্ষতিকর না হয়ে কল্যাণকরও হতে পারে। এই ক্ষেত্রে নির্বাক বন্ধু জীবনের কোনো কল্যাণকর কাজে আসে না। স্পষ্টভাষী শত্রু তার আপন মূর্তিতে আত্মপ্রকাশ করে বলে তার সম্পর্কে সজাগ থেকে প্রতিকারের ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এ ধরনের শত্রুর শত্রুতায় কোনো কপটতা থাকে না এবং একে সহজে চেনা যায়। স্পষ্টভাষী শত্রু আমাদের সমালোচনা করে। তারা ভুল ধরিয়ে দিয়ে এবং ভয় দেখিয়ে বরং আমাদের কল্যাণই করে। ফলে আমরা সচেতন হয়ে উঠতে পারি এবং আমাদের চরিত্রকে সংশোধন করে নিতে পারি। এদিক থেকে স্পষ্টভাষী শত্রু জীবনের জন্য কল্যাণকর ভূমিকা পালন করে থাকে; অন্যদিকে বন্ধু যদি নির্বাক হয়, তাহলে সে বন্ধু হয়ে বিপত্তি সৃষ্টি করতে পারে। নির্বাক বন্ধু বিপদে কোনো রকম উপকারে না এসে অনেক সময় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। যে ব্যক্তি স্পষ্ট ভাষায় কথা বলতে জানে না, প্রাণ খুলে নিজের অভিব্যক্তি বর্ণনা করতে জানে না, সে দুর্বিপাকের সময় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের বন্ধুর কাছ থেকে সাহায্য ও সহানুভূতি না পেয়ে অনেকেই বেদনাহত হয়। এ ধরনের বাক-কৃপণ মানুষ প্রকৃতপক্ষে কারো বন্ধু বা মিত্র হতে পারে না। এরা আসলে স্বার্থপর, কুটিল প্রকৃতির ও হিংসুটে। এরা এক ধরনের বর্ণচোরা, মুখের কথা কম থাকায় এদের হৃদয়ের প্রকাশও সহজে ঘটে না। তাই বর্ণচোরা নির্বাক মানুষদের প্রকৃত রূপটি না জেনেই সাহচর্য লাভ করতে হয়। যার ফল হয় মারাত্মক ও ভয়ংকর। এ ধরনের নির্বাক বন্ধু থাকার চেয়ে না থাকাই ভালো। এ কথা বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে প্রমাণিত যে স্পষ্টভাষী শত্রু নির্বাক মিত্র অপেক্ষা ভালো। তাই আমাদের এ ধরনের নির্বাক মিত্র থেকে সাবধান থাকতে হবে।

 

স্বাধীনতা অর্জনের চেয়ে স্বাধীনতা রক্ষা করা কঠিন

স্বাধীনতা অর্থ শুধু ভৌগোলিক স্বাধিকার নয়। স্বাধীনতার অর্থ হলো সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও অর্থনৈতিক মুক্তি। মানুষের মৌলিক চাহিদা ও মৌলিক অধিকার পূরণ না হলে স্বাধীনতা হয়ে পড়ে অর্থহীন।

মানবজীবনে স্বাধীনতার চেয়ে পরম আরাধ্য বস্তু আর কিছু নেই। স্বাধীনতাহীনতায় কোনো মানুষ বেঁচে থাকতে চায় না। পরাধীনতায় মানবতার অপমান হয়। মনুষ্যত্ব হয় কলুষিত। তাই যুগে যুগে মানুষ স্বাধীনতার জন্য অকুণ্ঠচিত্তে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছে। পরাধীন, অত্যাচারিত জাতি স্বীয় মর্যাদাকে পুনরুদ্ধারের জন্য সংগ্রামের মাধ্যমে মুক্তি লাভ করে থাকে; কিন্তু এ মুক্তি অর্জনই শেষ কথা নয়। একে সমুন্নত রাখাই মহান দায়িত্ব ও কর্তব্য। স্বাধীনতা অর্জনের পর দেশের পুনর্গঠন, উন্নয়ন ও বহিঃশত্রুর হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য সদা প্রস্তুত থাকা একান্ত প্রয়োজন। স্বাধীনতা লাভের পর পরাধীনভাবে জীবনযাপন না করে কর্মঠ, বলিষ্ঠ ও আত্মপ্রত্যয়ী জাতি হিসেবে স্বাধীনতার ফসল ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়ে স্বদেশের মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখতে সচেষ্ট হতে হবে। তবেই অর্জিত স্বাধীনতা রক্ষা করা সম্ভব হবে; নতুবা বহু প্রত্যাশিত স্বাধীনতা ভূলুণ্ঠিত হয়ে পড়বে। আপন কর্মপ্রেরণা, চিন্তাধারা ও শৃঙ্খলাবোধের দ্বারাই প্রমাণ করতে হবে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতার মাহাত্ম্য ও মর্যাদা। কিন্তু এটি স্বাধীনতা অর্জনের চেয়েও কঠিন। ভৌগোলিক স্বাধীনতার পাশাপাশি মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি না এলে স্বাধীনতার লক্ষ্য হয়ে পড়বে অর্থহীন। অর্থনৈতিক মুক্তি অর্জন সহজ নয়। কঠোর শ্রম সাধনার মাধ্যমে একটি জাতি যখন অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতি সাধনে সক্ষম হয়, তখনই প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

স্বাধীনতা মানুষের কাছে পরম আরাধ্য হলেও এর মর্যাদা রক্ষা করতে পারে খুব কম লোকই। তাই স্বাধীনতা অর্জনের পাশাপাশি এটি রক্ষার ক্ষেত্রেও সমান মনোযোগী হতে হবে।

 

মন্তব্য