kalerkantho

সোমবার। ২৭ জানুয়ারি ২০২০। ১৩ মাঘ ১৪২৬। ৩০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

একাদশ-দ্বাদশ : বাংলা প্রথম পত্র

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের চাষার দুক্ষু

আল ইমরান কবির প্রভাষক, শহীদ পুলিশ স্মৃতি কলেজ, ঢাকা

৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের  চাষার দুক্ষু

অঙ্কন : মাসুম

রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন রচিত ‘চাষার দুক্ষু’ রচনাটি বাংলা একাডেমি প্রকাশিত রোকেয়া রচনাবলি থেকে নির্বাচন করা হয়েছে। তাঁর শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ড থেকে শুরু করে লেখালেখির জগৎ উৎসর্গীকৃত হয়েছে পিছিয়ে পড়া নারী সমাজের মুক্তি ও সমৃদ্ধির জন্য। কিন্তু ‘চাষার দুক্ষু’ প্রবন্ধটি তৎকালীন দারিদ্র্যপীড়িত কৃষকদের বঞ্চনার হৃদয়বিদারক ঘটনার দলিল হয়ে আছে। ভারতবর্ষের সভ্যতা ও অগ্রগতির তালিকা তুলে ধরে তিনি দেখিয়েছেন, সেখানে কৃষকদের অবস্থা কত শোচনীয়। পাকা বাড়ি, রেলওয়ে, ট্রামওয়ে, স্টিমার, অ্যারোপ্লেন, মোটর গাড়ি, টেলিফোন, টেলিগ্রাফসহ আরো কত যে আবিষ্কার ভারতবর্ষের শহুরে মানুষের জীবন সমৃদ্ধ ও সচ্ছল করে তুলেছে তার সীমা নেই। কিন্তু সেই ভারতবর্ষেই কৃষকদের পেটে খাদ্য জোটে না। তারা শীতে বস্ত্র পায় না। অসুখে চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হয়; এমনকি তাদের পান্তাভাতে লবণও জোটে না। সমুদ্রতীরবর্তী লোকেরা সমুদ্রজলে চাল ধুয়ে লবণের অভাব মেটানোর চেষ্টা করে। টাকায় পঁচিশ সের চাল মিললেও রংপুরের কৃষকরা চাল কিনতে না পেরে লাউ, কুমড়া, পাটশাক, লাউশাক সিদ্ধ করে খেয়ে ক্ষুধার যন্ত্রণা নিবারণ করে।

কৃষকদের এই চরম দারিদ্র্যের জন্য তিনি সভ্যতার নামে এক শ্রেণির মানুষের বিলাসিতাকে দায়ী করেছেন। আবার কোনো কোনো কৃষককেও এ বিলাসিতার বিষ আক্রমণ করেছে। এ ছাড়া গ্রামীণ কুটির শিল্পের বিপর্যয়ও কৃষকদের দারিদ্র্যের অন্যতম কারণ। কুটির শিল্পকে ধ্বংস করে দিয়ে আত্মনির্ভরশীল গ্রাম্য সমাজকে চরম সংকটের মধ্যে ফেলেছে ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী।

কৃষকদের এই মুমূর্ষু অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন গ্রামে গ্রামে পাঠশালা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। আর গ্রামীণ কুটির শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখারও পরামর্শ দিয়েছেন।

গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞানমূলক প্রশ্ন ও উত্তর

১। পাখাল শব্দের অর্থ কী?

উত্তর : পাখাল শব্দের অর্থ পান্তা।

২। টেকো শব্দের অর্থ কী?

উত্তর : টেকো শব্দের অর্থ সুতা পাকানোর যন্ত্র।

৩। ‘শিরে দিয়ে বাঁকা তাজ ঢেকে রাখে টাক’—কারা টাক ঢেকে রাখে?

উত্তর : চাষারা টাক ঢেকে রাখে।

৪। কার মাথায় বেশ ঘন ও লম্বা চুল ছিল?

উত্তর : কৃষককন্যা জমিরনের মাথায় বেশ ঘন ও লম্বা চুল ছিল।

৫। প্রাবন্ধিকের মতে, কারা নবাবি হালে থাকতেন?

উত্তর : প্রাবন্ধিকের মতে জুটমিলের কর্মচারীরা নবাবি হালে থাকতেন।

৬। ‘চাষার দুক্ষু’ রচনা অনুসারে ধান্য কার?

উত্তর : ‘চাষার দুক্ষু’ রচনা অনুসারে ধান্য তার বসুন্ধরা যার।

৭। রংপুর অঞ্চলে রেশমকে স্থানীয় ভাষায় কী বলে?

উত্তর : রংপুর অঞ্চলে রেশমকে স্থানীয় ভাষায় এন্ডি বলে।

৮। পূর্বে পল্লীবাসিনীরা কী দিয়ে কাপড় কাচতেন?

উত্তর : পূর্বে পল্লীবাসিনীরা নিজেদের প্রস্তুতকৃত ক্ষার দিয়ে কাপড় কাচতেন।

৯। কৃষকপত্নী কিসের বিনিময়ে কন্যা বিক্রয় করত?

উত্তর : কৃষকপত্নী দুই সের খেসারির বিনিময়ে কন্যা বিক্রয় করত।

১০। একখানা ‘এন্ডি’ কাপড় অবাধে কত বছর টেকে?

উত্তর : একখানা এন্ডি কাপড় অবাধে ৪০ বছর পর্যন্ত টেকে।

১১। ‘ধান্য তার বসুন্ধরা যার’- উক্তিটি কার?

উত্তর : ‘ধান্য তার বসুন্ধরা যার’—উক্তিটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের।

১২। ‘এন্ডি’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তর : ‘এন্ডি’ শব্দের অর্থ মোটা রেশমি কাপড়।

১৩। দুই সের খেসারির বিনিময়ে বিহার অঞ্চলের কৃষকরা কী বিক্রি করত?

উত্তর : দুই সের খেসারির বিনিময়ে বিহার অঞ্চলের কৃষকরা কন্যাসন্তান বিক্রি করত।

১৪। জুটমিলের কর্মচারীরা মাসিক কত টাকা বেতন পেতেন?

উত্তর : জুটমিলের কর্মচারীরা মাসিক ৫০০-৭০০ টাকা বেতন পেতেন।

১৫। লেখিকার বাল্যকালে টাকায় কয় সের তেল পাওয়া যেত?

উত্তর : লেখিকার বাল্যকালে টাকায় আট সের সরিষার তেল পাওয়া যেত।

১৬। লেখিকার বাল্যকালে টাকায় কয় সের ঘি পাওয়া যেত?

উত্তর : লেখিকার বাল্যকালে টাকায় চার সের ঘি পাওয়া যেত।

১৭। জমিরনের মাথায় তেল দেওয়ার জন্য কোথায় নিয়ে যাওয়া হতো?

উত্তর : জমিরনের মাথায় তেল দেওয়ার জন্য রাজবাড়ি নিয়ে যাওয়া হতো।

১৮। প্রবন্ধে উল্লিখিত সমুদ্রতীরবর্তী গ্রাম কোনটি?

উত্তর : প্রবন্ধে উল্লিখিত সমুদ্রতীরবর্তী গ্রাম সাতভায়া।

১৯। কোন অঞ্চলের কৃষকরা পান্তাভাতের সঙ্গে লবণ ছাড়া অন্য কোনো উপকরণ সংগ্রহ করতে পারত না?

উত্তর : ওড়িশার অন্তর্গত কণিকা রাজ্যের কৃষকরা পান্তাভাতের সঙ্গে লবণ ছাড়া অন্য কোনো উপকরণ সংগ্রহ করতে পারত না।

২০। কারা সমুদ্রজলে চাল ধুয়ে ভাত রেঁধে খেত?

উত্তর : সাতভায়া নামের সমুদ্রতীরবর্তী গ্রামের লোকেরা সমুদ্রজলে চাল ধুয়ে ভাত রেঁধে খেত।

২১। কোথায় রেশম চাষ হয়?

উত্তর : আসাম ও রংপুর জেলায় রেশম চাষ হয়।

২২। প্রবন্ধে বর্ণিত সময়ে কৃষকদের শিরায় শিরায়, ধমনিতে ধমনিতে কী প্রবেশ করেছে?

উত্তর : প্রবন্ধে বর্ণিত সময়ে কৃষকদের শিরায় শিরায়, ধমনিতে ধমনিতে বিলাসিতা প্রবেশ করেছে।

২৩। রেশমি রুমাল কোথায় প্রস্তুত হতো?

উত্তর : রেশমি রুমাল মুর্শিদাবাদের কোনো গ্রামে প্রস্তুত হতো।

মন্তব্য