kalerkantho

বুধবার । ১৬ অক্টোবর ২০১৯। ১ কাতির্ক ১৪২৬। ১৬ সফর ১৪৪১       

স্বল্প খরচে স্বাচ্ছন্দ্য ভ্রমণই এয়ারএশিয়ার লক্ষ্য

২৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



স্বল্প খরচে স্বাচ্ছন্দ্য ভ্রমণই এয়ারএশিয়ার লক্ষ্য

বাজেট এয়ার হিসেবে বিশ্বব্যাপী সমাদৃত এয়ারএশিয়া। কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম চলছে। এয়ারএশিয়ার বাংলাদেশ জিএসএর ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মামুনুল হকের মুখোমুখি হয়েছিলেন মাসুদ রুমী ও পিন্টু রঞ্জন অর্ক

 

বাজেট এয়ার আর নরমাল এয়ারের মধ্যে তফাত কোথায়?

সাশ্রয়ী মূল্যে ভ্রমণ কথাটাতেই ফারাক ধরা পড়ে। অথচ এয়ারক্রাফট থেকে শুরু করে বাকি সবই এক। ধরুন আপনি কুয়ালালামপুর যাবেন। সাড়ে তিন ঘণ্টার ফ্লাইট। নরমালি রাতে আমরা ডিনার করেই ফ্লাইটে উঠি। এয়ারক্রাফটে খেতে হবে—এমন কোনো কথা নেই। আপনি এয়ারক্রাফটে উঠে ঘুমিয়ে পড়লেন। ভোরে কুয়ালালামপুর নেমে গেলেন। ফুড লাগলে নেন, না লাগলে নেবেন না। মানে আপনার খাবারের টাকাটা সেভ হলো। হয়তো আপনি ব্যাকপ্যাক নিয়েই ভ্রমণ করতে পারছেন। সাত কেজির মধ্যেই হয়ে যাচ্ছে। তাহলে আলাদা করে ব্যাগেজের পয়সা দেওয়া লাগছে না। উল্লেখ্য, বাংলাদেশের যাত্রীদের জন্য ঢাকা-কুয়ালালামপুর-ঢাকা রুটে গেলে ৩০ কেজি  লাগেজ, ৭ কেজি হ্যান্ড লাগেজ ও খাওয়া পর্যন্ত আমরা ফ্রি দিয়ে থাকি। অন্য এয়ারলাইন্সের টিকিটের মধ্যে কিন্তু খাবার, ব্যাগেজ ইত্যাদির জন্যও আলাদা করে পয়সা ধরা থাকে। আমরা এখানেই আলাদা।

বাজেট এয়ারলাইন্স কনসেপ্ট জনপ্রিয়তা পেয়েছে দেশে দেশে। বাংলাদেশে কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

২০০৪ সাল। বাজেট এয়ারলাইন্সের কনসেপ্ট যখন মালয়েশিয়াতে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাচ্ছিল, তখন থেকেই আমরা ভাবছিলাম বাংলাদেশে এ সেবা নিয়ে আসতে পারলে এখানকার মানুষ সাশ্রয়ী ভাড়ায় ভ্রমণ করতে পারবে। আমাদের উদ্দেশ্যই ছিল, স্বল্প খরচে যেন মানুষ ভ্রমণ করতে পারে। এই লক্ষ্য সামনে রেখেই কাজ করে যাচ্ছেন আমাদের চেয়ারম্যান মুজিবুল হক সাহেব। একপর্যায়ে আমরা সফলও হই। সরকারের এভিয়েশন-সংশ্লিষ্ট সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা আমরা পেয়েছি। সম্ভবত ২০১০ সালের দিকে এখানে এয়ারএশিয়া নিজেরাই অপারেট করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু মাস ছয়েক পরই নানা কারণে সেটা বন্ধ হয়ে যায়। পরে আমরা নতুন করে ২০১৫ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে এয়ারএশিয়ার ফ্লাইট অপারেশন শুরু করি। শুরু থেকেই ব্যাপক সাড়া পেয়েছি। এখন মানুষ উৎসাহ নিয়েই এয়ারএশিয়ায় ভ্রমণ করে। কারণ আমরা যাত্রীর নিরাপত্তায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই এবং তার ভ্রমণটা আরামদায়ক করার জন্য সব ধরনের চেষ্টা করি। যাত্রী যেন ঠিক সময়েই গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, বিদেশ থেকে ফেরার  পর তাঁর লাগেজ যেন অল্প সময়ের মধ্যে পেয়ে যান সে চেষ্টা থাকে। মোট কথা, যাত্রীকে পরিপূর্ণ সন্তুষ্টি দিতে চেষ্টা করি। বাংলাদেশের মানুষকে কম টাকায় ভ্রমণের সুযোগ করে দিতে পেরে আমরা আনন্দিত।  সরকারকে বড় অঙ্কের রাজস্ব দিতে পারছি এটাও আমাদের একটা  গর্বের বিষয়।

আপনাদের স্লোগান কী?

‘ঘঙড ঊঠঊজণঙঘঊ ঈঅঘ ঋখণ’ (এখন সবাই উড়তে পারে)। প্লেনে ট্রাভেল করা অনেকের কাছেই স্বপ্নের মতো ব্যাপার। বাংলাদেশে এমন অনেক লোক আছে, যারা কখনোই প্লেনে চড়েনি। তাদেরও ভ্রমণে উৎসাহী করা আমাদের লক্ষ্য।  

এয়ারএশিয়া কোন ধরনের উড়োজাহাজ ব্যবহার করে?

এয়ারএশিয়া এয়ারবাস ব্যবহার  করে। পাঁচ ঘণ্টার কম যাত্রা হলে এয়ারবাস ৩২০ আর পাঁচ ঘণ্টার ওপরের জার্নিতে এয়ারবাস ৩৩০ ব্যবহার করে। এটা জ্বালানি সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য, আসনগুলো আরামদায়ক। পাশাপাশি যাঁরা বিজনেস ক্লাসে ভ্রমণ করেন, তাঁদের জন্য আছে প্রিমিয়াম ক্লাস। সেটার ভাড়াটা একটু বেশি; কিন্তু অন্য এয়ারলাইন্সের তুলনায় কম। সব ধরনের যাত্রীর কথা বিবেচনা করেই সার্ভিস দিয়ে থাকি আমরা।

এখন ঢাকা থেকে কতটা গন্তব্যে যান আপনারা?

এয়ারএশিয়ার টোটাল কানেক্টিভিটি ১৬০টি গন্তব্যে। ঢাকা থেকে প্রথমে কুয়ালালামপুর। কুয়ালালামপুর হাব থেকে সব জায়গায় যেতে পারবেন। সে হিসেবে এয়ারএশিয়ার টোটাল নেটওয়ার্ক আমরা ব্যবহার করতে পারি।

ঢাকা থেকে সপ্তাহে কতটা ফ্লাইট অপারেট করেন?

ঢাকা-কুয়ালালামপুর সপ্তাহে সাতটা। তারপর  অস্ট্রেলিয়া, জাপান বা অন্য যেকোনো দেশে যাবেন, কুয়ালালামপুর থেকে কানেক্টিং ফ্লাইট ধরতে পারবেন।

আপনাদের শিডিউল ঠিকঠাক থাকে?

বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে ওটিপি (অন টাইম পারফরমেন্স)  প্রায় ৯৯ পার্সেন্ট এয়ারএশিয়ার। এখান থেকে এক থেকে দুই মিনিট দেরি হলেও আমাদের জবাবদিহি করতে হয়। ফলে এটা আমরা মনিটর করি। একটা এয়ারক্রাফট ল্যান্ড করা থেকে শুরু করে টেকঅফ করা পর্যন্ত সময় মাত্র ৩০ মিনিট। ব্যাগেজ বেল্টে আমাদের ব্যাগেজ আসে ৩৫-৪৫ মিনিটের মধ্যে। এ ছাড়া আমরা ইচ্ছামতো সিট পছন্দ করার সুযোগও দিয়ে থাকি। 

বাংলাদেশ থেকে ভ্রমণকারী বৃদ্ধির হার কেমন?

যাত্রী যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। হযরত শাহজালাল ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টের থার্ড ফেজের কাজ শেষ হলে যাত্রী আরো বাড়বে। আর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হলে এটা হবে এ অঞ্চলের হাব। মানুষের রুচির পরিবর্তন হচ্ছে। বিমান ভ্রমণে আগ্রহ বাড়ছে। গত রমজানের ঈদেও বাংলাদেশের প্রায় ছয় লাখ মানুষ বিভিন্ন দেশে ভ্রমণ করতে গেছে। এখন ঢাকা-সৈয়দপুর রুটে প্রতিদিন ১১ থেকে ১৫টি ফ্লাইট অপারেট হচ্ছে। অথচ একসময় এটা ছিল সবচেয়ে অবহেলিত রুট।

এয়ারএশিয়ায় চড়ে কোন গন্তব্যে বাংলাদেশের মানুষ বেশি যাচ্ছে?

কুয়ালালামপুর বালিসহ অস্ট্রেলিয়ার বিভিন্ন গন্তব্যে। বালিতে যাওয়ার মূল কারণ, ভিসা নিয়ে কোনো হয়রানির শিকার হতে হয় না। সেখানে অন এরাইভেল ভিসা দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আপনার কোনো অভিযোগ বা সুপারিশ আছে কি না?

এখানে ফুয়েল কস্টটা অনেক বেশি। অন্যান্য আঞ্চলিক এয়ারপোর্টগুলোর চেয়ে এয়ারপোর্ট চার্জ কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেশি। অনেকে অব্যবস্থাপনার কথা বলেন। তবে আমাদের অভিজ্ঞতা ভালোই বলতে হয়। নিরাপত্তা ও বিমানবন্দর ব্যবস্থপনার ক্ষেত্রেও কর্মকর্তাদের  আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। তবে অবকাঠামোগত কিছু সীমাবদ্ধতা এখনো রয়ে গেছে, যেটা অচিরেই সমাধান হবে। শীতকালে মশার উপদ্রবটা একটু বেশি হয়।

বাংলাদেশ এয়ারএশিয়ার অপারেশন প্রফিটেবল করতে পেরেছেন?

এক কথায় এ প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যাবে না। তবে এটুকু বলতে পারি, রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বেশ বড় অঙ্কের রাজস্ব জমা দিতে পেরেছি আমরা। তা ছাড়া অনেক শিক্ষিত তরুণের কর্মসংস্থানের সুযোগ হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা?

ঢাকা-কুয়ালালামপুর-ঢাকা রুটে আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মানে ১০ শতাংশ ভাড়া কম রাখি। সর্বোপরি যাত্রী সেবার মানোন্নয়নে চেষ্টা থাকবে আমাদের। এক কথায় আমাদের পরিকল্পনা ‘এখন সবাই উড়তে পারে’ কথাটার বাস্তবে রূপ দেওয়া।

মন্তব্য