kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

কেনার আগে খেয়াল রাখুন

৩১ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কেনার আগে খেয়াল রাখুন

ফ্ল্যাট কিংবা অ্যাপার্টমেন্ট কেনার আগে কিছু বিষয় খেয়াল রাখলে উপকৃত হবেন। জানাচ্ছেন রনী মাহমুদ

 

-    নিজেকে কোন পরিবেশে দেখতে চান আজ থেকে বিশ কিংবা ত্রিশ বছর পর? ক্রমবর্ধমান যানজট, বায়ুদূষণের কথা মাথায় রেখেই ভাবুন। সে ক্ষেত্রে শহর থেকে একটু দূরে যেখানকার পরিবেশ সজীব-সতেজ, শহরের সব সুবিধাও হাতের নাগালে, তেমন জায়গা বসবাসের জন্য বাছাই করতে পারেন। স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের জন্য আলো-বাতাস খুবই প্রয়োজন। তাই আলো ও বাতাসের চলাচল ভালো এমন জায়গাই বেছে নিন।

-    আপনার কর্মস্থল থেকে বাসস্থানের দূরত্ব বিবেচনায় রাখুন। তবে  যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হলে দূরত্ব বেশি ঝামেলায় ফেলবে না। নইলে যাতায়াত খরচ বাড়বে, সময়ক্ষেপণ হবে বেশি। পরিবারের নারী ও শিশু সদস্যরা সমস্যায় পড়বে বেশি।

-    বাজেটের ব্যাপারটি অবশ্যই মাথায় রাখুন। অ্যাপার্টমেন্টটির স্থান এবং আকার নির্ভর করবে আপনি কী পরিমাণ টাকা ব্যয় করার সামর্থ্য রাখেন। সামর্থ্যের মধ্যেই একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ বাজেট নিয়ে নামুন, যাতে একটি অ্যাপার্টমেন্ট কিনতে গিয়ে আপনাকে কোনো দীর্ঘস্থায়ী ঋণে জড়িয়ে পড়তে না হয়। সাধ্যের বাইরে গেলে পরবর্তী সময়ে বিপদগ্রস্ত হতে পারেন।

-    অ্যাপার্টমেন্টটি যে অঞ্চলে কিনবেন, সেখানকার আশপাশে স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, বিপণিবিতান,  বিনোদনকেন্দ্র ইত্যাদি আছে কি না তা খেয়াল রাখুন। আদতে এটি আপনার ভাবনায় না-ও আসতে পারে; কিন্তু আপনি যদি স্থায়ীভাবে বসবাস করতে শুরু করেন, তখন এসবের উপযোগিতা বেশ ভালোভাবেই টের পাবেন।

-    সঠিক মাপজোখ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অ্যাপার্টমেন্টটি কতটুকু জায়গার ওপর নির্মাণ করা হয়েছে, সে সম্পর্কে খোঁজ নিন। রুমের বিভিন্ন আয়তন সম্পর্কে একটি পরিষ্কার ধারণা পেতে নিজে গিয়ে অ্যাপার্টমেন্ট দেখে আসুন। এটা আপনাকে নির্মাণকাজে কী উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে, সে সম্পর্কেও ধারণা দেবে। পরিদর্শনের সময় অন্যান্য বিষয় যেমন—ড্রেনেজব্যবস্থা, স্যাঁতসেঁতে ভাব ইত্যাদিও খেয়াল করুন।

-    নিরাপত্তাব্যবস্থা একটি অন্যতম বিবেচ্য বিষয়। যেকোনো সম্পত্তির নিরাপত্তা তার দাম নির্ধারণে ভূমিকা রাখে। যেকোনো সম্পত্তি কেনার আগে এ সম্পর্কে অবশ্যই খোঁজখবর নেওয়া উচিত। ডেভেলপারদের কাছ থেকে ক্রেতা নিরাপত্তার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার খোঁজ নেওয়া জরুরি। ওই সম্পত্তির কাছাকাছি কোনো পুলিশ স্টেশন আছে কি না তার খোঁজ নিন।

-    ক্রয়কৃত সম্পত্তির চুক্তি পরীক্ষা করুন। ক্রেতা হিসেবে আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে যে চুক্তির শিরোনাম যেটি আপনাকে প্রদান করা হয়েছে, তার ওপর অফিশিয়াল সিল রয়েছে কি না। এটাই প্রমাণ করবে, সম্পত্তিটি যথাযথভাবে নিবন্ধন করা হয়েছে। কোনোভাবে দলিলের ফটোকপি গ্রহণ করা যাবে না। এটা এ কারণে যে মালিক চাইলে এ দলিল ব্যাংকে জমা রেখে ঋণ নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে ঋণ পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে ব্যাংক জায়গাটি দখলে নিয়ে যাবে। যদি আপনি অ্যাপার্টমেন্ট কেনেন, তবে আপনাকে নিশ্চিত হতে হবে, জায়গাটি বন্ধকি কি না? এ কারণে যে মালিক এটা বন্ধক হিসেবে ব্যবহার করে ব্যাংকঋণ নিতে পারে। বন্ধকি জায়গা কেনা ঠিক নয়।

-    প্রপার্টি ডেভেলপারের সম্পর্কে জানুন। সংশ্লিষ্ট ডেভেলপার কতগুলো অ্যাপার্টমেন্ট সম্প্রতি হস্তান্তর করেছে, তা নিখুঁতভাবে পরীক্ষা করা উচিত। ডেভেলপারদের অফিস পরিদর্শন করুন এবং প্রয়োজনীয় খোঁজখবর নিন। ডেভেলপারদের ওয়েবসাইটে কাস্টমারদের মন্তব্য পরীক্ষা করতে পারেন। একটি প্রসিদ্ধ ও নিবন্ধিত ডেভেলপারের কাছ থেকে অ্যাপার্টমেন্ট কিনে অপ্রয়োজনীয় হয়রানি থেকে রক্ষা পাওয়া যেতে পারে। যেখানে সম্পত্তির মালিকানা আলাদা আলাদা (ওয়ারিশ), সেখানে আপনাকে সম্পত্তির বৈধতা এবং বিস্তারিত খোঁজখবর নিতে হবে।

সর্বোপরি পরিবারের অভিজ্ঞ সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করুন। আলোচনা সব সময়ই আপনাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে।

মন্তব্য