kalerkantho

বুধবার । ২৯ বৈশাখ ১৪২৮। ১২ মে ২০২১। ২৯ রমজান ১৪৪২

কৃষি ও গণমাধ্যমের সেতুবন্ধ শাইখ সিরাজ

কৃষকরাই এখনো দেশের প্রাণ। কৃষিই বড় শক্তি হয়ে আছে দেশের মানুষের খাদ্য ও অর্থনীতির মজবুত ভিত্তি হিসেবে। এ ক্ষেত্রে যেমন কৃষকদের নিজেদের ভূমিকা রয়েছে, তার সঙ্গে রয়েছে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ এবং বেসরকারি খাতের বিভিন্ন উদ্যোগ। আর এসবের মধ্যে নতুন এক সেতুবন্ধ তৈরিতে গণমাধ্যম সহায়ক বন্ধু হয়ে উঠেছে। যাঁর প্রভাব দেশের কৃষি খাতের পরতে পরতে, তাঁর নাম শাইখ সিরাজ

১৪ জানুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কৃষি ও গণমাধ্যমের সেতুবন্ধ শাইখ সিরাজ

দিনে দিনে আধুনিক শিল্পের দিকে এগিয়ে গেলেও এখনো বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হিসেবেই রয়ে গেছে। কৃষকরাই এখনো দেশের প্রাণ। কৃষিই বড় শক্তি হয়ে আছে দেশের মানুষের খাদ্য ও অর্থনীতির মজবুত ভিত্তি হিসেবে। এ ক্ষেত্রে যেমন কৃষকদের নিজেদের ভূমিকা রয়েছে, তার সঙ্গে রয়েছে সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ এবং বেসরকারি খাতের বিভিন্ন উদ্যোগ। আর এসবের মধ্যে নতুন এক সেতুবন্ধ তৈরিতে গণমাধ্যম সহায়ক বন্ধু হয়ে উঠেছে। তবে এই গণমাধ্যম সেক্টরের ভেতর থেকেই একজন মানুষকে এখন খুবই আলাদা করে চেনা যায়, যিনি কৃষি আর গণমাধ্যমের মধ্যে ঘটিয়েছেন নতুন এক যোগসূত্র। যাঁর প্রভাব পড়েছে দেশের কৃষি খাতের পরতে পরতে, তাঁর নাম শাইখ সিরাজ। কৃষিসংশ্লিষ্ট এমন কোনো মানুষ হয়তো নেই, যারা এই মানুষটিকে চেনে না। বছরের পর বছর ফসলের জমি, কৃষক, কাদামাটি আর দেশ-বিদেশের কৃষি নিয়েই কাটছে তাঁর সময়। নতুন নতুন বিষয় ধরে ধরে তিনি মানুষকে চিনিয়ে দিচ্ছেন, এগিয়ে নিচ্ছেন কৃষিকে, যেন কৃষি খাতে ব্যতিক্রমী এক বিপ্লব ঘটানোর সৈনিক হিসেবে এগিয়ে যাচ্ছেন নিজের মতো করেই শাইখ সিরাজ।

শুরুটা বাংলাদেশ টেলিভিশনে জনপ্রিয় কৃষিভিত্তিক অনুষ্ঠান ‘মাটি ও মানুষ’ দিয়ে। পরে নিজের মালিকানাধীন বেসরকারি টিভি চ্যানেল চ্যানেল আইয়ে নিয়ে আসেন ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’ নামের আরেকটি অনুষ্ঠান।

কৃষক ও কৃষির বন্ধু হিসেবে মাটি ও মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়া শাইখ সিরাজ ১৯৫৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবের কিছুটা সময় গ্রামে কাটলেও পরে বেড়ে ওঠা, পড়াশোনা বেশির ভাগই ঢাকা ঘিরে। খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, নটর ডেম কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। এখন তিনি ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেডের চ্যানেল আইয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও বার্তাপ্রধান। তবে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়েও তিনি সরে যাননি তাঁর পথ থেকে, সাংবাদিকতা কিংবা কৃষিভিত্তিক গণমাধ্যমের ধারা থেকে। বরং অনেকের চেয়ে বেশি ছুটে বেড়ান দিন-রাত কাদামাটি ও ফসলের ক্ষেতে। কখনো দুর্গম চরে, কখনো প্রত্যন্ত এলাকার মাছের খামারে, কখনো বা শহরের আধুনিক সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে যাওয়া ছাদবাগানে দেখা যায় গাঢ় সবুজ শার্ট গায়ের শাইখ সিরাজকে।

এখনো তিনি নিয়মিত থাকছেন ‘হৃদয়ে মাটি ও মানুষ’ অনুষ্ঠানে। সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান উপস্থাপনাও করেন। চ্যানেল আইয়ে জাতীয় সংবাদে প্রতিদিনের কৃষি সংবাদ চালুর মধ্য দিয়ে তিনিই প্রথম দেশের গণমাধ্যমে কৃষিকে দৈনিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। এর দেখাদেখি অন্য গণমাধ্যমেও কৃষির অনুষ্ঠান-খবরাখবর থাকছে প্রতিদিন, প্রতি সপ্তাহে। এটি শুধু প্রান্তিক কৃষকদেরই নয়, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে নীতিনির্ধারণী পর্যায়েও প্রভাব ফেলছে।

শাইখ সিরাজের নেতৃত্বে চ্যানেল আইয়ে একটি পৃথক ও বিশেষ বুলেটিন আকারে প্রচারিত হয় কৃষি সংবাদ, যেখানে আধুনিক কৃষি ও বিভিন্ন উন্নত চাষপদ্ধতি, কৃষি ব্যবস্থাপনা, বেকার ও শিক্ষিত যুবকদের কৃষিকাজে উৎসাহিত করা হয়। বিদেশে গিয়েও তিনি তুলে আনছেন কৃষির নানা বিষয়।

শাইখ সিরাজ সরাসরি কৃষক ও কৃষি নিয়ে গণমাধ্যমে লেগে থাকলেও এর মধ্যেই তিনি এসব বিষয় নিয়ে লেখালেখিও করেন নিয়মিত। বেশ কিছুসংখ্যক বইও রয়েছে তাঁর, যেগুলো দেশের কৃষিব্যবস্থাকে আরো সমৃদ্ধ করতে সহায়ক হচ্ছে। তিনি কৃষি সাংবাদিকতায় অবদান রাখার জন্য ২০১৮ সালে পেয়েছেন স্বাধীনতা পুরস্কার এবং একুশে পদক (১৯৯৫)। এ ছাড়া তাঁর আরো বেশ কিছু দেশ-বিদেশের পুরস্কার রয়েছে।

তাঁর বইগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘মাটি ও মানুষের চাষবাস’, ‘ফার্মার্স ফাইল’, ‘মাটির কাছে, মানুষের কাছে’, ‘বাংলাদেশের কৃষি : প্রেক্ষাপট ২০০৮’, ‘কৃষি ও গণমাধ্যম’, ‘কৃষি বাজেট কৃষকের বাজেট’ (সম্পাদিত), ‘আমার স্বপ্নের কৃষি, ‘সমকালীন কৃষি ও অন্যান্য প্রসঙ্গ’ (২০১১) উল্লেখযোগ্য। এ ছাড়া তাঁর আরো কয়েকটি বই রয়েছে। স্বাধীনতা পুরস্কার ও একুশে পদক ছাড়াও শাইখ সিরাজ অর্জন করেছেন জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার এএইচ বুর্মা অ্যাওয়ার্ড (২০০৯), ব্রিটেনের বিসিএ গোল্ডেন জুবিলি অনার অ্যাওয়ার্ড, বাংলাদেশ ক্যাটারার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএ) পদক (২০১১), ২০১১ সালে যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমনস সম্মাননাসহ আরো কয়েকটি পুরস্কার।

তৌফিক মারুফ