নুরুল ইসলাম নাহিদ শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে (২০০৯-২০১৪) শিক্ষাক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তনসাধনে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর উদ্যোগে প্রথমবারের মতো সব মহলের মতামতের ভিত্তিতে 'জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০' প্রণীত হয়। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আধুনিক বাংলাদেশের নির্মাতা হিসেবে প্রস্তুত করার জন্য, শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন করে বর্তমান যুগের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ শিক্ষা, জ্ঞান, প্রযুক্তি ও দক্ষতাসম্পন্ন দেশপ্রেমে উজ্জীবিত পরিপূর্ণ মানুষ তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে মহাকর্মযজ্ঞ চলছে ঘুণে ধরা রাজনীতির অঙ্গনে ব্যক্তিগত সততা ও নিষ্ঠার কারণে যে কয়জন রাজনীতিক দেশবাসীর সমীহ অর্জন করেছেন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ তাঁদের অন্যতম। রাজনীতির পথে হাঁটার শুরুটা সেই হাই স্কুল থেকে। এখনো চলছেন অবিশ্রান্ত। দীর্ঘ যাত্রায় জড়িয়েছেন একটি রাষ্ট্রের জন্মের ইতিহাসের সঙ্গে। সেই রাষ্ট্রের বিনির্মাণে ভূমিকা রাখার এক পর্যায়ে শিক্ষাক্ষেত্রে সাফল্যের অগ্রযাত্রায় হয়ে উঠেছেন অগ্রপথিক। তিনি নুরুল ইসলাম নাহিদ। তাঁর রয়েছে সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন। একজন সৎ, নিষ্ঠাবান ও ত্যাগী রাজনৈতিক নেতা হিসেবে তিনি সব মহলে প্রশংসিত। ব্যক্তিগত জীবনে তাঁর সৎ ও সহজ-সরল জীবনযাপন বর্তমান সময়ে রাজনীতিতে ব্যতিক্রমী হিসেবেই সবার কাছে প্রতিষ্ঠিত। ষাটের দশকের ছাত্র আন্দোলনের ঐতিহ্য ও ধারাবাহিকতা অনুসরণ করে এখনো তিনি মানুষের রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক মুক্তির লক্ষ্যে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং তাদের জন্য সংগ্রামকেই প্রধান পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। আজও সেই কঠিন ব্রত নিয়ে আছেন জনগণের সঙ্গে, তাঁদেরই একজন হিসেবে। নাহিদের জন্ম ১৯৪৫ সালের ৫ জুলাই সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার কসবা গ্রামে। গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু শিক্ষাজীবন। বিয়ানীবাজার পঞ্চখণ্ড হরগোবিন্দ হাই স্কুলে অধ্যয়নকালেই তাঁর মধ্যে নেতৃত্বগুণের প্রকাশ ঘটে। ছাত্রসমাজের দাবিদাওয়া আদায়, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন, যার ফলে তিনি পঞ্চখণ্ড হরগোবিন্দ হাই স্কুলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্কুল ক্যাপ্টেন নির্বাচিত হয়েছিলেন। তখন থেকেই তিনি সামরিক শাসনামলে বেআইনি ঘোষিত গোপন ছাত্র আন্দোলন ও সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন। ষাটের দশকের শুরুতে সিলেট এমসি কলেজের ছাত্র থাকাকালে আইয়ুব খানের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় কর্মী হিসেবে তাঁর সংগ্রামী জীবনের সূচনা। সিলেটে সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনের প্রথম মিছিল ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী এবং সক্রিয় কর্মী ও সংগঠকদের মধ্যে তিনি একজন। তাঁর ভাষায়, 'সেই উত্তাল সময় ত্যাগী রাজনৈতিক কর্মীদের আকৃষ্ট করেছিল। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনটা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ। তার পরও সাহসী তারুণ্য দেশমাতৃকার প্রয়োজনে ঝাঁপিয়ে পড়ে।' এ সময় তিনি সিলেট জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং দুবার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্যও নির্বাচিত হন। সিলেট এমসি কলেজ ছাত্র সংসদেও নির্বাচিত হন পর পর দুইবার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর তিনি ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির পর্যায়ক্রমে সাংগঠনিক সম্পাদক, সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৭০ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন। জাতীয় পর্যায়ে ষাটের দশকের সামরিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, শিক্ষার দাবি ও অধিকার অর্জন এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা, গণতন্ত্র ও জাতীয় অধিকার প্রতিষ্ঠার সব আন্দোলনসহ মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত তৎকালীন গৌরবোজ্জ্বল ছাত্র আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি। ছয় দফা ও ১১ দফার ভিত্তিতে ১৯৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ ওই সময়ের সব আন্দোলন-সংগ্রামে একজন বিশিষ্ট ছাত্রনেতা এবং সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের সদস্য হিসেবে তিনি ছিলেন প্রথম সারিতে। নুরুল ইসলাম নাহিদ তৎকালীন বৃহৎ ছাত্রসংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করেন। মুক্তিযুদ্ধে ন্যাপ-সিপিবির সঙ্গে ছাত্র ইউনিয়নে সম্মিলিত গেরিলা বাহিনী সংগঠিত করার ক্ষেত্রে ছিল তাঁর প্রধান ভূমিকা। তাঁর মতে, 'মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ বামপন্থী রাজনৈতিক কর্মীদের জন্য খুব সহজ ছিল না। নানাভাবে চেষ্টা-তদবিরের পর আমাদের কর্মীদের জন্য আলাদা ট্রেনিং ও অস্ত্রের বন্দোবস্ত করতে হয়েছিল।' সে সময়ের একটি স্মৃতি আলাদা করে উল্লেখ করলেন নাহিদ। সেটি হলো, ১৯৭১ সালের ৬ মে দিল্লিতে তিনি বাঙালির মুক্তিসংগ্রাম নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে গণহত্যা ও প্রতিরোধ সংগ্রামের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর পর বাংলাদেশের কোনো নেতার এটাই ছিল এ ধরনের প্রথম সংবাদ সম্মেলন। তাঁর বক্তব্য দুনিয়ার সর্বত্র ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয় এবং আলোড়ন সৃষ্টি করে। স্বাধীনতাসংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের পটভূমি এবং সার্বিক পরিস্থিতির বিবরণ দিয়ে ১০ মে ১৯৭১ তিনি আন্তর্জাতিক ছাত্র ইউনিয়নসহ (আইইউএস) এবং বিশ্ব যুব ফেডারেশন (ডাব্লিউএফডিওয়াই) বিশ্বের সব আন্তর্জাতিক ছাত্র ও যুব সংগঠনের কাছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন ও সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানিয়ে চিঠি পাঠান। সারা বিশ্বের ছাত্র ও যুব সংগঠনগুলো দ্রুত বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সমর্থন জানিয়ে ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে। ১৯৭১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউরোপে তৎকালীন চেকোস্লোভাকিয়ার (বর্তমানে স্লোভাকিয়ার রাজধানী ব্রাতিস্লভায়) অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ছাত্র ইউনিয়নের (International Union of Students-IUS) দশম কংগ্রেসে এ দেশের ছাত্রসমাজের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেছিলেন এবং ওটঝ-এর নির্বাহী কমিটির সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। উল্লেখ্য, পাকিস্তানে এটাই ছিল একজন ছাত্রনেতার প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান। তিনি বাঙালি জাতির স্বাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরেন এবং সবাইকে সমর্থন করার আহ্বান জানান। তাঁরই উদ্যোগে সেই সম্মেলনে বাংলাদেশের জনগণের সংগ্রামের প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রস্তাব গৃহীত হয়। ফলে পরবর্তীকালে মুক্তিযুদ্ধের সময় বিশ্বের ছাত্র ও যুবসমাজের সমর্থনলাভ সহজ হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের মধ্য দিয়ে অর্জিত সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশকে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি নুরুল ইসলাম নাহিদ ও সাধারণ সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের নেতৃত্বে সারা দেশে ছাত্র ব্রিগেড গঠন করে সর্বক্ষেত্রে গঠনমূলক সৃজনশীল বহু কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছিল। তাঁদের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পর স্বাধীন বাংলাদেশে ছাত্র ইউনিয়ন সর্বশ্রেষ্ঠ ছাত্রসংগঠন হয়ে উঠেছিল। সে বছর ছাত্র সংসদ নির্বাচনে দেশের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে ছাত্র ইউনিয়ন জয় লাভ করেছে। স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর ১৯৭২ সালের ৯ থেকে ১১ এপ্রিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের ত্রয়োদশ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন প্রধান অতিথি এবং নুরুল ইসলাম নাহিদ ছিলেন এই সম্মেলনের সভাপতি। বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতে স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন ও লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য সব ছাত্রসংগঠনকে একটি সংগঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ঐতিহাসিক আহ্বান জানিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নের প্রয়োজনে তাঁর নিজ সংগঠন বিলুপ্ত করতেও প্রস্তুত আছেন বলে ঘোষণা দিয়ে এক অভূতপূর্ব সাড়া জাগিয়েছিলেন। দৈনিক সংবাদ থেকে জানা যায়, নাহিদ তখন বলেছিলেন, 'আমার এই ঐক্যের আহ্বানকে কেউ দুর্বলতা ভাববেন না, এটা আমাদের সংগঠনের দেশপ্রেমের তাগিদ থেকে উৎসারিত।' বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে নাহিদের ঐক্যের বক্তব্যকে ঐতিহাসিক বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। ১৯৭৩ সালের দিকে তিনি জাতীয় মূলধারার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) অন্যতম সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে সংগঠনের (সাংগঠনিক সম্পাদক) দায়িত্ব পালন করেন। যুবসমাজকে নতুন চেতনায় উদ্বুদ্ধ ও সংগঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৭৬ সালে গঠিত যুব সংগঠন বাংলাদেশ যুব ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠা করেন। সিপিবির আদর্শগত শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ সালে সিপিবির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছিলেন। সে সময় বিশ্বব্যাপী কমিউনিস্ট আন্দোলন মার খেলে তিনি সিপিবির রূপান্তরের উদ্যোগ নেন। নাহিদের ভাষায়, 'বাংলাদেশের বাস্তবতা ও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশ ও সমাজের সঙ্গে সংগতি রেখে জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে কমিউনিস্ট পার্টিকে রূপান্তরিত ও সংস্কারের কোনো বিকল্প ছিল না। পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতেই সেটা করা হয়। সে প্রক্রিয়ার এক পর্যায়ে ১৯৯৩ সালে অন্য সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগে যোগ দেন। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শিক্ষা সম্পাদক নির্বাচিত হন তিনি। নাহিদ দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন এবং মেহনতি মানুষের সংগ্রামে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-আন্দোলনের বিশিষ্ট নেতা হিসেবে তিনি জোটের লিয়াজোঁ কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। কিছু সময় তিনি লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেন। নব্বইয়ের দশকের প্রথম দিকে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধবিরোধী পাকিস্তানি বাহিনীর দালাল খুনি যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে শহীদজননী জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে গঠিত ঘাতক-দালাল নির্মূল জাতীয় সমন্বয় কমিটির সাত সদস্যের স্টিয়ারিং কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে ওই আন্দোলন ও গণ-আদালত সংগঠিত করাসহ নব্বইয়ের দশকে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ ও চেতনা পুনরুজ্জীবিত করার ঐতিহাসিক সংগ্রামে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। জাতীয় পর্যায়ে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নাহিদ সিলেটে নিজ এলাকার তৃণমূল মানুষের সঙ্গে কাজ শুরু করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি প্রথম সিলেট জেলার গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার (সিলেট-৬) আসন থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। জাতীয় সংসদে তিনি ওই সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে আবারও নির্বাচিত হলে তিনি সরকারের শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পান। নুরুল ইসলাম নাহিদ শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে (২০০৯-২০১৪) শিক্ষাক্ষেত্রে যুগান্তকারী পরিবর্তনসাধনে সক্ষম হয়েছেন। তাঁর উদ্যোগে প্রথমবারের মতো সব মহলের মতামতের ভিত্তিতে 'জাতীয় শিক্ষানীতি-২০১০' প্রণীত হয়। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আধুনিক বাংলাদেশের নির্মাতা হিসেবে প্রস্তুত করার জন্য, শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক পরিবর্তন করে বর্তমান যুগের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ শিক্ষা, জ্ঞান, প্রযুক্তি ও দক্ষতাসম্পন্ন দেশপ্রেমে উজ্জীবিত পরিপূর্ণ মানুষ তৈরির লক্ষ্যে শিক্ষাক্ষেত্রে মহাকর্মযজ্ঞ চলছে। শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন নতুন উদ্যোগ, শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা অভূত সাফল্য নিয়ে এসেছে। ভর্তি নীতিমালা বাস্তবায়ন, বছরের প্রথম দিনে বই উৎসবের মাধ্যমে সারা দেশে বিনা মূল্যের বই বিতরণ, যথাসময়ে ক্লাস শুরু, নির্দিষ্ট দিনে পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণ, ৬০ দিনে ফল প্রকাশ, সৃজনশীল পদ্ধতি, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম প্রতিষ্ঠা, সময়োপযোগী পাঠ্যক্রম প্রণয়ন, কারিগরি শিক্ষার প্রসার, শিক্ষক প্রশিক্ষণ, শিক্ষক নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা প্রভৃতি কার্যক্রমের ফলে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে। সমগ্র জাতির কাছে তা প্রশংসিত হয়েছে এবং বিশ্বসমাজে পেয়েছে স্বীকৃতি ও মর্যাদা। নির্লোভ এই রাজনীতিবিদের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে রাহুগ্রাসের দুর্নীতি হ্রাস পেয়েছে বলে দুর্নীতি দমন সংস্থা টিআইবি স্বীকৃতি দিয়েছে। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১৩ সালের নির্বাচনকালীন সর্বদলীয় সরকারের সংক্ষিপ্ত মন্ত্রিসভায়ও ঠাঁই পেয়েছিলেন। ২০১৪-এর ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাহিদ তৃতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। একই সঙ্গে অনিবার্যভাবে তিনি ফিরেছেন মন্ত্রিসভায়। নাহিদের এখনকার লক্ষ্য দেশের সামগ্রিক শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং তা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা। রাজনৈতিক জীবন এবং শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে সাফল্যকে কিভাবে দেখেন নাহিদ- এ প্রশ্নের জবাবে বলেন, 'আমি নগণ্য এক রাজনৈতিক কর্মী। দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করার চেষ্টা করছি। দেশের মানুষ এবং দলের প্রধান শেখ হাসিনা আমাকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, সর্বশক্তি দিয়ে তা পালন করার চেষ্টা করছি। আমৃত্যু তা করে যাব।' রাজনীতির বাইরে লেখালেখিই পছন্দ নুরুল ইসলাম নাহিদের। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে জাতীয় দৈনিকে নিয়মিত কলাম লিখতেন। আশির দশকে প্রকাশিত হয়েছে তাঁর দুটি রাজনৈতিক আদর্শের বই। প্রকাশিত অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে 'বাঙালি রুখে দাঁড়াও' (২০০৬), 'বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, লক্ষ্য ও সংগ্রাম' (২০০৭), 'রাজনীতির সুস্থধারা পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম' (২০০৯) এবং 'শিক্ষানীতি ও অন্যান্য প্রসঙ্গ' (২০০৯)। নাহিদের স্ত্রী জোহরা জেসমিন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা। দুই মেয়ে- নাদিয়া নন্দিতা ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং নাজিয়া সামান্থা ইসলাম একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা।