• ই-পেপার

\'বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক বর্তমানে শক্ত কাঠামোর ওপর দাঁড়িয়ে\'

এয়ারকন্ডিশন রুমে বসে বাজেট হচ্ছে : শওকত আজিজ রাসেল

অনলাইন ডেস্ক
এয়ারকন্ডিশন রুমে বসে বাজেট হচ্ছে : শওকত আজিজ রাসেল

বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেছেন, ‘টোটাল বাজেটটাই হচ্ছে এয়ারকন্ডিশন রুমে বসে। বাস্তবতার সঙ্গে তাদের কতটুকু সম্পর্ক আছে- এ নিয়ে আমি আশাহত।’

মঙ্গলবার (৯ জুন) কালের কণ্ঠ মাল্টিমিডিয়ার ‘দ বিজনেস রিভিউ শো’তে তিনি এসব কথা বলেন।

দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ মূল্যস্ফীতি, উচ্চ সুদের হার, উচ্চ রাজস্ব ঘাটতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সংকটে ভুগছে দেশের অর্থনীতি। এরই মধ্যে যাত্রা শুরু করেছে বর্তমান সরকার। ঘোষিত হতে যাচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বিশাল বাজেট।

বর্তমান অর্থনীতির সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘সংকটটা প্রকট। এর উৎপত্তি হয়- যখন অর্থনীতির সাইজ বড় হয়, পাশাপাশি কিন্তু লুটিংও বড় আকার নিতে থাকে। এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়- মনে করেন রাজকোষের টাকা গায়েব করে দেওয়া, সুইচ টিপে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা চলে যাওয়া, তারপর বিভিন্ন নামে-বেনামে টাকা বের করে নেওয়া...। এটার প্রতিফলনই কিন্তু ক্রমশ আজকে এই জায়গায়।’

তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার যখন এসছিলেন, তাদের অনেক কিছু করণীয় ছিল। আমরা ওগুলো কিন্তু ফ্ল্যাগ করেছি যে, আপনি এখন যদি প্রতিযোগিতামূলক বাজারে এই প্রটেকশনগুলো না দেন, তাহলে কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে আমাদের ফ্যাক্টরিগুলো ক্রমশ বন্ধ হবে এবং ঠিক তাই হয়েছে।’

বিটিএমএ সভাপতি বলেন, ‘জনগণের এখন প্রত্যাশা, একটা ভালো বাজেট হবে। এটা কিন্তু সবারই একটা প্রত্যাশা বা বিএনপি সবসময় ভালো বাজেট দিয়ে আসছে- এবারও নিশ্চয়ই ভালো হবে। কিন্তু হবে কোথা থেকে? আমরা তো প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পুরানো ডেট নিয়ে চলছি। এই ডেটগুলা কিন্তু আগামী বছরও থাকবে। বরং ক্রমশ আরো বড় হবে। তারপর আছে অনগোইং খরচা, যেগুলো আপনাকে করতেই হবে। গভমেন্টের যে এক্সপেন্সেস আছে, সেটা আপনি থামাতে পারছেন না। তাহলে গঠনমূলক কাজ বা টাকা, মানে সার্কুলেশনে ইনজেক্ট করার যে সুযোগ, ওই টাকাটা কোথায়?’

তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা এখন যে স্বপ্ন দেখছি, এতগুলো টাকা আসবে, এভাবে এভাবে খরচ করব- দিজ আর অল উশফুল থিংকিং। আপনার ফসল আসার আগেই আপনি ফসল বিক্রির প্ল্যান করে ফেলেছেন বা গাছে আম ধরার আগে আপনি বিক্রি করে ফেলেছেন ঘটনাটা এরকম দাঁড়ায়।’

তিনি আরো বলেন, ‘আপনি ক্যালকুলেটর নিয়ে বসছেন এসি রুমে। তত্ত্বাবধক সরকার অন্তত আমাদের ফ্যাক্টরিতে গিয়ে গ্যাসের মিটার চেক করছে। এইযে এত বড় বাজেট হচ্ছে, সরকারের কোনো অঙ্গ সংস্থান আমাদের ফ্যাক্টরিতে গিয়ে দেখেছে যে, চালু আছে না বন্ধ? এই ফ্যাক্টরি চালু করাটা ঠিক হবে কি হবে না? একে অর্থায়ন করা উচিত হবে কি হবে না? মনে করেন যে, গরু দুধ দেবে না, তাকে তো ঘাস খাইয়ে লাভ নাই। সেটা আপনি স্লটারিং-এর জন্য এলোকেট করেন। আর যে দুধ দেবে, তাকে আপনি ঘাস খাওয়ালে কিছু রিটার্ন পাবেন। কই এরকম কোনো অক্টিভিটিই দেখিনি।’

শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘টোটাল বাজেটটাই হচ্ছে এয়ারকন্ডিশন রুমে বসে। বাস্তবতার সঙ্গে তাদের কতটুকু সম্পর্ক আছে- আমি আশাহত। আমি মনে করি, এখানে কাজ করার সুযোগ আছে। আপনি ভালো ভালো প্রজেক্ট নিয়ে আসবেন, ভালো ভালো বাজেট দেবেন, ভালো ভালো সেক্টরে বাজেটের নাম্বার বাড়িয়ে দেবেন- এটা দেখতে সুন্দর লাগবে। কিন্তু মানুষ যখন খেতে পারবে না, চলতে পারবে না, ১০০ দিনে ৬০০ খুন- এটাই আপনার বাজেটের সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হওয়া উচিত। কেন কর্মসংস্থান নাই। কর্মসংস্থান না থাকলে এটা ক্রমশ আরো বাড়বে। আমরা হয়তো গাড়ি নিয়ে বের হতেও পারবো না। গাড়িগুলার পেট্রোল কেনার টাকা থাকে কিনা আমাদের সেটা নিয়ে ভাবতে হবে।’

বিগত অন্তর্বর্তী সরকার ইতিবাচক সাড়া দেয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের কথাবার্তাও সেভাবে কর্ণপাত করেনি। আমরা বহু প্রেস কনফারেন্স করেছি। আমরা কস্ট বেনিফিট এনালাইসিস করে দেখিয়েছি সরকারকে যে, আপনি যদি আমাকে এ সেক্টরকে সাপোর্ট দেন, আপনি ইনডাইরেক্ট রিটার্ন অনেক গুণ বেশি পাবেন। ওই কাজগুলো তখন করা হয়নি। সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ কখনোই নেয় না! সব আপনার ঘর যখন আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে যায়, তখন ফায়ার ব্রিগেড আসে।’

অন্তর্বর্তী সরকার কি অন্য ইস্যু নিয়ে বেশি ব্যস্ত ছিল - এমন প্রশ্নের উত্তরে শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘আমি তো তাই মনে করি। তখনও আমরা বলেছি যে, আপনারা অন্য জায়গায় বেশি ফোকাস করছেন, ইকোনমিতে ফোকাস করছেন না। তাদের তো লাইসেন্স একদিনে পাস হয়ে গেছে- যাদের যাদের লাইসেন্সের দরকার ছিল, ব্যবসার দরকার ছিল- সরকারে যে যেখানে ছিল তাদের সবকিছু কিন্তু দিনে দিনে হয়ে গেছে। আমাদের বেলা এসে বছর পার করে দিল, ১৮ মাস। ওইটারই একটা গোঁজা কিন্তু বর্তমান সরকার এখন বহন করছে।’

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিনের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূতের বৈঠক
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মুখপাত্র ড. মাহদী আমিনের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত মি. জোরিস ভ্যান বোমেলের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের বৈঠক।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিনের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত মি. জোরিস ভ্যান বোমেল দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন। 

আজ মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে নেদারল্যান্ডসের রাষ্ট্রদূত নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো সম্প্রসারণ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতে সহযোগিতা এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে কৃষি, মেরিটাইম খাত, টেক্সটাইল শিল্প, পানি ব্যবস্থাপনা এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ (অ্যাগ্রো-প্রসেসিং) বিষয়ে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে উভয় পক্ষ মতবিনিময় করে। নেদারল্যান্ডস প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের কৃষি খাতের উন্নয়নে তাদের আধুনিক প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করার আগ্রহ প্রকাশ করে। বিশেষ করে অ্যাগ্রো-প্রসেসিং, খাদ্য সংরক্ষণ, কৃষি মূল্য সংযোজন এবং কৃষিভিত্তিক শিল্প উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে আগ্রহ দেখানো হয়।

একই সঙ্গে প্রতিনিধিদলটি বাংলাদেশের শিক্ষা খাতে অগ্রগতি, নারীর ক্ষমতায়ন এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণের প্রশংসা করে। পাশাপাশি প্রাথমিক পর্যায়ের গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সাফল্যেরও ভূয়সী প্রশংসা করে তারা। পানি ব্যবস্থাপনা, নদী শাসন, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নেদারল্যান্ডসের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। এ খাতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে নেদারল্যান্ডস। এ ছাড়া বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও সহযোগিতার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়।

বৈঠকে মাহদী আমিন দেশের বেকারত্ব হ্রাস, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। তিনি তথ্য-প্রযুক্তি (আইটি), টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন, দক্ষতা ও কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি, উদ্ভাবনী শিল্প বিকাশ এবং ই-কমার্স খাতের সম্প্রসারণ বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরেন এবং প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে তরুণদের জন্য মাতৃভাষা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় ভাষা শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সম্পর্কেও আলোচনা করেন।

বৈঠকে উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করা, যৌথ ব্যাবসায়িক উদ্যোগ বৃদ্ধি, শিক্ষা বিনিময় কর্মসূচি সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান বিনিময় এবং ‘পিপল-টু-পিপল’ যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়ে একমত পোষণ করে।

বাংলাদেশ ও জার্মানি শক্তিশালী বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ক চায়

অনলাইন ডেস্ক
বাংলাদেশ ও জার্মানি শক্তিশালী বাণিজ্য ও কৌশলগত সম্পর্ক চায়

বাংলাদেশ ও জার্মানি আজ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। উভয় পক্ষই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো জোরদার করতে বর্ধিত বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার ওপর জোর দিয়েছে।

জার্মান ফেডারেল পররাষ্ট্র দপ্তরের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মহাপরিচালক ফ্রাঙ্ক হারমান এখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বৈঠক চলাকালীন সফররত কর্মকর্তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মান রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লটজ।

আলোচনার সময় উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও জার্মানির মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করে, যা তাদের মতে উভয় দেশের জন্য পারস্পরিক সুবিধা বয়ে এনেছে।

তারা বাণিজ্য, বিনিয়োগ, সরবরাহ শৃঙ্খল, দক্ষতা উন্নয়ন, অভিবাসন, জনগণের মধ্যে আদান-প্রদান এবং শান্তি ও নিরাপত্তায় সহযোগিতা বৈচিত্র্যময় ও শক্তিশালী করার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

হার্টম্যান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক প্রসারিত ও উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, শক্তিশালী অর্থনৈতিক সম্পর্ক অন্যান্য খাতে সহযোগিতাকে উৎসাহিত করতে পারে।

উভয় পক্ষ ক্রমবর্ধমান অংশীদারি আরো গতি আনতে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা এবং উচ্চ-পর্যায়ের সফর বিনিময়ের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেছে।

জার্মান কর্মকর্তা ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

শামা বহুপাক্ষিক পর্যায়ে সহযোগিতা জোরদার করার গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে শক্তিশালী ও টেকসই আন্তর্জাতিক মনোযোগ ও সমর্থনের প্রয়োজনীয়তার ওপর পুনরায় জোর দেন।

উভয় পক্ষ বৃহত্তর বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা সহজতর করতে বাংলাদেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের ওপর জোর দিয়েছে।

আলোচনায় আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ঘটনাবলিও উঠে আসে এবং উভয় দেশ শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অধিকতর আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ওপর জোর দেয়।

এর আগে, হার্টম্যান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা জোরদার করার উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন।

ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ বর্তমান সরকারের হাতেই নিরাপদ : অর্থমন্ত্রী

অনলাইন ডেস্ক
ইসলামী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ বর্তমান সরকারের হাতেই নিরাপদ : অর্থমন্ত্রী

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং বর্তমান সরকারের হাতেই সবচেয়ে নিরাপদ বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

জাতীয় সংসদে ব্যাংকটির বর্তমান পরিস্থিতি ও পরিচালনা পর্ষদ নিয়ে বিরোধী দলের আনা প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ব্যাংকটির গোড়াপত্তন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, তাই এর মর্যাদা ও আর্থিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার সর্বোচ্চ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠী ব্যাংকটিকে ব্যর্থ করার যে অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তা রুখে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইসলামী ব্যাংককে নিয়ে কোনো ধরনের ষড়যন্ত্র বা উচ্ছৃঙ্খলতা সহ্য করা হবে না।

মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের বিভিন্ন নোটিশের জবাব ও ব্যাংকিং খাতের সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

সংসদে বিরোধীদলীয় সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ইসলামী ব্যাংক থেকে অর্থ আত্মসাতের যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তার কোনো ভিত্তি নেই। কোনো কোনো বিরোধীদলীয় নেতা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে গোল্ড মেডেল দাবি করছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যারা অর্থ নিয়েছেন তারা তো কেউ নিজের নামে টাকা নেননি। এই পুরো বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছে বিগত নির্বাচন থেকে। আমরা দেখেছি, নির্বাচনে কিছু কিছু এলাকায় ক্যান্ডিডেটরা অবিশ্বাস্য রকমের টাকা খরচ করেছেন। এমন অনেক প্রার্থী ছিলেন, যাদের দৃশ্যমান কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য বা আয়ের উৎস জানা নেই, অথচ তারাও নির্বাচনে ৫০ থেকে ১০০ কোটি টাকা খরচ করেছেন। এই অবৈধ ও অপ্রদর্শিত অর্থ যখন রাজনীতিতে প্রবেশ করে, তখন তা গোটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।’

বিরোধী দলের আনা পিটিশনের বরাতে ব্যাংকের চেয়ারম্যানের সমালোচনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘বিরোধী দল চেয়ারম্যানের চরিত্র নিয়ে যেসব মন্তব্য করেছে তা সম্পূর্ণ তাদের নিজস্ব বিষয়। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি তদন্ত করে অনিয়মের কোনো প্রমাণ পায়নি।’

তিনি প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন, ‘বিশ্বের কোনো ব্যাংকের গ্রাহকই চেয়ারম্যানের নাম দেখে টাকা জমা রাখে না বা উত্তোলন করে না। গ্রাহকের মূল স্বার্থ থাকে তার আমানতের নিরাপত্তা ও সঠিক লভ্যাংশ পাওয়ার ওপর। তাই চেয়ারম্যান পরিবর্তনের কারণে ইসলামী ব্যাংক থেকে ২-৩ হাজার কোটি টাকা উত্তোলন হয়ে যাওয়ার যে দাবি বিরোধী দল করছে, তা অবান্তর। প্রকৃতপক্ষে ব্যাংকের ভেতরে ও বাইরে একটি উগ্র গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে মিছিল ও বিশৃঙ্খল কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এই উশৃঙ্খলতার সঙ্গে বিরোধী দলের আশঙ্কার একটি যোগসূত্র লক্ষ করা যাচ্ছে। মূলত কিছু অশুভ শক্তি ইসলামী ব্যাংকটিকে ব্যর্থ করে দিয়ে দেশের সামগ্রিক আর্থিক শৃঙ্খলা নষ্ট করতে চায় এবং এর মাধ্যমে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের অপচেষ্টা চালাচ্ছে।’

ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার একটি পরিসংখ্যান তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, “বিরোধী দল দাবি করছে যে ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী সময়ে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকের মুনাফা ১০৮ কোটি টাকা থেকে ১৩৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছিল। কিন্তু প্রকৃত চিত্র হলো, এটি ছিল মূলত ‘উইন্ডো ড্রেসিং’ বা কৃত্রিমভাবে দেখানো মুনাফা। খেলাপি ঋণের বিপরীতে বিশাল অংকের প্রভিশন পরবর্তী বছরের জন্য ডেফারেল বা স্থগিত সুবিধা নিয়ে এই মুনাফা দেখানো হয়েছিল। প্রকৃতপক্ষে ২০১৫ সালের (২০২৫ সালের) শেষে ইসলামী ব্যাংকের শ্রেণীকৃত ঋণ ৯৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা ব্যাংকের মোট ঋণ পোর্টফোলিওর ৫১ শতাংশ। ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর যেখানে ব্যাংকটি ৬৯ হাজার কোটি টাকার প্রভিশন ডেফারেল সুবিধা নিয়েছিল, সেখানে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৪ হাজার কোটি টাকায়। এর ফলে ২০২৬ সালের প্রথম দিকে ব্যাংকটি কোনো মুনাফা করতে পারেনি, উল্টো প্রায় ২৬৮ কোটি টাকা নিট লোকসান গুনেছে।”

তিনি আরো উল্লেখ করেন, বিগত স্বৈরশাসকের সময় যখন ইসলামী ব্যাংক জোরপূর্বক দখল করা হয়েছিল, তখনও সাধারণ গ্রাহকরা কিন্তু তাদের আমানত তুলে নেননি। সুতরাং এখন চেয়ারম্যান পরিবর্তনের কারণে গ্রাহকরা টাকা তুলে চলে যাচ্ছেন, এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য নয়। বাংলাদেশ ব্যাংক বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ব্যাংকটিকে তার প্রকৃত ও বৈধ মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার কাজ করছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই সংস্কার কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করার জন্য একটি রাজনৈতিক মহল দেশজুড়ে ‘মবোক্রেসি’ বা উশৃঙ্খলতার সংস্কৃতি তৈরি করতে চাচ্ছে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশকে অস্থিতিশীল করার যে প্রবণতা, তা রুখে দেওয়া হবে।

বর্তমান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, দেশের সর্বস্তরের মানুষ এবং বেসরকারি খাত মনে করে দীর্ঘদিন পর একজন যোগ্য গভর্নর দায়িত্ব পেয়েছেন, যিনি নিয়মনীতির মধ্যে থেকে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন। তাকে ঋণগ্রস্ত বলে যারা খাটো করার চেষ্টা করছেন, তারা মূলত ভালো কাজকে স্বীকৃতি দিতে চান না। সংসদে উপস্থিত প্রায় সব সদস্যই কোনো না কোনোভাবে গাড়ি, বাড়ি বা ব্যবসার প্রয়োজনে ব্যাংকের কাছে ঋণগ্রস্ত। সুতরাং ঋণ থাকা কোনো অপরাধ নয়।