বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেছেন, ‘টোটাল বাজেটটাই হচ্ছে এয়ারকন্ডিশন রুমে বসে। বাস্তবতার সঙ্গে তাদের কতটুকু সম্পর্ক আছে- এ নিয়ে আমি আশাহত।’
মঙ্গলবার (৯ জুন) কালের কণ্ঠ মাল্টিমিডিয়ার ‘দ বিজনেস রিভিউ শো’তে তিনি এসব কথা বলেন।
দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ মূল্যস্ফীতি, উচ্চ সুদের হার, উচ্চ রাজস্ব ঘাটতি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সংকটে ভুগছে দেশের অর্থনীতি। এরই মধ্যে যাত্রা শুরু করেছে বর্তমান সরকার। ঘোষিত হতে যাচ্ছে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বিশাল বাজেট।
বর্তমান অর্থনীতির সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘সংকটটা প্রকট। এর উৎপত্তি হয়- যখন অর্থনীতির সাইজ বড় হয়, পাশাপাশি কিন্তু লুটিংও বড় আকার নিতে থাকে। এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়- মনে করেন রাজকোষের টাকা গায়েব করে দেওয়া, সুইচ টিপে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে টাকা চলে যাওয়া, তারপর বিভিন্ন নামে-বেনামে টাকা বের করে নেওয়া...। এটার প্রতিফলনই কিন্তু ক্রমশ আজকে এই জায়গায়।’
তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার যখন এসছিলেন, তাদের অনেক কিছু করণীয় ছিল। আমরা ওগুলো কিন্তু ফ্ল্যাগ করেছি যে, আপনি এখন যদি প্রতিযোগিতামূলক বাজারে এই প্রটেকশনগুলো না দেন, তাহলে কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে আমাদের ফ্যাক্টরিগুলো ক্রমশ বন্ধ হবে এবং ঠিক তাই হয়েছে।’
বিটিএমএ সভাপতি বলেন, ‘জনগণের এখন প্রত্যাশা, একটা ভালো বাজেট হবে। এটা কিন্তু সবারই একটা প্রত্যাশা বা বিএনপি সবসময় ভালো বাজেট দিয়ে আসছে- এবারও নিশ্চয়ই ভালো হবে। কিন্তু হবে কোথা থেকে? আমরা তো প্রায় ২০ থেকে ৩০ শতাংশ পুরানো ডেট নিয়ে চলছি। এই ডেটগুলা কিন্তু আগামী বছরও থাকবে। বরং ক্রমশ আরো বড় হবে। তারপর আছে অনগোইং খরচা, যেগুলো আপনাকে করতেই হবে। গভমেন্টের যে এক্সপেন্সেস আছে, সেটা আপনি থামাতে পারছেন না। তাহলে গঠনমূলক কাজ বা টাকা, মানে সার্কুলেশনে ইনজেক্ট করার যে সুযোগ, ওই টাকাটা কোথায়?’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমরা এখন যে স্বপ্ন দেখছি, এতগুলো টাকা আসবে, এভাবে এভাবে খরচ করব- দিজ আর অল উশফুল থিংকিং। আপনার ফসল আসার আগেই আপনি ফসল বিক্রির প্ল্যান করে ফেলেছেন বা গাছে আম ধরার আগে আপনি বিক্রি করে ফেলেছেন ঘটনাটা এরকম দাঁড়ায়।’
তিনি আরো বলেন, ‘আপনি ক্যালকুলেটর নিয়ে বসছেন এসি রুমে। তত্ত্বাবধক সরকার অন্তত আমাদের ফ্যাক্টরিতে গিয়ে গ্যাসের মিটার চেক করছে। এইযে এত বড় বাজেট হচ্ছে, সরকারের কোনো অঙ্গ সংস্থান আমাদের ফ্যাক্টরিতে গিয়ে দেখেছে যে, চালু আছে না বন্ধ? এই ফ্যাক্টরি চালু করাটা ঠিক হবে কি হবে না? একে অর্থায়ন করা উচিত হবে কি হবে না? মনে করেন যে, গরু দুধ দেবে না, তাকে তো ঘাস খাইয়ে লাভ নাই। সেটা আপনি স্লটারিং-এর জন্য এলোকেট করেন। আর যে দুধ দেবে, তাকে আপনি ঘাস খাওয়ালে কিছু রিটার্ন পাবেন। কই এরকম কোনো অক্টিভিটিই দেখিনি।’
শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘টোটাল বাজেটটাই হচ্ছে এয়ারকন্ডিশন রুমে বসে। বাস্তবতার সঙ্গে তাদের কতটুকু সম্পর্ক আছে- আমি আশাহত। আমি মনে করি, এখানে কাজ করার সুযোগ আছে। আপনি ভালো ভালো প্রজেক্ট নিয়ে আসবেন, ভালো ভালো বাজেট দেবেন, ভালো ভালো সেক্টরে বাজেটের নাম্বার বাড়িয়ে দেবেন- এটা দেখতে সুন্দর লাগবে। কিন্তু মানুষ যখন খেতে পারবে না, চলতে পারবে না, ১০০ দিনে ৬০০ খুন- এটাই আপনার বাজেটের সবচেয়ে বড় চিন্তার বিষয় হওয়া উচিত। কেন কর্মসংস্থান নাই। কর্মসংস্থান না থাকলে এটা ক্রমশ আরো বাড়বে। আমরা হয়তো গাড়ি নিয়ে বের হতেও পারবো না। গাড়িগুলার পেট্রোল কেনার টাকা থাকে কিনা আমাদের সেটা নিয়ে ভাবতে হবে।’
বিগত অন্তর্বর্তী সরকার ইতিবাচক সাড়া দেয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের কথাবার্তাও সেভাবে কর্ণপাত করেনি। আমরা বহু প্রেস কনফারেন্স করেছি। আমরা কস্ট বেনিফিট এনালাইসিস করে দেখিয়েছি সরকারকে যে, আপনি যদি আমাকে এ সেক্টরকে সাপোর্ট দেন, আপনি ইনডাইরেক্ট রিটার্ন অনেক গুণ বেশি পাবেন। ওই কাজগুলো তখন করা হয়নি। সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ কখনোই নেয় না! সব আপনার ঘর যখন আগুনে পুড়ে শেষ হয়ে যায়, তখন ফায়ার ব্রিগেড আসে।’
অন্তর্বর্তী সরকার কি অন্য ইস্যু নিয়ে বেশি ব্যস্ত ছিল - এমন প্রশ্নের উত্তরে শওকত আজিজ রাসেল বলেন, ‘আমি তো তাই মনে করি। তখনও আমরা বলেছি যে, আপনারা অন্য জায়গায় বেশি ফোকাস করছেন, ইকোনমিতে ফোকাস করছেন না। তাদের তো লাইসেন্স একদিনে পাস হয়ে গেছে- যাদের যাদের লাইসেন্সের দরকার ছিল, ব্যবসার দরকার ছিল- সরকারে যে যেখানে ছিল তাদের সবকিছু কিন্তু দিনে দিনে হয়ে গেছে। আমাদের বেলা এসে বছর পার করে দিল, ১৮ মাস। ওইটারই একটা গোঁজা কিন্তু বর্তমান সরকার এখন বহন করছে।’



