নাসার পরীক্ষামূলক উড়োজাহাজ এক্স-৫৯ প্রথমবারের মতো শব্দের গতির চেয়ে বেশি গতিতে উড়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক অর্জন করেছে। গত ৫ জুন অনুষ্ঠিত পরীক্ষামূলক উড্ডয়নে বিমানটি সফলভাবে সুপারসনিক বা শব্দের গতির চেয়ে দ্রুত গতিতে পৌঁছায়। নাসা বলছে, উড্ডয়নের পুরো সময়জুড়েই উড়োজাহাজটি প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করেছে।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, এই পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন ছিল ৮১ মিনিটের। উড্ডয়নের একপর্যায়ে এক্স-৫৯ ম্যাক ১ দশমিক ১ গতিতে পৌঁছে। অর্থাৎ বিমানটি ঘণ্টায় প্রায় ৭১৩ মাইল বেগে উড়ছিল। সে সময় এর উচ্চতা ছিল ৪৩ হাজার ৪০০ ফুট।
সাধারণত শব্দের গতির চেয়ে বেশি গতিতে উড়লে বিমান থেকে প্রচণ্ড শব্দ বা ‘সনিক বুম’ সৃষ্টি হয়। কিন্তু এক্স-৫৯ এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে এটি অতিদ্রুত গতিতে উড়লেও বড় বিস্ফোরণের মতো শব্দ না করে তুলনামূলকভাবে অনেক কম শব্দ তৈরি করে। এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক বিমান চলাচলে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পরীক্ষার সময় বিমানটি পরিচালনা করেন নাসার পরীক্ষামূলক পাইলট জিম ক্লু লেস। তিনি বলেন, শব্দের গতির চেয়ে বেশি গতিতে উড়লেও তিনি শারীরিকভাবে কোনো বিশেষ পরিবর্তন অনুভব করেননি।
লেস বলেন, ককপিটের যন্ত্রপাতি দেখেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে তিনি শব্দের গতির চেয়ে দ্রুত উড়ছেন। তবে তিনি আলাদাভাবে কিছুই অনুভব করেননি।
তিনি আরো বলেন, উড্ডয়নের পুরো প্রক্রিয়া খুবই মসৃণ ছিল। ফলে সহজেই ম্যাক ১ দশমিক ১ গতিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে।
এই পরীক্ষার সময় নাসার একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান এক্স-৫৯–এর কাছাকাছি অবস্থান করে উড্ডয়ন পর্যবেক্ষণ করে। তবে এফ-১৫–এর শক্তিশালী ইঞ্জিনের শব্দের কারণে এক্স-৫৯ কোনো শব্দ তৈরি করে থাকলেও সেটি আলাদাভাবে শোনা সম্ভব হয়নি।
নাসা জানিয়েছে, পরীক্ষার পরবর্তী ধাপে এক্স-৫৯ ঠিক কতটা শব্দ তৈরি করে, তা নিয়ে বিস্তারিত পরীক্ষা চালানো হবে। গবেষকরা বিশেষভাবে দেখতে চান, বিমানটি প্রচলিত সুপারসনিক বিমানের তুলনায় কতটা কম শব্দ সৃষ্টি করতে পারে।
শব্দের গতির চেয়ে দ্রুত উড্ডয়ন পরীক্ষার আনুষ্ঠানিক সূচনা হওয়ার পর এখন এক্স-৫৯–এর সামনে রয়েছে আরও বড় একটি ধাপ। সেটি হলো প্রথম ‘মিশন কন্ডিশনস’ উড্ডয়ন।
এই পরীক্ষায় বিমানটি ভবিষ্যতের নির্ধারিত গতি ও উচ্চতায় উড়বে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এক্স-৫৯ তখন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকার ওপর দিয়ে উড্ডয়ন করবে। মাটিতে থাকা মানুষের কাছ থেকে বিমানটির শব্দ কতটা শোনা যায় এবং তা কতটা বিরক্তিকর মনে হয়, সে বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
এই পরীক্ষার সময় বিমানটির গতি হবে ম্যাক ১ দশমিক ৪, যা ঘণ্টায় প্রায় ৯২৫ মাইল। একই সঙ্গে এটি ৫৫ হাজার ফুট উচ্চতায় উড়বে।
পাইলট জিম লেস বলেন, বিমানটি আরো বেশি গতিতে উড়তে সক্ষম। সেই পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করছেন তারা।'
এক্স-৫৯ হলো নাসার 'কুয়েস্ট' মিশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প। এই মিশনের লক্ষ্য হলো কম শব্দ সৃষ্টি করে অতিদ্রুত উড্ডয়ন সম্ভব কি না, তা প্রমাণ করা। পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্থলভাগের ওপর দিয়ে বাণিজ্যিক সুপারসনিক বিমান চলাচলের সুযোগ তৈরি করাও এই প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।
সাম্প্রতিক এই উড্ডয়ন আরেকটি কারণে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। কারণ প্রথমবারের মতো নাসার ফ্লাইট ট্র্যাকারেও এক্স-৫৯–এর উড্ডয়ন সরাসরি দেখা গেছে। ফলে গবেষক ও বিমানপ্রযুক্তি–সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও এই পরীক্ষামূলক উড্ডয়নের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ পেয়েছেন।








