English

অনলাইন

আজকের পত্রিকা

ফিচার

সম্পাদকীয়

পটুয়াখালী-৩ আসন

আওয়ামী লীগ-বিএনপিতে আলোচনায় ‘হঠাৎ প্রার্থী’

সপ্তাহ আগেও মানুষ ভাবতে পারেনি সাজু আর রনির কথা

  • এমরান হাসান সোহেল ও সাইমুন রহমান এলিট, পটুয়াখালী   
  • ২৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০

পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনে বড় দুই দলের প্রার্থী মনোনয়ন সবার চিন্তাভাবনাকে ছাপিয়ে গেছে। সপ্তাহখানেক আগেও মানুষ যা ভাবেনি সে সিদ্ধান্তই দিয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে তারা এই আসনে এমন দুজন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে, যা নিয়ে এলাকার মানুষ বিস্মিতও। দশমিনা আর গলাচিপায় বিভিন্ন আড্ডা আর চায়ের টেবিলে আওয়ামী লীগের নমিনেশন পাওয়া নতুন মুখ এস এম শাহাজাদা সাজু আর বিএনপির তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে নমিনেশন পাওয়া গোলাম মাওলা রনিকে নিয়ে এখন আলোচনার ঝড় বইছে।

কারো প্রশ্ন, শাহাজাদা সাজু কখনো আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেননি, তিনি কী করে আওয়ামী লীগের টিকিট পেলেন? এর জবাবে অনেকে বলছেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নুরুল হুদার কারণেই এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন তাঁর ছোট বোন সকিনা বেগমের ছেলে শাহাজাদা সাজু। আবার কেউ বলছেন, দলে যাঁরা দীর্ঘদিন এমপি ছিলেন, তাঁরা দলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করেননি, এ কারণে নতুন লোককে নমিনেশন দিয়েছে দল।

কারণ আর যুক্তি খোঁজার মধ্যে অনেকে বলছেন, যে কখনো আওয়ামী লীগ করেননি তাঁকে দলের নমিনেশন দেওয়া ঠিক হয়নি। কারণ আওয়ামী লীগের আরো প্রার্থী ছিল। দল এ রকম নমিনেশন দিলে মানুষ কেন রাজনীতি করবে। আবার কারো কারো আলোচনা এমন যে যেহেতু আসনটি আওয়ামী লীগের দুর্গ হিসেবে খ্যাত সে কারণে এখানে আওয়ামী লীগের যে কেউ প্রার্থী হলেই জয়লাভ করবে।

গতকাল মঙ্গলবার দলীয় নমিনেশন নিয়ে সাজু এলাকায় আসেন। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তাঁর সঙ্গে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে গিয়ে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়েছে। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ায় এর আগে পৌর মঞ্চে তাঁকে উপজেলা আওয়ামী লীগ সংবর্ধনা দেয়। গলাচিপা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সন্তোষ কুমার দে বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা নৌকার প্রার্থী যাঁকে করেছেন আমরা তাঁর জন্য কাজ করব। এ নিয়ে কোনো বিরোধ নেই। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মস্তফা টিটোও বলেন প্রায় একই কথা। শাহাজাদা সাজু বলেন, এটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য, তরুণ নেতৃত্বের প্রতি জননেত্রী শেখ হাসিনার আস্থা। এ কারণেই আমি নমিনেশন পেয়েছি।

এ আসনে আওয়ামী লীগের নমিনেশন ফরম জমা দিয়েছেন ২২ জন। এঁরা হলেন বর্তমান সংসদ সদস্য ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইন, সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মাওলা রনি, দশমিনা উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা শাখাওয়াত হোসেন শওকত, জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক কাজী আলমগীর হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট ফোরকান মিয়া, কেন্দ্রীয় যুবলীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষায়ক সম্পাদক কামরান শহিদ প্রিন্স মহব্বাত, এস এম শাহজাদা সাজু, আওয়ামী লীগ নেতা ও দশমিনার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দুল আজিজ, আওয়ামী লীগ নেতা ডা. মো. শাহজাহান, মো. শাহ আলম হাওলাদার, এ কে এম ফজলুল হক, জেলা কৃষক লীগ সভাপতি মো. তসলিম সিকদার, মো. হিরন আহমেদ, ইদ্রিস মিয়া, মো. সোহেল, আশরাফ হাওলাদার, মো. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা আরিফুর রহমান টিটু, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফা নান্টু, আওয়ামী লীগ নেতা মো. আবুল বরকত, রাজু আহমেদ ও ইকবাল মাহমুদ লিটন।

পক্ষান্তরে একই ধরনের আলোচনার ঝড় বইছে বিএনপির নমিনেশন নিয়েও। পাঁচ বছর আগেও (২০০৮-১৩ পর্যন্ত) এই আসনে আওয়ামী লীগের এমপি ছিলেন গোলাম মাওলা রনি। একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগে প্রার্থিতা পেতে দলের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে গেছেন। সর্বশেষ আওয়ামী লীগের নমিনেশন বঞ্চিত হয়ে সোমবার বিএনপিতে যোগ দিয়ে এক ঘণ্টার মধ্যে ধানের শীষের প্রার্থী ঘোষিত হয়েছেন রনি। অথচ এর আগের দিন বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি হাসান মামুন এবং এই আসনের সাবেক সংসদ সদস্য, পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সহসভাপতি শাজাহান খানের নাম মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়। দলের আকস্মিক নতুন সিদ্ধান্তে হতাশ বিএনপি সমর্থকরা। জনে জনে এখন আলোচনা হচ্ছে, এটা কেমন সিদ্ধান্ত হলো। যাঁরা দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতি করেছেন, মাঠঘাটে নির্বাচনী এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড করেছেন; তাঁদের বাদ দিয়ে রনিকে নমিনেশন দেওয়া ঠিক হয়নি। এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা উচিত বিএনপির।

তবে দলটির কোনো কোনো নেতাকর্মী বলছে, প্রার্থী যেই হোক ধানের শীষের পক্ষে তারা কাজ করবে। তবে মামুনকে যদি প্রার্থী করা হয়, দলের কর্মীরা অনেক বেশি উজ্জীবিত হবে, দলের জন্য নিবেদিত হয়ে কাজ করবে। কারণ তিনি দলের পরীক্ষিত লোক। তারা আশাবাদী শেষ পর্যন্ত মামুনকেই করা হবে দলীয় প্রার্থী। এসব আলোচনায় সরব গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলার সাধারণ মানুষসহ দুই দলের নেতাকর্মীরা। চলছে নানা বিশ্লেষণও।

এ আসনে বিএনপির নমিনেশন ফরম জমা দিয়েছেন চারজন। এঁরা হলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন, জেলা বিএনপির সহসভাপতি শাহজাহান খান, গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফা ও মফিজুর রহমান মফিজ।

দশমিনা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফখরুজ্জামান বাদল বলেন, পটুয়াখালী-৩ আসনে তিনজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে হাসান মামুন বেশি গ্রহণযোগ্য ও জনপ্রিয়। চূড়ান্তভাবে তাঁকে দলীয় প্রার্থী না করলে দল ভুল করবে। কারণ জয়লাভের ক্ষেত্রে প্রার্থী একটা বড় ব্যাপার। গলাচিপা উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মাকসুদ আলম তালুকদার বলেন, প্রার্থী যাঁকেই করা হোক আমরা ধানের শীষের পক্ষে কাজ করব। তবে দলের জন্য যাঁরা এত দিন কাজ করেছেন তাঁরা প্রার্থী হলে বেশি ভালো হয়।

খবর- এর আরো খবর