kalerkantho

জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া

সিঁড়ি ভেঙে ভেঙে

‘ভোগ’-এর প্রচ্ছদ হয়েছেন জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া। সফল এই নারীকে নিয়ে লিখেছেন মীর রাকিব হাসান

৮ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



সিঁড়ি ভেঙে ভেঙে

২০০৭ সালে মিস বাংলাদেশ হয়েছিলেন পিয়া। পরের বছর শুরু করেন ক্যাটওয়াক। বেশ কিছু আন্তর্জাতিক শোতে অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন। এই শোগুলোর মধ্যে আছে জার্মানির টপ মডেল অব দ্য ওয়ার্ল্ড, দক্ষিণ কোরিয়ার মিস ইউনিভার্সিটি ও মিস ইন্ডিয়ান প্রিন্সেস ইন্টারন্যাশনাল ২০১৩। সব শেষে ২০১৬ সালে ‘ভোগ’ ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদে দেখা যায় তাঁকে। সর্বশেষ অর্জনটি পিয়ার কাছে বিশেষ কিছু, ‘ভোগের প্রচ্ছদে মডেল হওয়া আমার জন্য বড় একটা ব্যাপার ছিল, যা একজন মডেলের পরিচিতি অনেকটা বাড়িয়ে দেয়। সেখানে আমার সুযোগ পাওয়াটা ছিল দারুণ। তারা আমাকে বাংলাদেশের সেরা মনে করেছিল। এই মনে করাটাও আমার জন্য অনেক বড় প্রাপ্তি ছিল।’

এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের পণ্যদূত। পিয়া মনে করেন, এই কাজগুলোও তাঁর আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়িয়েছে। ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের নামি ব্র্যান্ডগুলো অ্যাম্বাসাডর খুঁজতে গিয়ে প্রথমেই ক্রিকেটারদের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করে। তাঁদের বিশ্ব্যব্যাপী একটা ফেস ভ্যালু আছে। এর পরে কিন্তু খুব একটা দেখা যায় না। বর্তমান সময়ে তাহসান ভাইকেও কাউন্ট করে। তা ছাড়া মেয়েদের মধ্যে দেখবেন, আমি ছাড়া খুব কমজনই বিশ্বখ্যাত পণ্যগুলোর জন্য ডাক পায়। এটা আমার কাছে বড় প্রাপ্তি।’

গেল বছর একটা অন্য রকম কাজও করেছেন পিয়া—বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ ক্রিকেটের উপস্থাপনা। সারা দুনিয়ায় প্রচারিত এই লীগে কাজ করাকে নিজের প্রসার হিসেবেই দেখছেন তিনি। ধারাবাহিকভাবে দেশে-বিদেশে টানা সফলতার মন্ত্র কী? ‘আগে যখন কাজ করতাম, তখন অনেক অনেক কাজ করার চেষ্টা করতাম। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে কেউ বেছে কাজ করতে পারে না। কিন্তু এখন অনেক বেছে কাজ করতে হয়। একটার চেয়ে আরেকটা বেটার বা সমান না হলে করি না। নিচে নামা সম্ভব হয় না। ভালো জায়গাটা ধরে রাখার প্রয়াস সব সময় থাকে। এভাবেই ওপরে উঠতে চাই।’

প্রত্যেক সফল ব্যক্তির পেছনে কোনো না কোনো কষ্টের গল্প থাকে। পিয়ার গল্পটা কী? বললেন, ‘আমার ক্যারিয়ারে এখনো স্ট্রাগল চলছে।’ একটু সময় নিয়ে ভাঙলেন পুরোটা, ‘মডেল বা অভিনেত্রী হওয়ার আশায় যখন খুলনা থেকে ঢাকায় আসি, তখন বয়স মাত্র ১৬ বছর। কোনো এক সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, এ পর্যন্ত আপনার সবচেয়ে সাহসী পদক্ষেপ কী? এটার কথাই বলেছিলাম। এই পদক্ষেপ নিয়ে আমি জয়ী হয়েছি। যদিও ঢাকায় আসার পর বাবা আমার সঙ্গে তিন বছর কথা বলেননি।’


মন্তব্য