kalerkantho

তানজিমা হাশেম

গোপন কথাটি গোপনই থাকবে

৮ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



গোপন কথাটি গোপনই থাকবে

ওডাব্লিউএসডি-ইলসেইভার ফাউন্ডেশন পুরস্কার অনুষ্ঠানে

কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক তানজিমা হাশেম। তিনি কাজ করেছেন কম্পিউটারনির্ভর এমন এক প্রযুক্তি নিয়ে, যা ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষায় সহায়ক হবে। এটা তাঁকে এনে দিয়েছে আন্তর্জাতিক পুরস্কার। লিখেছেন লতিফুল হক

 

ওডাব্লিউএসডি-ইলসেইভার ফাউন্ডেশন পুরস্কার দেওয়া হয় উন্নয়নশীল দেশের পাঁচ নারী গবেষককে। ২০১৭ সালে এই পুরস্কার পান বাংলাদেশের তানজিমা হাশেম। অন্য চার পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তি হলেন ইকুয়েডরের চিম্বোরাজো ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির মারিয়া ফার্নান্দা রিভেরা ভেলাস্কেজ, ইন্দোনেশিয়ার সুরাবায়ার উইদিয়া মান্দালা ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটির ফেলিসিয়া এডি সোয়েতারেদজো, ঘানার ইউনিভার্সিটি অব মাইনস অ্যান্ড টেকনোলজির গ্রাস অফোরি-সারপং এবং সুদান ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির রানিনা মুখতার। সবাই নিজ নিজ দেশে উদ্ভাবনী কাজের স্বীকৃতি পেয়েছেন।

তানজিমা হাশেম বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক। কাজ করতে করতে তাঁর মনে হয় এমন একটি বিষয় নিয়ে কাজ করার, যা উন্নয়নশীল দেশের প্রেক্ষাপটে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ‘স্বাস্থ্য, অভ্যাস, অবস্থান ইত্যাদি সংবেদনশীল বিষয়। অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের সেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে অনেক সময়ই গোপনীয়তা রক্ষা করা যায় না। তাই এ ধরনের একটি প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করা শুরু করি,’ বলেন তানজিমা। নিজের কাজের ধরন সম্পর্কে উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘ধরুন জিপিএস প্রযুক্তির কথা। এটা নানা ক্ষেত্রে আমাদের উপকার করেছে, কিন্তু একইভাবে ব্যক্তিগত গোপনীয়তাও নষ্ট করেছে। আমার কাজ এই সেবার বিরুদ্ধে নয়, বরং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ঠিক রেখেই কিভাবে সেবা দেওয়া যায় সেটার চেষ্টা করেছি।’ নিজের কাজের গুরুত্ব সম্পর্কে তানজিমা আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের নারীদের জন্য এটা খুবই কাজের হবে। নারীরা রাস্তাঘাটে, গণপরিবহনসহ নানা জায়গায় প্রায়ই হয়রানির শিকার হয়। কিন্তু সামাজিক মর্যাদাহানির ভয়সহ নানা কারণেই তারা সেসব ঘটনা প্রকাশ্যে আনে না। গোপনীয়তা নিশ্চিত করা গেলে নারী মুখ খুলবে, এ ধরনের ঘটনাও কমে আসবে। এ ছাড়া লাভবান হবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। উন্নয়নশীল দেশে চাকরি হারানোর ভয়ে তারা ওপরের কর্মকর্তাদের সম্পর্কে মুখ খুলতে ভয় পায়। ফলে প্রতিষ্ঠান তাদের মূল্যায়ন জানতে পারে না। গোপনীয়তা রক্ষা করা গেলে এ ক্ষেত্রেও ভালো ফল পাওয়া যাবে।’ তানজিমা এই কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পাঁচ হাজার ডলার অর্থ পুরস্কার পান।

আয়োজক প্রতিষ্ঠানের সভাপতি জেনিফার টমসন তাঁদের উদ্যোগ সম্পর্কে বলেন, ‘এই পাঁচ নারী তাঁদের আগ্রহ, প্রচেষ্টা ও একাগ্রতা দিয়ে আমাদের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে আছেন। এ ছাড়া উন্নয়নশীল দেশের নারীরা, যাঁরা গবেষণাকাজে নিয়োজিত, তাঁদের জন্যও এটা অনুপ্রেরণা। এই পুরস্কারের মাধ্যমে তাঁদের পরিশ্রমকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।’ কাজের বাইরে খুবই সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত তানজিমা। ভালোবাসেন পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে। সবচেয়ে ভালো লাগে মেয়ে তানিশার সঙ্গে সময় কাটাতে। আর ভালো লাগে ঘুরতে। সময় পেলেই দুনিয়ার নানা প্রান্ত ঘুরে দেখতে চান।



মন্তব্য