kalerkantho

মজার বিজ্ঞান

খাঁচায় বন্দি পাখি

নাবীল আল জাহান   

৯ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



খাঁচায় বন্দি পাখি

যা যা লাগবে : কাগজ, পেনসিল বা কলম, সুতো।

 

খাঁচার পাখি আর বনের পাখি নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের একটি বিখ্যাত কবিতা আছে, নাম ‘দুই পাখি’। ‘সোনার তরী’ কাব্যের কবিতাটিতে এক খাঁচার পাখির সঙ্গে বন্ধুত্ব হয় এক বনের পাখির। এখন আবার পাখিকে খাঁচায় বন্দি করে রাখার ব্যাপারে অনেকেরই আপত্তি আছে। তাদের মতে, পাখি মুক্ত আকাশের প্রাণী, তাদের মুক্ত আকাশেই উড়তে দেওয়া উচিত। ভয় নেই, বিজ্ঞানের এই জাদুতে সত্যিকারের কোনো পাখিকে খাঁচায় বন্দি করার ঝক্কি নেই। কাগজে আঁকা খাঁচায় বন্দি হবে কাগজে আঁকা একটি পাখি। তবে মজাটা হলো, খাঁচা আর পাখি আঁকা হবে আলাদা দুটি কাগজে। তারপর বিজ্ঞানের ভেলকিতে সেই খাঁচার ভেতরেই টুক করে ঢুকে পড়বে পাখিটি।

কাজটি খুবই সোজা। প্রথমে একটি কাগজে একটি পাখি আঁকতে হবে। তারপর আরেকটি কাগজে আঁকতে হবে খাঁচা। শুধু খেয়াল করতে হবে, খাঁচাটি যেন পাখিটির চেয়ে বড় হয়। নইলে তো পাখিটি খাঁচায় আটবেই না! বাকি কাজটুকু আরো সহজ। পাখি আর খাঁচা আঁকা কাগজ দুটিতে সমান দূরত্বে দুটি ফুটো করতে হবে, যাতে কাগজ দুটি একসঙ্গে ধরলে ফুটো দুটি একসঙ্গে থাকে। এবার কাগজ দুটি এমনভাবে পিঠাপিঠি করে ধরতে হবে, যাতে এক পাশে থাকে পাখির ছবি, আরেক পাশে খাঁচার। তারপর ফুটো দুটি দিয়ে একটি সুতা গলিয়ে দিতে হবে। ব্যস, এবার একসঙ্গে করা কাগজ দুটি দড়ির দুই মাথা ধরে স্পিনারের মতো ঘোরালেই দেখা যাবে জাদু—পাখিটি খাঁচার ভেতরে ঢুকে গেছে!

ব্যাপারটি ভোজবাজির মতো মনে হলেও পেছনের বিজ্ঞানটুকু খুবই সহজ। মানুষ যা কিছু দেখে, চোখে তার ছবি ধরা পড়ার জন্য অন্তত সেকেন্ডের ১৬ ভাগের এক ভাগ সময় পর্যন্ত ওটি থাকা জরুরি। যখনই কোনো কিছু এর চেয়েও দ্রুত পরিবর্তিত হতে থাকে, তখনই ভেলকি লেগে যায়। চোখ আর ছবিগুলো আলাদা করে চিহ্নিত করতে পারে না। আর তাই পাখি আর খাঁচার ছবি দুটি যখন এর চেয়েও দ্রুত বদলাতে থাকে, চোখ ছবি দুটিকে আলাদা করে চিনতে পারে না। দুটি মিলে একটিই ছবি মনে হয়। মনে হয়, ছবিটি বুঝি খাঁচায় বন্দি কোনো পাখির।


মন্তব্য