kalerkantho

একটু আলাদা

অবাক করা প্লাটিপাস

১৩ অক্টোবর, ২০১৭ ০০:০০



অবাক করা প্লাটিপাস

প্লাটিপাসের মতো আজব প্রাণী দুনিয়ায় কমই আছে। এদের লেজটা উভচর প্রাণী বিবরের মতো। লোমশ শরীরটা আবার ভোঁদড় বা উদবিড়ালের মতো। পায়ের আঙুলগুলোও হাঁসের মতো একটার সঙ্গে একটা চামড়া দিয়ে জোড়া লাগানো, তেমনি ঠোঁটও হাঁসের মতো। মজার ঘটনা অস্ট্রেলিয়া থেকে যখন প্রথম একে ইংল্যান্ডে আনা হয়, মানুষ বিশ্বাসই করতে চাইছিল না এটা সত্যিকারের কোনো প্রাণী। ভাবছিল কোনো চতুর লোক দুুটি প্রাণীকে সেলাই করে এমন আকৃতি দিয়েছে!
দেখতে আলাভোলা-সাধারণ প্রাণী মনে হলেও পুরুষ প্লাটিপাসরা কিন্তু বেশ বিপজ্জনক। এদের পেছনের পায়ের নখের সঙ্গে বিশেষ এক গ্ল্যান্ড বা গ্রন্থির সংযোগ আছে। ওই গ্রন্থি বিষ তৈরি করতে পারে। আক্রান্ত হলে কিংবা অন্য পুরুষ প্লাটিপাসের সঙ্গে লড়াই করার সময় এই বিষ ব্যবহার করে প্লাটিপাসরা।
প্লাটিপাসদের পাবে অস্ট্রেলিয়ায়। সেখানকার তাসমানিয়ার  মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত বিভিন্ন মিষ্টি পানির এলাকায় এরা থাকে।

আবার অস্ট্রেলিয়ার পূর্ব আর দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলেও আছে।
পানিতে থাকার উপযোগী শরীর হলেও এরা কিন্তু মানুষের মতোই পানির নিচে নিঃশ্বাস না নিয়ে খুব বেশি সময় থাকতে পারে না। একবারে বড়জোর দুই মিনিট ডুব দিয়ে থাকতে পারবে।
খাবারের সন্ধানে প্রচুর সময় কাটায় প্লাটিপাসরা। দিনের বেলাটা কোনো গুহায় ঘুমিয়ে কাটায় আর রাতে ঘুরে বেড়ায়। ওই সময় জলের মধ্যে শিকার করে। এরা পুরোপুরি মাংসাশি। সাঁতার কাটতে কাটতে নদীতে, খালে, পুকুরে, লেকে ঠোঁটের সাহায্যে খাবার খুঁজে বেড়ায়।
প্লাটিপাসের আরেকটা অদ্ভুত ব্যাপার আছে। স্তন্যপায়ী প্রাণীরা সাধারণত বাচ্চা প্রসব করে। কিন্তু স্তন্যপায়ী প্রাণী হলেও প্লাটিপাসরা ডিম পারে। নদী বা অন্য কোনো জলাধারের ধারে তৈরি করা গুহায় ডিম পাড়ে। সাধারণত ১০ দিন পর ডিম ফুটে বাচ্চা বের হয়। আরো আশ্চর্য ব্যাপার, প্লাটিপাসদের কোনো পেট বা পাকস্থলী নেই। ভেতরের ক্ষুদ্রান্ত সরাসরি যুক্ত থাকে খাদ্যনালির সঙ্গে।
—তুষার ইশতিয়াক


মন্তব্য