kalerkantho

নিজে বানাই

মিনি পুতুলের ঘরদোর

১৯ মে, ২০১৭ ০০:০০



মিনি পুতুলের ঘরদোর

স্কুল থেকে ফেরার পর কথার কাজ হলো একমাত্র বন্ধু পুতুল মিনির সঙ্গে খেলা আর গল্প করা। সন্ধ্যায় মিনিকে ফেলে পড়ার টেবিলে পড়তে বসা।

আবার রাত হলেই মিনিকে ঘুমপাড়ানি মাসি-পিসি শুনিয়ে ওর ঘরে শুইয়ে দেওয়া। মিনিকে ঘুম পাড়িয়ে শুইয়ে দেওয়ার জন্য কথার এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন কোন জিনিসটি?

হুম, মিনির জন্য এখন একটি ছোট্ট ঘর না হলে কথার চলে? তাই তো কথা ওর পুতুল মিনির জন্য বানাতে বসেছে ছোট্ট একটি ঘর।

চলো তো উঁকি দিয়ে দেখে আসি কথা কী কী ফেলনা জিনিস দিয়ে বানিয়ে ফেলছে মিনি পুতুলের ঘরটি। কথা বাবার জুতার ফেলে দেওয়া বাক্সটি দিয়েই শুরু করল।

কমলা রঙের পোস্টার রং দিয়ে রাঙিয়ে তুলল বাক্সের ঢাকনার ভেতর-বাহির ও পাশগুলো। এখানে কথা ব্যবহার করল চার নম্বর জল রং তুলি।

কমলা রঙে জ্বলজ্বল করছিল যখন ঢাকনাটি, কথা তখন বাতাসে শুকিয়ে নিল সেটি।

ঢাকনাটি শুকিয়ে গেলে হলুদ রঙের পোস্টার কাগজ নামিয়ে আনল ঘরের কোণ থেকে। সেটি দিয়ে কমলা ঢাকনাটির মধ্যে একটি নকশা কাটা কাগজ তৈরি করল।

যথারীতি কাটাকুটির কাজে কাঁচি থাকল কথার সঙ্গে। এসব কাটাকুটি কাগজ ও কাপড়ের লেস বাক্সের গায়ে জোড়া লাগাতে আইকা আঠাও ব্যবহার করল। কাঁচি, আইকা আঠার সঙ্গে আরো দুটি জিনিস এসে যোগ দিল। সবুজ পোস্টার রং আর সাদা রঙের লেস।

কথা চার নম্বর জল রং তুলিটি ভালোভাবে ধুয়ে নিয়ে সবুজ পোস্টার রং লাগিয়ে জুতার বাক্সের তিনটি সাইড রাঙিয়ে তুলল। তারপর ভালোভাবে শুকিয়ে নিল বাতাসে। শুকিয়ে নেওয়ার পর মায়ের স্টক থেকে পুরনো জামার লেসগুলো খুলে নিল। এবার সেই সাদা লেসগুলো আইকা আঠা লাগিয়ে সেঁটে দিল জুতার বাক্সের তিনটি পাশে। শেষে কমলা রঙের ঢাকনাটির নিচেও কিছু সাদা লেস সেঁটে দিল। সাদা লেস লাগানো শেষ করে কথা হলুদ পোস্টার কাগজের নকশাটি কমলা রঙের ঢাকনাটির একেবারে মাঝখানটায় লাগাল।

তারপর আরো একটু হলুদ পোস্টার কাগজ চিকন করে কেটে ঝালর তৈরি করল। ঝালরটি ঢাকনার একেবারে ওপরের জায়গায় আইকা আঠা দিয়ে এমনভাবে লাগাল যেন খানিকটা ঝুলে থাকে।

পুতুলের ঘরটি আরো আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য মায়ের স্টক থেকে ছিঁড়ে যাওয়া কাঠের পুঁতির মালার কিছু জিনিস নিয়ে আইকা দিয়ে লাগিয়ে দিল ঝালরের মাঝখানে।

সময় হয়ে এলো মিনি পুতুলকে ঘুমপাড়ানি গান শোনানোর। গান শুনেই গুমিয়ে পড়বে কথার মিনি পুতুলটি।

তাই পুতুলের ঘরে বিছানা বসাতে কথা ওর ছোট্ট পায়ের জুতার বাক্সটি এনে উপুড় করে বসিয়ে দিল বাবার বড় জুতার বাক্সটির মাঝে। বিছানার ওপর চাদর বিছাতে ব্যবহার করল জুতার বাক্সের ভেতরে পাওয়া পাতলা সাদা কাগজটি। এখন মিনি পুতুলের বালিশ কোথায় পাই?

কথা অনেক দিন আগে কেনা বাবার ঘড়ির বাক্সের এক টুকরা ফোম এবার ব্যবহার করল মিনির বালিশ হিসেবে।

মিনি পুতুলকে বালিশে শুইয়ে দিয়েই কথা গাইতে শুরু করল গুনগুনিয়ে ‘আয়রে আয় ঘুমের বুড়ি,

লক্ষ্মী মিনির চোখে ঘুম দিয়ে যা। ’

—তারেকা জুজু


মন্তব্য