kalerkantho


পুলিশের ভয় রাজারহাটে

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

৪ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



কুড়িগ্রাম-তিস্তা সড়কের পাশে গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে পুলিশি আতঙ্কে দিন কাটছে কুড়িগ্রামের রাজারহাটের দুই গ্রামের মানুষের। এ ঘটনায় ৩৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো ৪০-৫০ জনকে আসামি করে মামলা করায় পুলিশি হয়রানির ভয়ে রাতে বাড়িতে থাকছে না অনেকেই। এলাকাবাসীর অভিযোগ, কুড়িগ্রাম-তিস্তা সড়ক সম্প্রসারণের জন্য ঠিকাদারের লোকজন সড়কসংলগ্ন জমির মালিকদের গাছ কেটে নিতে বললে অনেকেই গাছ কাটে। কিন্তু এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরীহ ও নিরপরাধ গ্রামবাসীকে হয়রানি করছে পুলিশ।

সরেজমিনে রাজারহাটের পুঁটিকাটা ও দেবীচরণ গ্রামে গিয়ে জানা গেছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি সড়ক সম্প্রসারণ কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারের লোকজনের কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে রাস্তার পাশে বেশ কিছু গাছ কেটে ফেলে গ্রামের লোকজন। মূলত এসব গাছের মালিক জেলা পরিষদ। গাছ কাটার অভিযোগে পরবর্তী সময়ে পুলিশ গ্রামে গিয়ে গণহারে নাম তালিকাভুক্ত করে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাক্ষী হওয়ার জন্য কারো কারো নাম লিখে নেওয়ার পর যোগাযোগ না করায় আসামি করা হয়। এ ঘটনায় তাত্ক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করা হয় আদম আলী (৩০) ও আব্দুস ছালাম (৫৫) নামে দুজনকে। পরে জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার রাশেদুজ্জামান রাজারহাট থানায় একটি মামলা করেন। এখানে মোট ২৮০টি গাছ কাটার অভিযোগ আনা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ গ্রামে হানা দিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে দেবীচরণ গ্রামের বাসিন্দা গোলাম সারোয়ার বলেন, ঠিকাদাররা না বললে গ্রামের লোকজন কখনোই গাছ কাটতে যেত না। অথচ নিরীহ গ্রামবাসীকে হয়রানি করছে পুলিশ। পাশাপাশি বাণিজ্যের উদ্দেশে অজ্ঞাতপরিচয় ৪০-৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাই পুুলিশের ভয়ে গ্রামের মানুষ রাতে ঘুমাতে পারছে না। এলাকায় এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

পুঁটিকাটা গ্রামের অঞ্জনা রানী বলেন, ‘আমার স্বামী একটি ইটভাটায় ম্যানেজার হিসেবে কাজ করেন। পুলিশ গ্রামে এসে তাঁর নাম নিয়ে যায়। উপপরিদর্শক মিজান আমাকে নম্বর দিয়ে যোগাযোগ করতে বলেছিলেন; কিন্তু যোগাযোগ না করায় পরে আসামির তালিকায় নাম দেখতে পাই।’ পুঁটিকাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের পিয়ন দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি স্কুল ডিউটিতে ছিলাম। নিজ হাতে পুলিশ সদস্যদের চা-নাশতা খাইয়েছি। অথচ আমাকেও আসামি করা হয়েছে।’ মুদি দোকানদার সেকেন্দার বলেন, ‘আমাকে পুলিশ বলে, আপনি কাউকে গাছ কাটতে দেখেন নাই? বললাম, দেখি নাই। পরে নাম লিখে নিয়ে আমার নামে মামলা দিয়েছে।’

পুঁটিকাটা গ্রামের বাসিন্দা রহুল আমিন ওসমান জানান, গ্রেপ্তার আব্দুস ছালাম ঘটনার সঙ্গে কোনোভাবে জড়িত নন। এর পরও তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য শহীদ হোসেন মনির জানান, কৃষক, দিনমজুরসহ অনেক নিরপরাধ মানুষকে আসামি করায় এলাকায় অসন্তোষ বিরাজ করছে। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা না নিলে ক্ষোভ বিক্ষোভে পরিণত হতে পারে।

ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান রেজভি কন্সট্রাকশনের সাইট ম্যানেজার লোকমান আলী অবশ্য গাছ কাটার ব্যাপারে গ্রামবাসীকে উদ্বুদ্ধ করার কথা অস্বীকার করেন। অন্যদিকে মামলার বাদী জেলা পরিষদের সার্ভেয়ার রাশেদুজ্জামানের সঙ্গে কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন রিসিভ করেননি তিনি। হয়রানির অভিযোগ অস্বীকার করে রাজারহাট থানার ওসি ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে। তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের শনাক্ত করা হবে। কাউকে অযথা হয়রানি করা হবে না।

 

 


মন্তব্য