kalerkantho


বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য ফসলের মাঠে

এমদাদুল হক মিলন, দিনাজপুর   

২১ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



বিদ্যুৎকেন্দ্রের বর্জ্য ফসলের মাঠে

বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ছেড়ে দেওয়া বর্জ্য ও ছাইযুক্ত বিষাক্ত পানিতে ডুবে গেছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার পাঁচটি গ্রামের ফসলের মাঠ। পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় পচে গেছে বোরো বীজতলা।

স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করে, এই পানি পাশের তিলাই নদে ছেড়ে দেওয়ায় মাছ মরে যাচ্ছে। এতে জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। ফসলের মাঠ ডুবে যাওয়ায় বোরো চারা রোপণ করতে পারছে না কৃষক। অন্যদিকে বিষাক্ত পানি ব্যবহার করতে গিয়ে চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্টে ভুগছে গ্রামবাসী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বর্জ্য ও কয়লা পোড়ানো ছাইযুক্ত পানি রাখার জন্য পুকুর রয়েছে। পরিষ্কার না করায় পুকুরগুলো ভরে গেছে। পানি ধারণক্ষমতা না থাকায় সেই পানি ফসলের মাঠের মধ্যে ছেড়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এই পানিতে ভরে গেছে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রসংলগ্ন ফুলবাড়ী উপজেলার শিবনগর ইউনিয়নের রামভদ্রপুর, দুধিপুকুর, টুনির আঁড়া, চককবীর ও গুচ্ছ গ্রামের ফসলের মাঠ।

গ্রামবাসীর অভিযোগ, এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে কয়েক দফা আবেদন করেও সাড়া মেলেনি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে। দুধিপুকুর গ্রামের কৃষক আমিনুল ইসলাম ও আশরাফুল ইসলাম বলেন, এক মাস আগে হঠাৎ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র তাদের ছাইযুক্ত পানি ছেড়ে দেয়। সেই পানিতে ভরে যায় ফসলের মাঠ।

এই পানির নিচে ডুবে গিয়ে তাঁদের বোরো বীজতলা পচে গেছে। এই পানি ব্যবহার করতে গিয়ে তাঁদের হাতে-পায়ে চর্মরোগ দেখা দিয়েছে। একই কথা বলেন দুধিপুকুর গ্রামের গৃহবধূ মনোয়ারা বেগম, কৃষক সাইফুল ইসলাম ও ছামছুল আলম।

শিবনগর ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য সাইফুল ইসলাম বাবলু বলেন, ‘তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র হঠাৎ ছাইযুক্ত পানি ছেড়ে দেয়। এই পানির নিচে বাঘধারা ডোবায় তলিয়ে গেছে আমারসহ চককবীর গ্রামের গোলাম মোস্তফা, গাজী রহমান, সৈয়দ ইব্রাহিমসহ ৫০ জনের তৈরি করা বোরো বীজতলা। চারা পচে যাওয়ায় কিভাবে বোরো রোপণ করব, তা ভেবে পাচ্ছি না। এদিকে পানি ব্যবহার করতে গিয়ে নানা চর্মরোগে ভুগছে গ্রামবাসী।’

এ বিষয়ে ফুলবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এ টি এম হামিম আশরাফ বলেন, ‘পানি এখনো পরীক্ষা করা হয়নি। তবে কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পানিতে সাধারণত এসিড থাকে। তাই বীজতলাসহ ফসলের ক্ষতি হয়। কৃষকেরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছেন।’

তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান গ্রামবাসীর আবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এরপর আর কোনো কথা বলতে তিনি রাজি হননি।

গ্রামবাসী জানায়, এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা। তাদের দাবি, ফসলের মাঠ রক্ষায় বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।



মন্তব্য