kalerkantho


ফুলবাড়ীর সাবরেজিস্ট্রার

কাগজপত্রে ‘হুদাই’ ত্রুটি ধরে ঘুষ নেন তিনি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি   

৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার সাইফুল আলম। তিনি সপ্তাহে তিন দিনের বেশি অফিস করেন না। দলিলপ্রতি মোটা অঙ্কের ঘুষ (উেকাচ) নেন; খাজনা, খারিজসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও ঘুষ না দিলে দলিল স্বাক্ষর করেন না। তবে দ্বিগুণ ঘুষের বিনিময়ে জাল কাগজপত্র দিয়েই দলিল সম্পাদন করেন। যেসব জমি ক্রেতা-বিক্রেতা ঘুষ দিতে চায় না তারা দিনের পর দিন হয়রানির শিকার হচ্ছে। এসব নিয়ে অফিস চত্বরে প্রায়ই উচ্চবাচ্য ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। খোদ দলিল লেখক এবং দলিল দাতা ও গ্রহীতারা (জমির বিক্রেতা ও ক্রেতা) করেছে এসব অভিযোগ।

ফুলবাড়ী সাবরেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, দাতা-গ্রহীতাদের মধ্যে যারা দলিলপ্রতি সাবরেজিস্ট্রার নির্ধারিত ঘুষ জমা দিচ্ছে (সাবরেজিস্ট্রারের চেম্বারে), তাদের দলিল বিশেষ চিহ্ন দিয়ে এজলাসে দাখিল করা হচ্ছে। আর যারা ঘুষ দিচ্ছে না তাদের কাগজপত্রে বিভিন্ন ত্রুটি দেখিয়ে দলিল ফেরত দেওয়া হচ্ছে। গত ২৬ ডিসেম্বর ফুলবাড়ী সাবরেজিস্ট্রি অফিসে ১০ শতক জমি বিক্রির দলিল সম্পাদন করেন চন্দ্রখানা গ্রামের দীন মোহাম্মদের স্ত্রী রাশেদা বেগম। দুই লাখ ৪৩ হাজার টাকা দামের জমির এই দলিলের গ্রহীতা রাশেদার জা জেবুন্নেছা বেগম।

দীন মোহাম্মদ অভিযোগ করেন, ঘুষ না দেওয়ায় কাগজের ত্রুটি দেখিয়ে গত সপ্তাহে তাঁদের দলিলটি ফেরত দেন সাবরেজিস্ট্রার। সাত দিন হয়রানির পর ২৬ ডিসেম্বর অফিসের মোহরার জাহাঙ্গীর আলমের কাছে এক হাজার ৩০০ টাকা ঘুষ দিলে দলিল জমা নেওয়া হয়। আরেক দলিলগ্রহীতা মুক্তা আক্তার জানান, তাঁর কাছ থেকেও এক হাজার ৩০০ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে।

ফুলবাড়ী সাবরেজিস্ট্রি অফিসের দলিল লেখক আব্দুল জলিল অভিযোগ করেন, বর্তমান সাবরেজিস্ট্রার সাইফুল আলম এই অফিসে যোগ দেওয়ার পর থেকে সাবকবলা দলিলপ্রতি এক হাজার ৩০০ টাকা, হেবার ঘোষণা দলিলপ্রতি এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার টাকা প্রকাশ্যে ঘুষ নিচ্ছেন। আর কাগজের ত্রুটি থাকলে আরো অতিরিক্ত ৬০০ টাকা দিতে হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় কয়েকজন দলিল লেখককে সাইফুল অপমান করে অফিস থেকে বের করে দিয়েছেন। অফিস সহকারী শ্যামল চন্দ্র ও মোহরার জাহাঙ্গীর আলমের মাধ্যমে তিনি এই ঘুষের টাকা নিচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে দলিল লেখক সমিতির সভাপতি গোলজার হোসেন বলেন, ‘২৪ হাজার টাকা পর্যন্ত দলিলের ক্ষেত্রে পে-অর্ডার বাদে ২% টাকা হাতে নেওয়ার নিয়ম আছে। আর কোনো টাকা নগদ নেওয়ার নিয়ম নেই। কিন্তু আমরা অফিসারদের কাছে জিম্মি।’

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার সাইফুল আলম বলেন, জেলা রেজিস্ট্রারকে অবগত করেই তিনি অফিসে অনুপস্থিত থাকেন। আর ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি সত্য নয়।



মন্তব্য