kalerkantho


ঠাকুরগাঁও

সুগার মিলে তেল চুরি

প্রতি ১০০ লিটারে ১২ লিটার কম

পার্থ সারথী দাস, ঠাকুরগাঁও   

৭ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



সুগার মিলে তেল চুরি

ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের পাম্পে জ্বালানি তেল চুরি করা হয়। প্রতি ১০০ লিটারে ১২ লিটার ডিজেল কম পাওয়া যায়। সবার চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এটা ঘটছে।

মিল সূত্র জানায়, এই মিলের ২৪৯৬ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে নিয়মিত ১৯১৮ একর জমিতে আখ চাষ করা হয়। আর বাকি ৫৭৮ একর জমিতে আবাসিক-অনাবাসিক স্থাপনা ও বনায়ন রয়েছে। মিলের কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকের সংখ্যা ৯৯০ জন। এর মধ্যে শুধু শ্রমিকের সংখ্যা ৩৩২ জন। গত মাড়াই মৌসুমে ৩২ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। মিল চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৬৩ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এই বোঝা মাথায় নিয়ে গত ১৫ ডিসেম্বর মিলের চলতি মৌসুমের আখ মাড়াই কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিবছর আখ মাড়াই মৌসুমে মিল চালু থাকে এক থেকে দেড় মাস। এরপর সারা বছর বন্ধ থাকে বললে ভুল হবে না। মিল চালুর পর শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের চেয়ে বেশি ব্যস্ত থাকে পরিবহন চালকরা। মিলের গাড়িতে দিন-রাত জেলার বিভিন্ন এলাকার ক্ষেত থেকে আখ আনা হয়।

চালকরা জানায়, দিন-রাত পরিশ্রম করার পরও কর্মকর্তারা ‘তেল চোর’ মন্তব্যসহ চাকরি হারানোর হুমকি দেন। চালকদের সন্দেহ পাম্পের লোকজন এই তেল কম দেয়। এমন সন্দেহের সত্যতা মেলে গত বৃহস্পতিবার। কয়েকজন চালকের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন পাম্পের কর্মচারীরা। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে আনা পাত্রে পাম্পের তেল মাপা হয়। যেখানে প্রতি ১০০ লিটারে কম আসে ১০ থেকে ১২ লিটার ডিজেল।

মিলের ট্রাক্টরচালক আবু হেলাল জানান, ট্রাক্টর ও ট্রাকসহ সব পরিবহনের জন্য তেল নেওয়া হয় মিলের ভেতর অবস্থিত সরকারি পাম্প থেকে। পাম্পের দায়িত্বে থাকা কর্মর্কতাসহ একটি চক্র গড়ে উঠেছে। তাদের যোগসাজশে দীর্ঘদিন ধরে তেল কম দেওয়া হচ্ছে।

আরেক চালক আব্দুল জলিল জানান, মাড়াই মৌসুমে শুধু সদরে নয়, বিভিন্ন উপজেলার নিজস্ব ক্ষেতসহ আখ চাষিদের কাছ থেকে ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে আখ নিয়ে মিলে জোগান দিতে হয়। চাহিদার তুলনায় তেল কম দেওয়ায় হয়। এ কারণে অনেক সময় বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। আখ আনতে গিয়ে গাড়ির তেল ফুরিয়ে গেলে রাস্তায় গাড়ি ফেলে রেখে তেল নিতে মিলে আসতে হয়।

চালক নিরেণ চন্দ্র রায় জানান, দূরত্ব অনুযায়ী পাম্প থেকে তেল দেওয়া হয়। রাস্তায় গাড়ির তেল ফুরানোর পর পাম্পে তেল চাইলে কর্তৃপক্ষ চালকদের সন্দেহ করে।

ট্রাক্টরচালক আলতাফুর রহমান জানান, মিলের একটি-দুটি গাড়ি নয়, প্রায় সব গাড়িতে তেল কম আসার কারণে চালকদের সন্দেহ হয়। ১০-১২ জন চালকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাইরের বাটখারা এনে পাম্পের লোকজনকে বাধ্য করে তেল মাপা হয়। সেখানে প্রতি ১০০ লিটারে প্রায় ১২ লিটার তেল কম পাওয়া যায়।

সুগার মিলের পরিবহন শাখার উপব্যবস্থাপক হাছনাত হাবিব জানান, চলতি মৌসুমে দৈনিক এক হাজর ২০০ থেকে এক হাজার ৫০০ লিটার ডিজেল খরচ হচ্ছে। চালকদের অভিযোগের পর পাম্পের তেল অন্য বাটখারা দিয়ে মেপে দেখা গেছে, প্রতি ১০০ লিটারে ১২ থেকে ১৫ লিটার কম হচ্ছে। পাম্পের যন্ত্রপাতি পুরনো ও দুর্বল হওয়ার কারণে এমনটা ঘটতে পারে।

তেল চুরির কথা অস্বীকার করে সুগার মিল পাম্পের দায়িত্বে থাকা স্টোর সহকারী ব্যবস্থাপক আরমান বলেন, ‘যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এমনটা ঘটতে পারে।’

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুস শাহী বলেন, ‘চালকদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এই কমিটি প্রতিবেদন জমা দিলে রহস্য উদ্ঘাটন হবে।’



মন্তব্য