kalerkantho


পর্দার সামনে সব সময় নয়

ই-মেইল, সোশ্যাল মিডিয়া, ইউটিউব ভিডিও প্রতিদিন আমাদের পর্দার সামনে আটকে রাখছে। দৈনিক এক ঘণ্টা পর্দা থেকে চোখ সরিয়ে নিলেই নতুন করে উদ্যম ও স্পৃহা পাওয়া যায় কাজে। বিবিসির ‘পাওয়ার অব এন আওয়ার’ অবলম্বনে লিখেছেন মিজানুর রহমান

২৬ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



পর্দার সামনে সব সময় নয়

আধুনিক সময়ে মানুষের মস্তিষ্ক একসঙ্গে অনেক তথ্যের চাপ নিচ্ছে। ই-মেইল, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ ইত্যাদি আমাদের ব্যস্ত রাখছে সব সময়। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এত বেশি চাপ নেওয়ার ফলে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে অনুৎপাদনশীল হয়ে পড়ে। একবারে অনেক কাজ না করে মাঝে কিছু সময় বিরতি নিলে কাজের স্পৃহা বাড়ে।

 

কতটা সময় কাটাচ্ছেন পর্দার সমনে?

গত মাসে অ্যাপল স্ক্রিন টাইম নামে একটি ফিচার চালু করেছে। দিনে কতক্ষণ আপনি পর্দার সামনে ব্যয় করেন ফিচারটিতে, তা দেখে আশ্চর্য হতে হয়।

আপনার ‘স্ক্রিন টাইম’ কেমন হতে পারে, তার ধারণা পাওয়া যায় ২০১৬ সালে করা গবেষণাপ্রতিষ্ঠান নেইলসনের একটি গবেষণা থেকেও। এতে দেখা গেছে, প্রতিদিন একজন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিক প্রায় ১১ ঘণ্টা পর্দার সামনে ব্যয় করে! বাংলাদেশের মানুষের জন্য সময়টি এত বেশি না হলেও প্রযুক্তিনির্ভরতার কারণে দিন দিন তা বাড়ছে। বিশেষ করে অফিসগুলো যত প্রযুক্তিনির্ভর হচ্ছে, ততই বাড়ছে স্ক্রিন টাইম। খেয়াল করলে দেখা যাবে, দৈনিক আট ঘণ্টা অফিস টাইমের বেশির ভাগই একজন কর্মী স্মার্টফোন, ট্যাব বা কম্পিউটার মনিটরের সামনে কাটিয়ে দেয়।

 

অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের সমস্যা

স্ক্রিন টাইমের নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। যেমন—পর্দার দিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাকিয়ে থাকার ফলে চোখে চাপ পড়ে। ২৪ ঘণ্টা মেসেজ আদান-প্রদান মানুষকে বিষণ্ন করে দেয়, সেই সঙ্গে ধকল তো আছেই।

২০১২ সালে ইউএস আর্মি রিসার্চের পরিচালিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, একবিংশ শতাব্দীর অফিসগুলোতে যাঁরা নিরবচ্ছিন্নভাবে ই-মেইল ও মেসেজ পেতে থাকেন, তাঁদের হার্টরেট বাকিদের চেয়ে বেশি। প্রশ্ন হচ্ছে, তাহলে করণীয় কী? অবশ্যই প্রযুক্তি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন থাকাটা বাস্তবসম্মত নয়। বরং একটু একটু করে সময় কেটে নিয়ে নিজেকে একটু সময় দেওয়াটাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।

 

যেভাবে করতে হবে?

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অফিস সময়ের মধ্যে মাঝেমধ্যে একটু হেঁটে আসা প্রয়োজন। একটু চোখ বন্ধ রাখা, মোবাইল রেখে ১০-১৫ মিনিট হেঁটে আসার ফলে সব কিছু একটা রিস্টার্ট পায়। আর অফিস সময়ের বাইরে নোটিফিকেশন বারবার দেখার অভ্যাস পরিহার করতে হবে। দিনে কিছু সময় বেছে নিতে হবে, যেমন ১০ মিনিট পর পর মোবাইল হাতে না নিয়ে এক ঘণ্টা পর পর বা দুই ঘণ্টা পর পর নোটিফিকেশন চেক করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। অফিসেরও ভূমিকা আছে এতে। অফিসগুলো যদি মেইল করার একটি নির্ধারিত সময় ঠিক করে নেয়, তাহলে প্রতিটি নোটিফিকেশন চেক করার তাগিদ বন্ধ হবে। নিরবচ্ছিন্ন মেসেজিং গ্রুপ পরিহার করলেও অনেক সময় বেঁচে যায়।

 

মাল্টিটাস্কিং একটি মোহ

অনেকেই মনে করেন, প্রযুক্তি আমাদের একই সময়ের মধ্যে অনেক কাজ করার সক্ষমতা দিয়েছে। বিষয়টি একটি ভ্রান্ত ধারণা বলে দাবি করছেন মনোবিদরা। ইউনিভার্সিটি অব সান দিয়াগোর মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক স্যান্ড্রা সগুটেস্মাক বলেন, ‘নিউরোসায়েন্টিস্টরা পরিষ্কারভাবে দেখিয়েছেন যে মানুষের মস্তিষ্ক মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য নির্মাণ করা হয়নি; বরং নির্মাণ করা হয়েছে সিরিয়াল টাস্কের জন্য।’ সুতরাং মাল্টিটাস্কিংয়ের জন্য একই সময়ে একাধিক কাজ একবারে করলে যেমন সময় নষ্ট হয়, তেমনি কাজের মানও কমে যায়। কারণ একটি কাজের পর আরেকটি কাজে মনোনিবেশ করতে মানুষের মস্তিষ্কের কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হয়। তাই মাল্টিটাস্কিং পরিহার করে যেমন অনেক সময় বাঁচানো যায়, তেমনি অফিসেরও লাভ হয়।



মন্তব্য