kalerkantho


সাইকেল ভাড়ার ডিজিটাল দোকান

১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সাইকেল ভাড়ার ডিজিটাল দোকান

অ্যাপের মাধ্যমে গাড়ি, মোটরসাইকেল ও অ্যাম্বুল্যান্স শেয়ারিং সেবা জনপ্রিয়তা পেয়েছে বেশ। এবার অল্প দূরত্বে যাওয়ার বাহন হিসেবে সাইকেলও ভাড়া নেওয়া যাবে। জানাচ্ছেন তুসিন আহমেদ

বিশ্বের অনেক দেশেই বাহন হিসেবে সাইকেল বেশ জনপ্রিয়। অল্প দূরত্বের পথ পাড়ি দিতে অনেকেই নিয়মিত ব্যবহার করেন এই বাহন। কিন্তু আমাদের দেশে সাইকেল চালাতে অনীহা অনেকের। বিষয়টি চোখে পড়ে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলিবাবার কর্মী মেহেদী রেজার। চাকরিসূত্রে তিনি থাকেন চীনে। একদিন অফিসের কাজে ঢাকায় এসে মতিঝিলে জ্যামের খপ্পরে পড়েন। ভাবলেন, যদি সাইকেল ব্যবহার করে ঢাকায় চলাচল করা যায়, তাহলে সময় নষ্ট কম হবে। কিন্তু অনেকেরই সাইকেল কেনার সামর্থ্য নেই, থাকলেও রক্ষণাবেক্ষণ বা পার্কিং নিয়ে ঝামেলা আছে। এ সমস্যা সমাধানে সাইকেল সেবা চালুর পরিকল্পনা করেন তিনি। এরপর স্কুলজীবনের বন্ধু আজহারুল কুদরত খান ও খান হেলালউজ্জামান অয়নকে শোনান সাইকেল শেয়ারিং সেবা চালুর পরিকল্পনার কথা। এভাবেই শুরু হয়ে গেল জোবাইকের কার্যক্রম।

তিন বন্ধু ছাড়াও জোবাইকের সহপ্রতিষ্ঠাতা হিসেবে রয়েছেন মেক্সিকোর পাবলো আগুয়ারো ও ব্রাজিলের গালহাম প্রকিচ। আলিবাবায় মেহেদী রেজার সহকর্মী ছিলেন তাঁরা।

 

জোবাইকের সেবা

মনে করুন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক নম্বর গেট থেকে কেউ সমাজবিজ্ঞান অনুষদে যাবেন। তিনি মেইন গেটে দেখলেন জোবাইকের একটি সাইকেল রাখা আছে। স্মার্টফোনে থাকা নির্দিষ্ট অ্যাপের সাহায্যে সাইকেলটির তালা খুলে পেডেল চেপে চলে গেলেন সমাজবিজ্ঞান অনুষদে। এরপর সাইকেলটি লক করে চলে গেলেন ক্লাসে। এরপর লক করা সাইকেলটি অন্য কেউ দেখলেন এবং একইভাবে আনলক করে সাইকেল নিয়ে চলে গেলেন ক্যাম্পাসেরই অন্য কোনো স্থানে।

প্রাথমিক অবস্থায় কম দূরত্বের নির্দিষ্ট স্থানে সেবা পরিচালনা করা হবে। পরে বেশি দূরত্বেও সেবা দেওয়া হবে, জানালেন আজহারুল কুদরত খান।

 

যেভাবে ব্যবহার করা যাবে

জোবাইকের সেবা নিতে প্রথমেই স্মার্টফোনে ইনস্টল করতে হবে ‘জোবাইক’ অ্যাপ । অ্যানড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম উপযোগী অ্যাপটি গুগল প্লেস্টোর (https://play.google.com/store/apps/details?id=rider.bike.jo) থেকে ডাউনলোড করা যাবে। নির্দিষ্ট তথ্য ও ব্যালান্স রিচার্জ করে ইনস্টলের পর অ্যাপটি চালু করলেই আশপাশে থাকা জোবাইকের সাইকেলের তথ্য জানা যাবে। এবার সাইকেলে থাকা কিউআর কোড স্ক্যান করলেই খোলা যাবে লক। সাইকেলটি চালিয়ে নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর পর লকটি ম্যানুয়ালভাবে হাত দিয়ে লক করতে হবে।

জোবাইকের সাইকেল ব্যবহারের আগে ব্যবহারকারীর অ্যাকাউন্টে অর্থ রিচার্জ করে নিতে হবে। বর্তমানে যেসব এলাকায় জোবাইকের সেবা চালু আছে সেখানেই পাওয়া যাবে রিচার্জ সেন্টার। আপাতত অনলাইন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে রিচার্জ করা যাবে না। বিকাশের মাধ্যমে রিচার্জ সুবিধা চালু হবে শিগগিরই। আপাতত আইওএস সংস্করণ নেই। তাই আইফোনের গ্রাহকরা জোবাইকের সেবা নিতে পারবেন না। আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আইওএস সংস্করণ বাজারে আনা হবে।

 

খরচ কত?

বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে জোবাইকের সাইকেল ব্যবহারের জন্য পাঁচ মিনিটে গুনতে হবে তিন টাকা। অ্যাপের মাধ্যমে সাইকেলের লক খোলার পরপরই শুরু হবে সময় গণনা। গন্তব্যে পৌঁছে ব্যবহারকারী সাইকেলটি লক করা পর্যন্ত এ গণনা চলতে থাকবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়া অন্য এলাকায় জোবাইকের সাইকেল ব্যবহারের জন্য মিনিটপ্রতি খরচ হবে এক টাকা। আজহারুল কুদরাত খান বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বাড়তি সুবিধা দিতেই তাদের জন্য খরচ কিছুটা কম রাখা হয়েছে। ভবিষ্যতে সেবার পরিধি বিস্তারের পর তখন খরচ আরো কমিয়ে আনা হতে পারে।’

 

সাধারণ সাইকেলে প্রযুক্তির ব্যবহার

গতানুগতিক সাইকেলের তুলনায় জোবাইকের সাইকেলগুলোর আকার ও নকশা একটু আলাদা। ডিজিটাল বাইসাইকেলের আদলে তৈরি সাইকেলগুলোতে রয়েছে অত্যাধুনিক লক, সোলার প্যানেল ও জিপিএস সিস্টেম। জিপিএস সিস্টেম থাকায় অ্যাপে সাইকেলের অবস্থান জানা যায়। এমনকি চুরি হলেও জানা যাবে সাইকেলটির অবস্থান।

সাইকেল চুরির পরে চোর জিপিএস সিস্টেমটি খুলে ফেললে কিভাবে সাইকেলের অবস্থান জানা যাবে? আজহারুল কুদরত জানান, জোবাইকের সাইকেলে একটি নয়, রয়েছে দুটি জিপিএস সিস্টেম। একটি খুললেও ব্যাকআপ হিসেবে আরেকটি কাজ করবে। আকার ভিন্ন হওয়ায় চুরি করে রাস্তায় চালালেও জোবাইকের সাইকেল চেনা যাবে। তাই এই সাইকেল চুরি করা কঠিনই। জোবাইকের সেবায় বর্তমানে ২০০টিরও বেশি সাইকেল আছে। চুরির কোনো ঘটনা ঘটেনি এখনো।

 

যেখানে জোবাইকের সেবা

১১ জুলাই জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দিয়ে যাত্রা শুরু জোবাইকের। ভালো সাড়া পাওয়ায় নভেম্বরের শেষে চালু হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ডিসেম্বরে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এ সেবা চালু করা হবে। কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরেও সেবা দিচ্ছে জাবাইক। কক্সবাজারের কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্টেও জোবাইকের সাইকেল পাওয়া যায়।

মেহেদী রেজা বলেন, কক্সবাজার বাংলাদেশের পর্যটন রাজধানী। এখানে দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের ভ্রমণ সহজ করতেই আমাদের এ উদ্যোগ। আশা করি দেশের ট্যুরিজম শিল্প এবং দেশের যোগাযোগব্যবস্থার ডিজিটাইজেশনে জোবাইক ভূমিকা রাখবে। আগামী বছরের মধ্যে দেশের আরো ২০ এলাকায় সেবার পরিধি বাড়ানো হবে।

 

ব্যবহারকারী কত?

জোবাইকের নিবন্ধিত ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৯ হাজার। তাদের কর্মীর সংখ্যাও কম নয়, সব মিলিয়ে অর্ধশতাধিক।



মন্তব্য