kalerkantho


স্মার্টফোনেও এআই

বাজারে বেশি দামের পাশাপাশি মাঝারি দামের স্মার্টফোনগুলোতেও জুড়ে দেওয়া হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি। এতে ব্যবহারকারীরা বাড়তি কী সুবিধা পাবে জানাচ্ছেন এস এম তাহমিদ

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



স্মার্টফোনেও এআই

প্রযুক্তি দুনিয়ায় এআই বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ধারণাটি একেবারে নতুন নয়। তবে স্মার্টফোনে প্রযুক্তিটি জুড়ে দেওয়ার বিষয়টি সাম্প্রতিক ঘটনা। এআই যুক্ত হওয়ায় নিজ থেকেই অল্পবিস্তর ‘চিন্তা’ করতে পারছে স্মার্টফোনগুলো।

 

বেশি ব্যবহার ক্যামেরায়

স্মার্টফোনে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বেশি হচ্ছে ক্যামেরায়। ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী বা ক্যামেরার সামনে থাকা দৃশ্য বিশ্লেষণ করে বুঝে নিয়ে সে অনুযায়ী সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যারের সমন্বয়ে কাজ আগের তুলনায় সহজ করে নিচ্ছে।

হুয়াওয়ে, অপ্পো, ভিভো ও শাওমি তাদের নতুন মডেলের ফোনগুলোতে ‘এআই ক্যামেরা’ আছে বলে প্রচার করছে।

এসব সেট বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে—ক্যামেরা ব্যবহারের জন্য দেওয়া অ্যাপে ‘এআই’ নামে বিশেষ বাটন দেওয়া আছে। এই বাটনযুক্ত ক্যামেরাগুলো প্রথমে সামনে থাকা বিষয়বস্তু চিনতে চেষ্টা করে। এ ক্ষেত্রে ক্যামেরাটি কাছের বস্তুর জন্য ‘ম্যাক্রো মোড’, মানুষের ক্ষেত্রে ‘পোর্ট্রেট মোড’, সূর্যাস্তের ছবি তোলার ক্ষেত্রে ল্যান্ডস্কেপ মোড ইত্যাদি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই নির্বাচন করে। এই মোড অনুযায়ী ক্যামেরার হার্ডওয়্যার সেটিংস যেমন—আইএসও, এক্সপোজার, হোয়াইট ব্যালান্স, কনট্রাস্টসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সর্বোচ্চ মানের ছবি ধারণ করার জন্য প্রস্তুত হয়। আর এই সব কিছু হতে সময় নেয় এক সেকেন্ডেরও কম। এই কাজগুলো যদি ব্যবহারকারী নিজে করতে যায়, তাহলে সময় লাগবে কয়েক গুণ বেশি।

তবে পোর্ট্রেট মোডের ক্ষেত্রে এআইর কাজ আরো বেশি।

এ ক্ষেত্রে ছবির সাবজেক্ট (বিষয়বস্তু) এবং ব্যাকগ্রাউন্ডের মধ্যে পার্থক্যও খুঁজে বের করে ফেলে এআই। তারপর সাবজেক্ট ফোকাসে রেখে পেছনের অংশকে বাস্তবসম্মতভাবে ব্লার করে দেয়। এআই শক্তিশালী হলে এ ক্ষেত্রে সাবজেক্ট এবং ব্যাকগ্রাউন্ডের মধ্যকার সীমানা নির্ধারণ (এজ ডিটেকশন) নির্ভুল হয়, ছবি হয় বাস্তবসম্মত।

বিউটিফিকেশন মোডের ক্ষেত্রে এআই প্রথমে ব্যক্তির চেহারা বিশ্লেষণ করে। নারী না পুরুষ তা নির্ধারণ, গায়ের রং বিশ্লেষণ, বয়স কত হতে পারে ইত্যাদি বুঝে নেওয়ার পর শুরু হয় মূল কাজ। গায়ের রং ফর্সা করা, চেহারায় কোনো দাগ বা ভাঁজ থাকলে কমিয়ে দেওয়া, চোখ বড় করা, মুখের মেদ কমানো—এসব হচ্ছে বিউটিফিকেশন মোডের পরের ধাপের কাজ। কিছু ক্ষেত্রে ছবিতে আইলাইনার, লিপস্টিক থেকে শুরু করে নাকের আকৃতি আর কানের অবয়বও বদলে ফেলে দৃষ্টিনন্দন করে এআই।

 

ব্যাটারি বাঁচায়

ফোন কী কাজে ও কোথায় ব্যবহৃত হচ্ছে, কোন ধরনের অ্যাপ কতক্ষণ ব্যবহার করা হচ্ছে, সাধারণত কখন ফোন চার্জে দেওয়া হয়—এসব বিষয় বিশ্লেষণ করে ব্যাটারির লাইফ বাড়াতে পারে এআই।

এ ক্ষেত্রে ঢালাওভাবে ব্যাটারির শক্তির ক্ষয় কমানোই হয় মূল কাজ। যেমন গান শোনা বা ছবি তোলার সময় অন্যান্য অ্যাপের কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ রেখে শক্তি জমিয়ে রাখতে পারে। আবার গেইম খেলার সময় গতি নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ শক্তি ব্যয় করবে এআই।

 

অগমেন্টেড রিয়ালিটিতেও

অগমেন্টেড রিয়ালিটিতেও এআইয়ের ভূমিকা আছে। এ ক্ষেত্রে দৃশ্যের মধ্যে পটভূমি নির্বাচন ও বিষয়বস্তুর অবস্থান হিসাব করে বের করতে পারে এআই। এ কাজের জন্য ফোনে শক্তিশালী হার্ডওয়্যার থাকতে হয়।

 

ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্সের সহায়তায়

অ্যাপলের সিরি ও আমাজনের এলেক্সার কারণে জনপ্রিয় হয়েছে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স। মুখে কথা বলে (ভয়েস কমান্ড) ও নির্দেশনা দিয়ে স্মার্টফোন থেকে বিভিন্ন তথ্য জেনে নেওয়া, টেক্সট মেসেজের উত্তর দেওয়া, কল করা, অনলাইনে সার্চসহ অনেক কাজই হচ্ছে ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্স প্রযুক্তির কল্যাণে। এ ক্ষেত্রে অ্যানড্রয়েড ফোনগুলো ক্লাউড সার্ভারের সাহায্য নিলেও আইফোন পুরো কাজটি করে অফলাইনে।

এসব কাজ করার দুটি উপায়—সরাসরি মূল সিপিইউ ব্যবহার অথবা ডিজিটাল সিগন্যাল প্রসেসর ব্যবহার। মূল সিপিইউ ব্যবহারে ফোনের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। হুয়াওয়ে, কোয়ালকম এবং মিডিয়াটেক তাদের নতুন প্রসেসরগুলোতে যুক্ত করছে বিশেষ ধরনের কোর—নিউরাল প্রসেসিং ইউনিট বা এনপিইউ। এতে সিপিইউর ওপর বাড়তি চাপ পড়বে না। এনপিইউতে এআই প্রযুক্তি কাজ করতে পারে।

 

যেসব ব্র্যান্ডে যা সুবিধা

অপ্পো এফ সিরিজ, হুয়াওয়ে মেট এবং পি সিরিজ, শাওমি নোট সিরিজ, স্যামসাং গ্যালাক্সি এস ও নোট সিরিজ এবং গুগল পিক্সেল সিরিজে এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।

এদের মধ্যে এগিয়ে হুয়াওয়ে পি২০ মডেলের সেটটি। ক্যামেরা, ব্যাটারি লাইফ এবং হার্ডওয়্যার ব্যবহারের মধ্যে সামঞ্জস্য রক্ষা থেকে শুরু করে গুগল অ্যাসিস্ট্যান্টের কাজও সরাসরি ‘হুয়াওয়ে পি২০’-এ করা সম্ভব। আর এটা সম্ভব হচ্ছে পি২০-এ কিরিন ৯৭০ প্রসেসরে এনপিউ থাকায়।

 

সামনে আসছে শুভ দিন

নতুন অপারেটিং সিস্টেমগুলোর উন্নয়নে এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে এআই। বিশেষ করে অ্যানড্রয়েড ৯ যেন আপডেটই হচ্ছে এআইয়ের জন্য। নির্মাতারা চাইলে যাতে তাঁদের অ্যাপে এআই জুড়ে দিতে পারেন, সে লক্ষ্যে অপারেটিং সিস্টেমটিতে এনপিইউর আপডেটে যুক্ত করা হচ্ছে। শোনা যাচ্ছে, আইফোনের জন্য আইওএস১২ বা ১৩তে একই ধরনের সুবিধা যুক্ত হতে যাচ্ছে।

 

 



মন্তব্য