kalerkantho


নজর যখন র‌্যামে!

স্মার্টফোনে বিভিন্ন পরিমাপের র‌্যাম ব্যবহার হয়। র‌্যামের কার্যকারিতা কী, কোন র‌্যামে কতটুকু সুবিধা পাওয়া যায় ইত্যাদি নিয়ে জানাচ্ছেন মোস্তফা হোসেন

২৮ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



নজর যখন র‌্যামে!

কম্পিউটারের অনেক বৈশিষ্ট্য ফোনেও রয়েছে। ছোটখাটো ভিডিও এডিটিংয়ের কাজও এখন ফোনে সারা যায়। তাই সচেতন ক্রেতারা ফোন কেনার সময় প্রসেসর আর র‌্যামের দিকেও নজর দিচ্ছেন।

 

র‌্যামের ধরন

এলপিডিডিআর৩ ও এলপিডিডিআর৪এক্স—স্মার্টফোনে এই দুই ধরনের র‌্যাম ব্যবহার হয়। এলপিডিডিআর৩-র গতি কিছুটা কম। নিম্নমানের ফোনগুলোতে সাধারণত এই র‌্যাম ব্যবহার করা হয়। দ্রুত কাজ করার সক্ষমতা থাকায় এলপিডিডিআর৪এক্স র‌্যামের ফোনে একসঙ্গে একাধিক কাজও করা যায়।

 

র‌্যাম বেশি মানেই কি দ্রুতগতি?

প্রসেসরের বিষয়টি বোঝা সহজ হলেও র‌্যামের ক্ষেত্রে পরিমাণের বাইরে আসলে তেমন তথ্য কোথাও দেওয়া হয় না। আবার দেখা যায় অ্যাপল যেখানে ২ গিগাবাইট র‌্যাম দিয়ে ফ্ল্যাগশিপ পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে সেখানে মাঝারি দামের অ্যানড্রয়েড ৪ গিগাবাইট র‌্যামেও করছে হতাশ। অতএব বেশি র‌্যাম মানেই পারফরম্যান্স ভালো সেটা বলা যাবে না।

 

র‌্যাম যেভাবে কাজ করে

‘র‌্যাম’ শব্দের পূর্ণ রূপ ‘র‌্যান্ডম অ্যাকসেস মেমোরি’। সফটওয়্যার চালুর সময় শুরুতে স্টোরেজ থেকে র‌্যামে চলে আসে।

যেমন—ফোন সচল থাকা অবস্থায় অপারেটিং সিস্টেমও সচল থাকে। তাই অপারেটিং সিস্টেম র‌্যামের কিছু জায়গা সব সময় দখলে রাখে। এই অংশটুকু ‘সিস্টেম মেমোরি’ নামে পরিচিত। এরপর চালু করা প্রতিটি প্রগ্রাম একটু একটু করে র‌্যাম দখল করে নেয়। অ্যাপে যত বেশি কাজ করা হবে র‌্যামের ব্যবহার ততই বাড়বে।

একই সময়ে একাধিক অ্যাপ স্ক্রিনে রেখে কাজ করা যাচ্ছে আজকাল। এতে র‌্যামের ওপর চাপ পড়ছে বেশি। তবে অ্যানড্রয়েডে র‌্যামে থাকা পুরনো অ্যাপের তথ্যগুলো কমপ্রেস বা ছোট করে ফেলা হয়। এ পদ্ধতিকে জির‌্যাম বলে।

যেহেতু এ পদ্ধতিতে তথ্য ক্যাশে নয়, র‌্যামেই রাখা হয়, তাই আইওএসের তুলনায় অ্যানড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম র‌্যামের ওপর বেশি নির্ভরশীল।

 

স্মার্টফোনে র‌্যাম কি বাড়ানো যায়?

স্মার্টফোনের র‌্যাম বদলানো যায় না—এমনটাই প্রচলিত। আসলে বিষয়টি কষ্টসাধ্য ও ব্যয়বহুল হওয়ায় সাধারণত কেউ স্মার্টফোনের র‌্যাম বদলাতে চান না। ডেস্কটপ বা ল্যাপটপ কম্পিউটারের মাদারবোর্ডে র‌্যামের জন্য এক বা একাধিন স্লট থাকে। তাই চাইলে পুরনো র‌্যাম খুলে নতুন লাগানো যায়।

স্মার্টফোনে র‌্যাম সরাসরি প্রসেসর বা মাদারবোর্ডের সঙ্গে ঝালাই করে বসানো হয়। তাই এই র‌্যাম বদল করা বেশ কঠিন।

 

কতটুকু র‌্যাম দরকার?

ফোন কেনার সময় অবশ্যই র‌্যামে নজর দিতে হবে। স্মার্টফোনে অপারেটিং সিস্টেম র‌্যামের অনেকটা দখল করে নেয়। তাই বাজেট কম থাকলে কমপক্ষে ২ গিগাবাইট আর সম্ভব হলে ৩ গিগাবাইটের ফোন কেনা উচিত। তাহলে স্বাভাবিকভাবে অ্যাপ ব্যবহার করা যাবে।

 

র‌্যামই শেষ কথা নয়

র‌্যাম বেশি থাকলেই যে ফোনের গতি ‘দুর্দান্ত’ হবে এমনটা বলা যাবে না। এ ক্ষেত্রে প্রসেসর ও স্টোরেজ গুরুত্বপূর্ণ। প্রসেসর দুর্বল হলে র‌্যাম বেশি থেকেও ভালো গতি পাওয়া যাবে না।

মাথায় রাখতে হবে—ফোনে একসঙ্গে কতগুলো অ্যাপ চালু রাখা যাবে র‌্যাম সেটাই কেবল নির্ধারণ করে, অ্যাপগুলো চালানোর গতি নয়!



মন্তব্য