kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নিজের কাছেই সমাধান!

স্মার্টফোনে কথা বলার সময় অনেক ক্ষেত্রে অপর প্রান্তের ব্যক্তি শুনতে পান না। অ্যাপ ক্র্যাশ করা, ডিভাইস হ্যাং করা, এমনকি বিস্ফোরণের মতো দুর্ঘটনাও ঘটে। এ ধরনের বেশ কিছু সমস্যার কারণ নিজেই নির্ণয় করা সম্ভব। সমাধানও করা যায় কিছু কিছু। লিখেছেন তুহিন মাহমুদ

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ০০:০০



নিজের কাছেই সমাধান!

মডেল : মিরন ও মোহন, ছবি : কাকলী প্রধান

অ্যাপ ক্র্যাশ করলে

স্মার্টফোনের অ্যাপ ক্র্যাশ করতে পারে যখন-তখন। এমনটা ঘটলে ভোগান্তি কম নয়।

হ্যাং করতে পারে স্মার্টফোন। এমন পরিস্থিতিতে ফোনটির ব্যাটারি খুলে আবার লাগিয়ে চালু করতে হবে। বর্তমানে এমন অনেক স্মার্টফোন আছে, যেগুলোর ব্যাটারি সরাসরি খোলা যায় না। সে ক্ষেত্রে নির্ধারিত বাটনে ক্লিক করে ‘রিসেট’ করতে হবে।

এভাবেও যদি কাজ না হয় তখন অ্যাপের ক্যাশ মেমোরি মুছে ফেলতে হবে। ক্যাশ মেমোরি মুছতে প্রথমে যেতে হবে অ্যানড্রয়েড ফোনের সেটিংসে। সেখান থেকে নিচের দিকে থাকা ‘অ্যাপস’ অপশনে ক্লিক করতে হবে। তারপর ক্র্যাশ করা অ্যাপটিতে ক্লিক করলে ‘অ্যাপ ইনফো’ নামের একটি পাতা আসবে। এর নিচের ক্যাশ অংশে থাকা ‘ক্লিয়ার ক্যাশ’ বোতামটি চেপে অ্যাপের ক্যাশ মেমোরি মুছে দিতে হবে।

এর পরও যদি সমস্যা থাকে, তাহলে অ্যাপ ইনফো থেকে ‘ক্লিয়ার ডাটা’ ও ‘ক্লিয়ার ক্যাশ’ লেখা অপশন দুটিতেই ক্লিক করতে হবে।

 

বিস্ফোরণ থেকে বাঁচার উপায়

ইদানীং স্মার্টফোন বিস্ফোরণের খবর প্রায়ই শোনা যায়। এতে স্মার্টফোন বিকল হওয়ার পাশাপাশি ব্যবহারকারীও আহত হন। এমন দুর্ঘটনায় মারা যাওয়ার উদাহরণও আছে। স্মার্টফোন বিস্ফোরণে আগুন লেগে গেছে বাসাবাড়িতেও!

স্মার্টফোন বিস্ফোরণ থেকে বাঁচতে কিছু উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে :

► ওয়াই-ফাই ব্যবহারের সময় দুর্বল নেটওয়ার্কে কথা বললে স্মার্টফোন বেশ গরম হয়ে যেতে পারে। চার্জ দেওয়ার সময়ও এটি গরম হয়। দুইয়ে মিলে এটি অতিরিক্ত তাপে যেকোনো মুহূর্তে বিস্ফোরণ ঘটে যেতে পারে। তাই স্মার্টফোন চার্জে দিয়ে ব্যবহার না করাটাই ভালো।

►  ব্যাটারি উন্নতমানের না হলে খানিকক্ষণ ব্যবহারেই ডিভাইস গরম হয়ে যায়। এভাবেও অনেক সময় স্মার্টফোনের বিস্ফোরণ ঘটে। তাই ব্যবহার করতে হবে মানসম্পন্ন ব্যাটারি। এ ক্ষেত্রে স্মার্টফোন কেনার সময় ব্যাটারি সম্পর্কে জেনে নিতে হবে। অনলাইনে বিভিন্ন সাইট থেকে ব্যবহারকারীদের রিভিউ পড়ে নিতে পারেন। http://www.gsmarena.com/battery-test.php3 সাইটে গিয়েও ব্যাটারি নিয়ে বিভিন্ন তথ্য পেতে পারেন। এটি মোবাইলের জন্য বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত একটি সাইট।

►  অনেক সময় হাত থেকে মেঝেতে পড়ে যায় ফোন। এ ক্ষেত্রে ফোনটির বহিরংশে কোনো ক্ষত চোখে না পড়লেও ক্ষতি হতে পারে ভেতরের যন্ত্রাংশে। এমনকি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ব্যাটারিও। তাই হাত ফসকে পড়ে গেলে রিপেয়ারিং সেন্টারে নিয়ে ফোনটি ঠিক আছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখা উচিত।

►  চার্জ দেওয়ার সময় স্মার্টফোন বালিশ বা অন্য কিছু দিয়ে চেপে রাখা উচিত নয়। আগেই বলা হয়েছে, চার্জ দেওয়া অবস্থায় ফোনে তাপ উৎপন্ন হয়। এর ওপর যদি তা ঢেকে রাখা হয়, তাহলে ক্ষতির আশঙ্কা অনেক বেড়ে যায়। সে জন্য সব সময় খোলামেলা স্থানে রেখে মোবাইল চার্জ দেওয়া উচিত।

►  ফোনে পানি প্রবেশ করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে শুকিয়ে নিয়ে তা ঠিক করা হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে শর্টসার্কিটে কোনো সমস্যা দেখা দিল কি না তা রিপেয়ারিং সেন্টারে নিয়ে ভালোভাবে পরীক্ষা করে দেখা উচিত। অনেক সময় ক্ষতিগ্রস্ত শর্টসার্কিটের জন্য ফোনের বিস্ফোরণ ঘটে।

 

শব্দজনিত সমস্যা হলে

স্মার্টফোনে কথা বলার সময় অনেক ক্ষেত্রে অপর প্রান্তের ব্যক্তি শুনতে পান না। মাঝেমধ্যে শব্দের আওয়াজও কমে যায়। নানা কারণে এমনটা হতে পারে।

এ সমস্যা দূর করার জন্য কয়েকটি পন্থা অবলম্বন করা যেতে পারে :

►  প্রথমে ডিভাইসটি বন্ধ করে ব্যাটারি ও সিম কার্ড খুলে কিছুক্ষণ রেখে দিতে হবে। কিছু সময় পর ডিভাইসে ব্যাটারি ও সিম কার্ডটি রিপ্লেস করলে সমস্যার সমাধান হতেও পারে।

►  সম্ভব হলে ‘কমপ্রেসড এয়ার’-এর সাহায্যে সেই ছিদ্রে বাতাস দিলে ধুলা থাকলে তা পরিষ্কার হয়ে যায়।

►  কথা বলার ক্ষেত্রে ব্লুটুথ-জাতীয় যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে থাকলে তা বন্ধ করে আবার চেষ্টা করতে হবে। এতে সমস্যাটি ডিভাইসের, না মাইক্রোফোনের তা নিশ্চিত হওয়া যাবে।

►  সাউন্ড রেকর্ডারের সাহায্যে ভয়েস কিংবা অন্য কোনো শব্দ রেকর্ড করে দেখতে হবে ঠিকভাবে হয় কি না। এতে কলার বা ডায়ালার অ্যাপে সমস্যা আছে কি না তা বোঝা যাবে।

►  অনেক সময় হাত থেকে পড়ে গিয়ে কিংবা চাপ লেগে মাইক্রোফোনটি ভেঙে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে  ফোনের সাউন্ডে সমস্যা হতে পারে। যদি ডিভাইসের মাইক্রোফোন কাজ না করে, তাহলে সার্ভিস সেন্টারে নিয়ে মাইক্রোফোনটি পরিবর্তন করতে হবে।

ওয়াই-ফাই সংযোগ চালু না হলে

মোবাইল ফোনে ডাটা ব্যবহার ব্যয়বহুল হওয়ায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগকে ‘ওয়াই-ফাই’ হিসেবে স্মার্টফোনে ব্যবহার করছেন অনেকেই। তবে এ ধরনের সংযোগ ব্যবহার করতে গিয়ে অনেক সময় সমস্যায় পড়তে হয়।

এসব সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে কিছু সমাধান :

►  যদি ইন্টারনেট সংযোগ ঠিকঠাক কাজ না করে, তাহলে প্রথমে রাউটারটির সংযোগ ঠিক আছে কি না তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। সব ঠিক থাকলে রাউটারটি রিস্টার্ট দিতে হবে।

►  স্মার্টফোনের ‘পাওয়ার মোড’ চালু আছে কি না তা-ও দেখতে হবে। অনেক সময় পাওয়ার মোডের সেটিংসে ওয়াই-ফাই, ব্লুটুথ ও মোবাইল ডাটা নেটওয়ার্ক বন্ধ করা থাকে।

►  ওয়াই-ফাই সেটিংস থেকে আইপি পরিবর্তন করে দেখতে হবে।

►  রাউটারের ম্যাক আইডির ‘হোয়াইট’ অপশন পরীক্ষা করতে হবে। কারণ ম্যাক আইডির হোয়াইট লিস্ট না থাকার ফলে ইন্টারনেট সংযোগ পেতে সমস্যা হয়।

►  যদি রাউটার ঠিক থাকা সত্ত্বেও স্মার্টফোনে নেট সংযোগ পাওয়া না যায়, সে ক্ষেত্রে ফোনটি রিসেট দিয়ে দেখা যেতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সেটিংয়ের ঝামেলার কারণেও ওয়াই-ফাই সংযোগ পাওয়া যায় না।

 


মন্তব্য