kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


স্মার্টফোনটি থাকুক নতুনের মতো, সব সময়

তুসিন আহমেদ   

১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ০০:০০



স্মার্টফোনটি থাকুক নতুনের মতো, সব সময়

দিন যতই যেতে থাকে ফোনের গতিও একটু একটু করে কমে আসতে থাকে। এ সমস্যা শুধু অ্যানড্র্রয়েড অপারেটিং সিস্টেম সেটেই নয়, উইন্ডোজ বা আইওএস—সব অপারেটিং সিস্টেমেও দেখা যায়।

তাই বলে ঘনঘন ফোন বদল তো এ সমস্যার সমাধান হতে পারে না। কিছু টিপস জানা থাকলে স্মার্টফোনটিকে সব সময় নতুনের মতো গতিময় রাখা যায়। এই টিউটরিয়ালে সেদিকে নজর দেওয়া হয়েছে।

 

অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আনইনস্টল

স্মার্টফোনে অনেক অ্যাপ থাকে, যেগুলো তেমন একটা প্রয়োজন হয় না। এমন অনেক অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ইনস্টলের ফলে ফোনের অভ্যন্তরীণ মেমোরি কমে যায় এবং র‌্যামের ওপর চাপ পড়ে। ফলে স্মার্টফোনটির গতি যায় কমে। আর তাই অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ ফেলে দিয়ে আপনার ফোনের গতি বাড়িয়ে নিতে পারেন।

 

ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপ বন্ধ রাখা

সব মোবাইলের ওএসে কিছু অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু থাকে, যা কিছুক্ষণ পর পরই অটোরিফ্রেশ ও আপডেট হয়। এর মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো ফেইসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাপগুলো। এ ছাড়া আরো কিছু অ্যাপ রয়েছে যেগুলো ব্যাকগ্রাউন্ডে চালু থেকে প্রতিনিয়ত র‌্যামের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। এমন ক্ষেত্রে ফোনের সেটিংস থেকে রানিং অ্যাপ্লিকেশন অপশনে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় অ্যাপগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ডের কাজ বন্ধ করে দিতে হবে। এতে র‌্যাম ফ্রি পাওয়া যাবে আর ফোন হবে আরো গতিময়।

 

হোম স্ক্রিন পরিষ্কার রাখা

অ্যানড্রয়েড ফোনের হোম স্ক্রিনে নানা উইজেট থাকে। এগুলোর সাহায্যে কম ক্লিকে অনেক কাজ করা যায়। এ ফিচারের সুবিধার মতো আছে নানা অসুবিধাও। অনেক বেশি উইজেট মোবাইলের হোম স্ক্রিনে থাকলে তা র‌্যামের ওপর চাপ ফেলে। এতে ফোনের গতি কিছুটা হলেও কমে যায়। তাই সেখানে অপ্রয়োজনীয় উইজেট কিংবা অ্যাপের আইকন না রাখাই ভালো।

 

অ্যানিমেশন বা লাইভ ওয়ালপেপার ব্যবহার বন্ধ

স্মার্টফোনে একটি অ্যাপ চালু রেখেছেন, এমন সময় আরেকটি অ্যাপ ওপেন করার প্রয়োজন হলো। দেখা যাবে এক অ্যাপ থেকে আরেক অ্যাপে যেতে সময় লাগবে বেশি। সাধারণত ফোনের গতি কমে যাওয়ার কারণেই তা হয়ে থাকে। ফোনে যদি লাইভ ওয়ালপেপার ব্যবহার করা হয়, তাহলে তা একই সঙ্গে র‌্যাম ও চার্জের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলে থাকে। এ ছাড়া টাস্ক পরিবর্তনের সময় বিভিন্ন অ্যানিমেশন দেওয়া হয়। সেটিও ফোনে একই রকম প্রভাব ফেলে। তাই ওয়ালপেপার ও অ্যানিমেশন অপশন দুটি সেটিংস থেকে বন্ধ রাখা উচিত।

 

অভ্যন্তরীণ স্টোরেজ খালি রাখা

ফোনের অভ্যন্তরীণ স্টোরেজ খালি রাখলে দারুণ গতি পাওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় ডাউনলোড ফাইল, ব্রাউজারের হিস্টোরি, অনেক দিন আগের ছবি ইত্যাদি সরিয়ে মেমোরি খালি রাখা উচিত।

মেমোরি পরিপূর্ণ হয়ে গেলে ফোন ধীরগতির হয়ে পড়ে। এ জন্য ছবি বা প্রয়োজনীয় ফাইলগুলোর ব্যাকআপ কিংবা অনলাইনের ক্লাউড স্টোরেজে সংরক্ষিত রাখা যায়। এতে ফোনের অভ্যন্তরীণ মেমোরি থেকে অতিরিক্ত ফাইল রিমুভ করার মাধ্যমে কিছু স্টোরেজ বাড়ানো যাবে।

 

থাকুন আপডেট

বিভিন্ন সময় ফোনের অপারেটিং সিস্টেমে (ওএস) নানা রকমের বাগ বা ত্রুটি ধরা পড়ে। তখন ফোনে নানা রকম ঝামেলা দেখা দেয়। পুরনো ওএসকে বাগমুক্ত করতে আনা হয় নতুন সংস্করণ। আর তাই স্মার্টফোনে সব সময় সর্বশেষ ওএস ব্যবহার করা উচিত। সে জন্য নতুন ওএস এলে সেটি আপডেট করে রাখা উচিত। এতে ফোন থাকবে গতিময়। অ্যানড্রয়েড, আইওএস, উইন্ডোজ ডিভাইসের সেটিংস অপশন বা সফটওয়্যার আপডেট অপশন থেকে দেখে নেওয়া যাবে কোনো নতুন আপডেট আছে কি না। আপনার মোবাইলে নতুন ওএস আপগ্রেড দেওয়ার সুবিধা থাকলে সেখানে ক্লিক করে ওএসটি আপডেট করে নেওয়া যাবে। তবে এ জন্য ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন হবে।


মন্তব্য