kalerkantho


এমবিলিয়ন্থজয়ী তিন বাংলাদেশি উদ্যোগ

দক্ষিণ এশিয়ার মোবাইল ও টেলিকম প্রযুক্তি বিষয়ক উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতা ‘এমবিলিয়ন্থ অ্যাওয়ার্ড ২০১৬’-এর তিনটি বিভাগে বিজয়ী হয়েছে বাংলাদেশের তিন উদ্যোগ। বিস্তারিত জানাচ্ছেন তুসিন আহমেদ

৩০ জুলাই, ২০১৬ ০০:০০



এমবিলিয়ন্থজয়ী তিন বাংলাদেশি উদ্যোগ

২০১০ সাল থেকে চালু হওয়া এমবিলিয়ন্থ অ্যাওয়ার্ড দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে প্রতিশ্রুতিশীল মোবাইল উদ্যোগগুলোকে স্বীকৃতি দেয়। ২৩ জুলাই ভারতের নয়াদিল্লিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দেওয়া হয় এ বছরের পুরস্কার।

‘এম-ব্যবসা ও বাণিজ্য’ বিভাগে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন নিয়ে গড়ে ওঠা একেবারে দেশি মার্কেটপ্লেস ‘অ্যাপবাজার’ এবং ‘সরকার ও নাগরিক সম্পৃক্ততা’ বিভাগে ‘ভ্যাট চেকার অ্যাপ্লিকেশন’। ‘জনবসতি ও নগরায়ণ’ বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশনের (এটুআই) ‘বাংলাদেশ ইমার্জেন্সি সার্ভিসেস’ প্রকল্প।

 

অ্যাপবাজার

গুগলের প্লেস্টোর থেকে পেইড অ্যাপ্লিকেশন ডাউনলোড করতে গিয়ে নানা ঝামেলা পোহাতে হয়। আবার অ্যাপ প্লেস্টোর বা অ্যাপস্টোরে বিক্রির পর দেশি ডেভেলপারদের অর্থ পেতেও বেশ ঝামেলায় পড়তে হয়। এসব যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতেই কাজ করে যাচ্ছে অ্যাপবাজার। এতে ‘পেপাল’ বা মাস্টার কার্ডের ঝামেলা ছাড়াই একেবারে দেশি পেমেন্ট পদ্ধতিতে এখান থেকে অ্যাপ কেনা যায়।

অ্যাপবাজার মূলত গুগলের প্লেস্টোর বা অ্যাপলের অ্যাপস্টোরের আদলে তৈরি। যেকোনো ডেভেলপার এতে অ্যাপ্লিকেশন সহজেই আপলোড করতে পারে এবং গ্রাহকরা তা সহজেই ডাউনলোড করে ব্যবহার করতে পারে। এতে আছে নিজস্ব ওয়ালেট, গিফট সিস্টেম এবং বিজ্ঞাপন দেওয়ার সুযোগ।

বর্তমানে অ্যাপবাজারে এক হাজার ৪৪৭ অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে এবং তা আট হাজারের বেশি ডাউনলোড হয়েছে। দেশি এই প্ল্যাটফর্মে মোট নিবন্ধিত ব্যবহারকারী ৯ হাজার ১৮১ জন।

‘এমবিলিয়ন্থ ২০১৬’-তে ‘এম-ব্যবসা ও বাণিজ্য’ বিভাগে প্রথম হয় এ উদ্যোগ।

অ্যাপবাজারের প্রধান নির্বাহী শফিউল আলম বলেন, ‘আমরা আশা করিনি যে বিজয়ী হব; কেননা এবাবের ১৬ প্রতিদ্বন্দ্বীর সবাই ছিল যোগ্য। এ বিজয় বাংলাদেশের জন্য উৎসর্গ করছি। ’ তিনি আরো বলেন, ‘মাত্র সাত মাসের একটা প্রজেক্ট নিয়ে বিজয়ী হয়ে বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় উপস্থাপন করতে পারাটা সত্যিই অসাধারণ। ’

অ্যাপটির ডাউনলোড লিংক : https://goo.gl/zcSzo5

 

ভ্যাট চেকার

রেস্টুরেন্টে খাওয়ার বিল কিংবা শপিং মলে কেনাকাটায় যে ভ্যাট দেওয়া হয়, সেই টাকা কি সরকারের কোষাগারে পৌঁছে? নাকি জনগণকে বোকা বানিয়ে অতিরিক্ত এই টাকা চলে যায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পকেটে? অনেক প্রতিষ্ঠান ভুয়া মূসক নিবন্ধন নম্বর দেখিয়েও ভ্যাট নিচ্ছে গ্রাহকদের কাছ থেকে। তবে চাইলে হাতে থাকা স্মার্টফোন ব্যবহার করে ভুয়া মূসক নিবন্ধনকারী প্রতিষ্ঠানটি চিহ্নিত করা যায়। তেমনি একটি অ্যাপ্লিকেশন ‘ভ্যাট চেকার’। আর ‘সরকার ও নাগরিক সম্পৃক্ততা’ বিভাগে এই অ্যাপটি জিতে নিল প্রথম পুরস্কার।

অ্যানড্রয়েড অ্যাপটি তৈরি করেছেন ডেভেলপার জোবায়ের হোসাইন ও তূর্য। এই অর্জন সম্পর্কে জোবায়ের বলেন, ‘স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রথমবারই চূড়ান্ত পর্বের জন্য মনোনয়ন পাওয়ায় বেশ ভালোই লেগেছিল। এ বিভাগে আমাদের প্রতিযোগিতা করতে হয়েছে অনেক বড় ধরনের করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত পুরস্কারটা পেয়ে বেশ ভালো লাগছে। ’

বর্তমানে ৫০ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী অ্যাপ্লিকেশনটি ব্যবহার করছে। এদের বেশির ভাগই তরুণ। এই অ্যাপে তাদের শত শত অভিযোগ জমা পড়ছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে শনাক্ত করা হচ্ছে মূসক ফাঁকি দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো। এতে সরকারের রাজস্বপ্রাপ্তি নিশ্চিত হচ্ছে; পাশাপাশি অতিরিক্ত লোকবল ছাড়াই অপরাধীদের ধরতে পারছে সরকার।

অ্যাপ্লিকেশনটির সাহায্যে কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য বা সেবা কেনার পর প্রাপ্ত রসিদে দেওয়া ‘বিআইএন’ বা মূসক নিবন্ধন নম্বরটি ঠিক আছে কি না তা যাচাই করা যায়। চালু করা অ্যাপে বিআইএন নম্বর দেওয়ার স্থানে রসিদে থাকা নম্বরটি দিতে হবে। এরপর ‘চেক’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। যদি প্রতিষ্ঠানটির নিবন্ধন সঠিকভাবে করা হয়ে থাকে তাহলে তা প্রদর্শিত হবে।

যদি নিবন্ধন করা না থাকে তাহলে কোনো তথ্য দেখাবে না অ্যাপটি। ভুয়া এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অ্যাপটির সাহায্যেই তখন সরাসরি অভিযোগ করা যাবে। এর জন্য প্রতিষ্ঠানের ভুয়া নম্বর ও রসিদের ছবি তুলে তা পাঠিয়ে দিতে হবে। অ্যাপটি প্রদত্ত বিআইএন নম্বরের মাধ্যমে সরাসরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রাহকের অভিযোগ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠাবে। এ ছাড়া অ্যাপটির মাধ্যমে ভ্যাটসংক্রান্ত কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য, বিভিন্ন প্রশ্ন ও উত্তর, ভ্যাট প্রদানের নিয়ম, প্রতিষ্ঠানের বৈধতা ইত্যাদি সম্পর্কেও জানা যাবে।

অ্যাপটির ডাউনলোড লিংক : https://goo.gl/P5Ypfs

 

বাংলাদেশ ইমার্জেন্সি সার্ভিসেস

বিপদের সময় হাতের কাছে প্রয়োজনীয় যোগাযোগের নম্বর না থাকলে পড়তে হয় নানা বিপদে। ঘটে যেতে পারে বড় কোনো দুর্ঘটনা। এই সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে পারে ‘বাংলাদেশ ইমার্জেন্সি সার্ভিসেস’। আর এটার জন্য ‘জনবসতি ও নগরায়ণ’ বিভাগে পুরস্কার পেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই)। তাদের উদ্যোগে তৈরি করা হয়েছে অ্যাপটি।

এই অ্যানড্রয়েড অ্যাপের মাধ্যমে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা সহজে অফলাইন থেকেই তাদের নিকটস্থ পুলিশ স্টেশন, ফায়ার সার্ভিস ও সরকারি হাসপাতালগুলোর হালনাগাদ যোগাযোগ নম্বর ও ঠিকানা পাবে এবং নিজেদের মোবাইল ফোন থেকে সরাসরি কলও করতে পারবে। এ ছাড়া ব্যবহারকারীরা অনলাইন মোডে গিয়ে নিকটস্থ এসব স্থাপনার ম্যাপ লোকেশন দেখতে পারবে। সারা দেশে বর্তমানে এই অ্যাপের লক্ষাধিক ব্যবহারকারী রয়েছে।

এটুআইয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অ্যাপটির কন্টেন্টের মান, জনগণের জীবনে এর প্রভাব, টেকসইকরণের সুযোগ, সহজ ব্যবহার, অভিগম্যতা—বিষয়গুলো বিবেচনা করে এই পুরস্কার পেয়েছে অ্যাপ্লিকেশনটি।

অ্যাপটির ডাউনলোড লিংক : https://goo.gl/Dhf5rK

 

একনজরে এবারের এমবিলিয়ন্থ

►  নিবন্ধিত হয় তিন শরও বেশি উদ্যোগ

►  মোট ১০টি বিভাগে ফাইনাল রাউন্ডের জন্য মনোনীত হয় ৬৯টি উদ্যোগ

►  বাংলাদেশ থেকে ছয়টি উদ্যোগ ফাইনাল রাউন্ডের জন্য মনোনীত হয়

► ১৫টি ভারতীয় উদ্যোগ, ৫টি শ্রীলঙ্কান উদ্যোগ এবং ৩টি বাংলাদেশি উদ্যোগ এবার পুরস্কার জিতে নিয়েছে


মন্তব্য