kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বাংলাতেও খান একাডেমি

বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সালমান খানের শেখার অনলাইনে প্ল্যাটফর্ম খান একাডেমির জনপ্রিয়তা বিশ্বজুড়ে। সম্প্রতি বাংলাভাষীদের জন্য চালু হয়েছে এর বিশেষ সংস্করণ। বিস্তারিত জানাচ্ছেন হাবিব তারেক

১২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বাংলাতেও খান একাডেমি

বাংলায় রূপান্তর করা খান একাডেমির সাইট

 বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তা ও শিক্ষাবিদ সালমান খান ২০০৬ সালে অনলাইন শিক্ষার প্ল্যাটফর্ম ‘খান একাডেমি’ (www.khanacademy.org) প্রতিষ্ঠা করেন। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অলাভজনক এ প্রতিষ্ঠানটি জিতে নেয় গুগলের ‘প্রজেক্ট টেন টু দ্য হানড্রেড’ পুরস্কার।

ইংরেজি ভাষাভিত্তিক জনপ্রিয় সাইটটির টিউটরিয়ালগুলো ৩৬টি ভাষায় অনুবাদ হলেও এত দিন সেই তালিকায় বাংলা ছিল না।

১ মার্চ সাইটটির বাংলা সংস্করণ (bn.khanacademy.org) উদ্বোধন করা হয়েছে। মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোন, অলাভজনক সংস্থা আগামী ও খান একাডেমির যৌথ সহযোগিতায় সাইটটি বাংলা হয়েছে।

 

আছে ৬০০ টিউটরিয়াল

আগামীর কর্মকর্তা দিলরুবা চৌধুরী জানান, গত আট মাসে ছয় শতাধিক ভিডিও টিউটরিয়াল বাংলায় রূপান্তর করা হয়েছে। এ কার্যক্রম এখনো চলছে। ভবিষ্যতে আরো বেশি কনটেন্ট ও বাড়তি অনেক বিষয় যুক্ত হবে।

গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব শেঠি জানান, উদ্যোগের অংশ হতে পেরে গ্রামীণফোন গর্বিত। বাংলাভাষী শিক্ষার্থী ও শিক্ষাবিদরা যেকোনো জায়গায় যেকোনো সময় তাঁদের হাতের নাগালে উচ্চ মানসম্পন্ন শিক্ষার উপকরণ খুঁজে পাবেন।

আগামী এডুকেশন ফাউন্ডেশনের সভাপতি মসিহুজ্জামান জানান, আগামীর বাংলাদেশের সব শিশুর মানসম্পন্ন শিক্ষা গ্রহণের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার রূপকল্প বাস্তবায়নে খান একাডেমি বাংলা একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

 

সবার জন্য, সব জায়গায়

সব বয়সী শিক্ষার্থীর জন্য সাইটটিতে রাখা হয়েছে নিজস্ব লার্নিং মেটেরিয়াল বা শিখন সামগ্রী। অনুশীলনী চর্চা, শিক্ষণীয় ভিডিওসহ আছে একটি ব্যক্তিগত শিক্ষা ড্যাশবোর্ড—যাতে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সুবিধামতো সহজে ও দ্রুত শিখতে পারে। শিখন সামগ্রীগুলো এমনভাবে তৈরি, শিখতে ও শেখাতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করে। গণিত, বিজ্ঞান, কম্পিউটার প্রোগ্রামিং, ইতিহাস, কলা, অর্থনীতি এবং আরো অনেক বিষয়ের টিউটরিয়াল আছে।

নিজেদের সম্পর্কে সাইটটিতে বলা হয়, ‘সবার জন্য, সব জায়গায় বিনা মূল্যে বিশ্বমানের শিক্ষাদান করাই আমাদের লক্ষ্য। ’ অনলাইনে বিনা মূল্যে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষার উপকরণ ও উত্সভিত্তিক সহায়তা দিচ্ছে সাইটটি।

bn.khanacademy.org সাইটে গিয়ে ‘এখনই শেখা শুরু করো’ অংশে ক্লিক করে নাম ও ই-মেইল দিয়ে শিক্ষার্থীদের নিবন্ধন করতে হবে। শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য আছে আলাদা বিভাগ।

 

আগ্রহ বাড়ছে শিক্ষার্থীদের

শুধু বিষয়বস্তুর ধারণা স্পষ্ট হওয়াই নয়, পাশাপাশি ওই বিষয়ে আরো জানার আগ্রহ তৈরি হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। সাইটটি শিক্ষার্থীদের কী উপকারে আসছে, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া কী—তাও উঠে আসছে নানা মন্তব্যে। সাইটটিতে এক শিক্ষার্থীর মন্তব্য, ‘আমি আপনাদের (খান একাডেমির) ভিডিওগুলোর খুব তারিফ করি। এটি শুধু এই কারণে নয় যে আমি শেষ বর্ষে ক্যালকুলাসে ৯৬% নম্বর পেয়ে পাস করেছি; বরং এ জন্য যে আমি (শিখতে গিয়ে) বিষয়টির জন্য ভালোবাসাও উপলব্ধি করেছি। সত্যিই গণিতের বিষয়বস্তু এবং প্রয়োগ বুঝতে পারছি—এমন অভিজ্ঞতা আগে কখনোই হয়নি। ’ তিনি আরো বলেন, ‘বেশির ভাগ মানুষ তাদের সহজাত সামর্থ্য অনুযায়ী নয়; বরং তাদের মানসিকতার কারণে পিছিয়ে থাকেন। তাঁরা ভাবেন—বুদ্ধিমত্তা স্থায়ী, আসলে তা নয়। মস্তিষ্ক হচ্ছে পেশির মতো। এটি যত ব্যবহার করা হবে, ততই শক্তিশালী ও কার্যকরী হয়ে উঠবে। ’

 

প্রশিক্ষকদের জন্য ড্যাশবোর্ড

খান একাডেমিতে শিক্ষক বা প্রশিক্ষকদের জন্য আছে একটি ড্যাশবোর্ড বা নিয়ন্ত্রণ প্যানেল। এখানে শিক্ষা উপকরণ বিনা খরচায় সরবরাহ করা হয়, যাতে তারা শিক্ষার্থীর পাঠ বোঝার ভালো উপায় নির্ধারণ করতে সাহায্য করতে পারেন। পাঠ বোঝানোর আগে জানতে হবে শিশু বা শিক্ষার্থী শেখার জন্য চেষ্টা করছে কি না। কিংবা পড়াশোনায় নিরুত্সাহিত হয়ে শ্রেণিকক্ষ থেকে দূরে সরে গেছে কি না। সাইটের প্রশিক্ষক ড্যাশবোর্ডে ক্লাসের পাঠ কার্যক্রমের সারাংশ ও শিক্ষার্থীদের সম্পর্কে বিবরণী থাকে, যাতে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া যায়।

 

গ্লোবাল শ্রেণিকক্ষ

প্রতিদিন বিশ্বের লক্ষাধিক শিক্ষার্থী খান একাডেমি থেকে নানা বিষয়ে শিখছে। শুধু বেশি কনটেন্টের জন্যই নয়, বরং শেখানোর টেকনিকের কারণে সাইটটি জনপ্রিয়। ভিডিও কনটেন্ট বা টিউটরিয়ালগুলো এমনভাবে তৈরি, যাতে ঘরে বসেই শিক্ষার্থীর মনে হয় শ্রেণিকক্ষে আছি। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষক যখন পড়ান, শিক্ষার্থী কোনো ব্যাপারে না বুঝলে প্রশ্ন করে সে বিষয়ে জানতে পারে। আর খান একাডেমির টিউটরিয়ালগুলো এমন, যাতে শিক্ষার্থীর প্রশ্ন করারও দরকার না হয়, অর্থাৎ টিউটরিয়াল দেখে সহজেই শিখতে পারে। তা ছাড়া সাইটটিতে নিবন্ধন করে পূর্ণাঙ্গ এক্সেসের পাশাপাশি চাইলে প্রশ্ন ও অনুরোধও করা যাবে।   

 

কোনো ফি নেই

সাইটটিতে বিজ্ঞাপন যেমন নেই, তেমনি এর সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রেও নেই কোনো ফি। এ ব্যাপারে খান একাডেমির সাইটে বলা হয়, ‘এটি একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। আর এটি সবার জন্য, সব জায়গায় বিনা মূল্যে বিশ্বমানের শিক্ষাদানে আমরা বিশ্বাসী। ’ সাইটটিতে হাজার হাজার স্বেচ্ছাসেবকের পাশাপাশি অনেক অনুদানকারী আছে। কেউ চাইলে প্রদায়ক, স্বেচ্ছাসেবক অনুবাদক হিসেবেও সাইটটিতে ভূমিকা রাখতে পারবে।

প্রদায়ক হতে হলে ক্লিক করুন www.khanacademy.org/contribute

আর স্বেচ্ছাসেবক অনুবাদক হতে চাইলে ক্লিক করুন www.khanacademy.org/r/applytotranslate

 

ক্ষুদ্র থেকে বিশ্বমানের দল

খান একাডেমির শিখন কার্যক্রম শুরু হয়েছিল একজনের (সালমান খানের) ব্যক্তিগত চেষ্টায়। শুরুর দিকে তিনি তাঁর ভাইবোনদের শিখনে সহায়তা করতেন। বর্তমানে এটি বিশাল প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সাইটটিতে বলা হয়েছে, খান একাডেমির সবাই একসঙ্গে এমন একটি অভিযানে নেমেছে, যাতে স্থান, কাল ও পাত্রনিরপেক্ষভাবে সবাইকে বিশ্বমানের শিক্ষা প্রদান করা যায়। সাইটটির পেছনে আছে একদল ডেভেলপার, শিক্ষক, পরিকল্পক, বিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক এবং শিক্ষণ উপকরণ বিশেষজ্ঞ।


মন্তব্য