kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

এগিয়ে যাও আরো

নিজেদের চেষ্টায় এগিয়েছে অনেকটা। আর্থিক আর কারিগরি সহযোগিতা পেলে যাবে বহু দূর। এমন সব ব্যবসায়িক ধারণাকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতেই গ্রামীণফোন আর এসডি এশিয়ার যৌথ আয়োজন ‘জিপি এক্সিলারেটর’। তিন শতাধিকের মধ্যে থেকে বাছাই শেষে সেরা পাঁচে জায়গা করে নেওয়া দলগুলোকে নিয়ে চলছে এখন প্রশিক্ষণ। চার মাসের এই পর্ব শেষ হলে এই পাঁচ ধারণাই হয়ে উঠবে সফল উদ্যোগ। ধারণাগুলো নিয়ে লিখেছেন ফারহাত আহম্মেদ

৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



এগিয়ে যাও আরো

সেবা

এনোভিশন

বাংলাদেশের বেশির ভাগ ওয়েবসাইটের ডিজাইনই মানোত্তীর্ণ নয়। তথ্য সরবরাহের কথা মাথায় রেখেই বেশির ভাগ ওয়েবসাইট তৈরি হয়।

ইউএক্স (ইউজার এক্সপেরিয়েন্স) বিষয়ে বাজার গবেষণার ফলাফল বলে, ভালো ডিজাইনের ওয়েবসাইটে ভিজিটররা আসেন বেশি। তথ্যের পাশাপাশি ডিজাইনকেও গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ তাঁদের।

ডিজাইনে কেন গাফিলতি? এমন প্রশ্নে অনেক ওয়েব ডিজাইনারই জানান, এ ক্ষেত্রে খরচ কিছুটা বাড়ে। তাই এড়িয়ে যেতে চান সবাই। তবে গ্রামীণ এক্সিলারেটরে সেরা পাঁচে জায়গা করে নেওয়া ‘এনোভিশন’ নিয়ে এসেছে সুখবর। তারা কম খরচে সুন্দর ডিজাইনের ওয়েবসাইট করার উপায় নিয়ে কাজ করছে। দলের প্রধান নাজমুল আহমেদ বলেন, ‘যেকোনো প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্নত অনলাইন পোর্টফোলিও তৈরি ও তা পরিচালনার লক্ষ্যে আমরা ইতিমধ্যে প্ল্যাটফর্ম বানিয়ে রেখেছি। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের পণ্য বা সেবা পর্যায়ক্রমে ওয়েবসাইটে এমনভাবে আপলোড করে, যাতে ভিজিটররা যাঁর যাঁর প্রয়োজন অনুযায়ী কাস্টমাইজ করে বা সাজিয়ে ওয়েবসাইট ব্রাউজ করতে পারবেন। এতে খরচ ও সময় দুটোই বাঁচবে। সাইটও হবে মানসম্পন্ন। ’

নাজমুল ছাড়াও ‘এনোভিশন’ দলে আছেন রানা মজুমদার ও পুনম আলম।

ক্যান্ডি

অ্যানড্রয়েড স্মার্টফোনের গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা ‘লক স্ক্রিন’। এতে তথ্য নিরাপদ থাকে। বাঁচে চার্জও। তবে স্ক্রিন লক থাকা অবস্থায় ফোনে কাজ করা কঠিন, বিশেষ করে যাদের ঘন ঘন ফোন বা টেক্সট চেক করতে হয়, তাদের পড়তে হয় ঝামেলায়। এ ক্ষেত্রে খুব বেশি ব্যবহার হয় এমন কিছু বিষয় লক থাকা অবস্থায়ও যাতে করা যায়—তার জন্যই কাজ করছে ‘ক্যান্ডি’। এরই মধ্যে কাজ এগিয়েছে অনেকটাই, জানালেন দলের সদস্যরা।

‘ক্যান্ডি’ দলে আছেন সিদ্দিক আবু বক্কর, জাহিদুর রহমান ও সুরাইয়া আখতার।

রেপ্তো-এডুকেশন সেন্টার

অনলাইনে কোর্স করার সেবা নিয়ে কাজ করছে ‘রেপ্তো-এডুকেশন সেন্টার’। রেপ্তোর কোর্স তৈরির ওয়েব টুলস ব্যবহার করে অনলাইনে সুশৃঙ্খলভাবে পুরো কোর্স পদ্ধতি তৈরি করা যায়। পরবর্তী সময় এসব কোর্স অনলাইনে বিক্রিও করা যাবে। শিক্ষাবিষয়ক টুলস নিয়ে কাজ করার উদ্দেশ্যই হচ্ছে দেশে বাংলা ভাষায় উন্নতমানের অনলাইন কোর্স অফার করা। রেপ্তোর কাছে বিনা মূল্যে, এমনকি পরিশোধযোগ্য মূল্যে কোর্স তৈরি করা আছে। তাই আমাদের তৈরি করা প্ল্যাটফর্মে যে কেউ শেখার পাশাপাশি জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হবে বলে জানালেন রেপ্তোর প্রধান ইশতিয়াক সায়েম। এ দলে তাঁর সঙ্গে কাজ করছেন উষা মারজুকা, প্রিয়তু চৌধুরী ও মুবতাসিম মাহমুদ।

সেবা

বাসাবাড়ির দৈনন্দিন সমস্যা সমাধানের সহায়তা দেবে ‘সেবা’। বৈদ্যুতিক, প্লাম্বিং, ক্লিনিং, লন্ড্রি, পেস্ট কন্ট্রোল, কার সার্ভিসিং, কম্পিউটার ও মোবাইল সার্ভিসিং, লিফট, জেনারেটর রক্ষণাবেক্ষণসহ অন্য অনেক কাজের জন্য দক্ষ জনবল সরবরাহ করবে তারা। উন্নত প্রশিক্ষণের পরই ‘সেবা’র সদস্য হওয়া যাবে।

মোট তিন ধাপে সেবা দেবে তারা। প্রথমে সেবা গ্রহণকারীর কাছ থেকে ফরমায়েশ নেওয়া হবে। দ্বিতীয় ধাপে গ্রাহকের কাছে চাহিদাপত্র আরেকবার পাঠিয়ে নিশ্চিত হয়ে তৃতীয় ধাপে সেবা দেওয়া শুরু হবে। সারা বছর ২৪ ঘণ্টা ‘সেবা’ দেওয়ার পরিকল্পনা তাদের।

দলে আছেন আদনান ইমতিয়াজ, সজীব হক, নাসিম আরা হক ও মনামি আহমেদ।

শেয়ার ইনকরপোরেশন

গণপরিবহন ঢাকা শহরের জনসংখ্যার চাপ সামলাতে ব্যর্থ। অন্যদিকে সিএনজি অটোরিকশার খরচ অনেক বেশি। নিরাপত্তা ও স্বল্প আয়ের লোকজনের কথা মাথায় রেখে স্মার্টফোনে অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করেছে শেয়ার ইনকরপোরেশন।  

সহজে, নিরাপদে এবং কম খরচে যাতায়াত করতে কারপুলিং অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে একজন যাত্রী সহজেই নিজের লোকেশন পরিচিতজনদের সঙ্গে শেয়ার করার পাশাপাশি গন্তব্যের পরিমাণ অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণ করতে পারবেন।

অ্যাপ্লিকেশনটি নিয়ে কাজ করেছেন হ্যাকার হিসেবে পরিচিত প্রতিষ্ঠানটির সিটিও গোলাম ফারহান খান, ডিজাইন পার্টনার সাদাত হামিদ এবং সিইও সুজন চৌধুরী।


মন্তব্য