kalerkantho


দেশি বাজারে অ্যাপ সদাই

বাংলাদেশি ডেভেলপারদের তৈরি অ্যাপ সহজে আপলোড ও দেশি টাকায় অ্যাপস কেনার সুবিধা দিতে চালু হয়েছে মার্কেটপ্লেস 'অ্যাপবাজার' (appbajar.com)। কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে এই উদ্যোগ। বিস্তারিত জানাচ্ছেন তুহিন মাহমুদ   

৭ নভেম্বর, ২০১৫ ০০:০০



দেশি বাজারে অ্যাপ সদাই

অ্যাপবাজারের উদ্যোক্তা শফিউল আলম

সকালে ঘুম ভাঙার অ্যালার্ম, হার্টবিট জানতে জানতে একটা চনমনে দিন কাটানোর চেষ্টায় জগিং, ঠিকঠাক সময়ে অফিস পৌঁছে যাওয়ার জন্য কম জ্যামের পথ বেছে নেওয়া, সন্ধ্যার চায়ের দোকানে বসে 'আপডেট' খবরটি দিয়ে আড্ডা আরো ঘণ্টাখানেক চাঙ্গা রাখার পর বাড়ি ফিরে ক্যালরি মেপে ডিনার সেরে বিছানাযাত্রা-সবখানেই পাওয়া যাবে মোবাইল অ্যাপসের সাহায্যের হাত। প্রযুক্তি-প্রজন্মের অধিকাংশই জানে এ খবর। তাই সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ভিড় বাড়ছে অ্যাপবাজারে। চলছে পণ্য তৈরি, যাচাই আর কেনাবেচা। সবচেয়ে জমজমাট মার্কিন মুল্লুকের গুগল প্লেস্টোর আর আইটিউনস। প্রবেশাধিকার আছে আমাদেরও। তবে চাহিদামতো অ্যাপ পাওয়া গেলেও ঘরে বসে কেনাবেচার ক্ষেত্রে আছে কিছু সমস্যা। বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মুদ্রায় লেনদেনের কার্ড (ইন্টারন্যাশনাল ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড) পাওয়া সহজ নয়। আর ইন্টারন্যাশনাল কার্ড ছাড়া অ্যাপ কেনা যায় না। তাই পছন্দের অ্যাপস কিনতে ব্যর্থ হতে হয় অনেককেই। দেশীয় ডেভেলপাররাও আপলোড করতে পারেন শুধু বিনা মূল্যের অ্যাপগুলো। বৈদেশিক মুনাফা আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তাঁরা! এমন পরিস্থিতিতে গত সপ্তাহে চালু হলো দেশি অ্যাপের বাজার। অ্যাডভান্সড অ্যাপস বাংলাদেশ লিমিটেডের (অ্যাপবিডি) তৈরি এই মার্কেটপ্লেসের নামও-'অ্যাপবাজার'।

 

যেভাবে শুরু

অ্যাপবিডির প্রধান নির্বাহী শফিউল আলম বলেন, ছয় বছর ধরে অ্যানড্রয়েড প্ল্যাটফর্মে কাজ করছি। এ সময়কালে মুখোমুখি হয়েছি অনেক সমস্যার। বিশেষভাবে আমাদের দেশের ডেভেলপাররা প্রিমিয়াম অ্যাপ করতে গিয়ে সব থেকে বেশি সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। আরো ছিল বাংলা ভাষার সমস্যা, যদিও অ্যানড্রয়েডের আপডেটেড সংস্করণে এটি সমাধান করা হয়েছে। আর নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দুই-তিন বছর ধরেই একটি সমাধানের উপায় খুঁজছিলাম। যার ধারাবাহিক এই 'অ্যাপবাজার'। অ্যাপবাজার প্রধানত দুটো সমস্যাকে সামনে রেখে কাজ করছে। স্থানীয় মুদ্রায় (টাকা) ব্যবহারকারী এবং ডেভেলপার দুটো পক্ষকেই অ্যাপ কেনার এবং প্রকাশ (পাবলিশ) করার সুযোগ দিচ্ছে সাইটটি। এতে ব্যবহারকারীরা তাদের পছন্দমতো অ্যাপস ডাউনলোড করতে পারবেন এবং ডেভেলপাররা তাদের অ্যাপস আপলোড করে আয়ের সুযোগ করে নিতে পারবেন।

এক টাকায় অ্যাপ বিক্রি!

অন্যান্য অ্যাপস্টোর থেকে ভিন্ন আদলে তৈরি অ্যাপবাজার। এখানে ডেভেলপার বিনা মূল্যে অ্যাপ আপলোড করতে পারবেন ও কমদামে অ্যাপ বিক্রি করতে পারবেন। যেখানে গুগল প্লেস্টোরে একটি অ্যাপসের সর্বনিম্ন মূল্য ০.৯৯ ডলার, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৭৫ টাকা। সেখানে অ্যাপবাজারে সর্বনিম্ন এক টাকায় অ্যাপ বিক্রি করা যাবে। মাস শেষে কোনো প্রকার কার্ডের ঝামেলা ছাড়াই নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অ্যাপ বিক্রির টাকা পাওয়ার সুবিধা পাবেন ডেভেলপাররা। ব্যবহারকারীরা সহজে নিজেদের মুদ্রায় তথা দেশীয় টাকায় অ্যাপ কিনতে পারবেন।

 

সহজ ইন্টারফেস

বাংলা ও ইংরেজিতে চমৎকার ইন্টারফেসে অ্যাপবাজার তৈরি করা হয়েছে। ফলে ব্যবহারকারী এই দুটি ভাষার যেকোনো একটিতেই সাইটটি ব্যবহার করতে পারবেন।

 

যোগাযোগে চ্যাটিং সুবিধা

অ্যাপবাজার ব্যবহারকারী এবং ডেভেলপারদের মধ্যে থাকছে চ্যাটিং সুবিধা। ফলে একজন ব্যবহারকারী তার পরিচিতজনদের সাথে যোগাযোগ রাখতে পারবেন। ডেভেলপাররাও তাদের তৈরি অ্যাপ ব্যবহারকারীর সঙ্গে চ্যাটিংয়ের সুবিধা পাবেন।

 

আছে বিনিময় সুবিধা

অ্যাপবাজার ব্যবহারকারীরা পছন্দের অ্যাপস বন্ধুদের উপহার দিতে পারবেন। অ্যাপবাজার ব্যবহারের জন্য বন্ধুকে উৎসাহিত করতে পারবেন। অ্যাপবাজার বিষয়টিকে বলছে 'রেফারেল'। প্রতি রেফারেলের জন্য থাকছে বিশেষ বোনাস। এ ছাড়া সবচেয়ে বেশি অ্যাপস ব্যবহারকারীর জন্য প্রতি মাসে থাকছে বিশেষ উপহার।

 

বিক্রি ও অর্থ আয়

অ্যাপবাজারের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন হবে দেশীয় অ্যাপ ডেভেলপারদের সহজ আয়ের উৎস। একজন ডেভেলপার তার অ্যাপস খুব সহজেই যেমন অ্যাপবাজারে জমা দিতে পারবেন, ঠিক তেমনি অ্যাপ বিক্রির টাকা মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশ, ডিবিবিএল ও ভিসা, মাস্টার কার্ড, পেওনিয়ার মাস্টার কার্ড ইত্যাদির মাধ্যমে অ্যাপ কেনাবেচার টাকা গ্রহণ এবং প্রদান করতে পারবেন।

সহজে অ্যাকাউন্ট তৈরি

একজন ব্যবহারকারী খুব সহজেই সাধারণ ওয়েবের মতোই অ্যাপবাজার ব্যবহার করতে পারবেন। এ জন্য প্রথমেই ব্যবহারকারীকে তার মোবাইল ভেরিফিকেশনের জন্য নিবন্ধন করতে হবে। নিবন্ধনের জন্য appbajar.com সাইটে গিয়ে ডানে Registration Now বাটনে ক্লিক করলে appbajar.com/en/register-step-one পেইজটি আসবে। সেখান থেকে কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশ কিংবা বিদেশের ব্যবহারকারী হলে সংশ্লিষ্ট দেশটি নির্বাচন করতে হবে। তার নিচে মোবাইল নম্বরটি প্রবেশের জন্য click here to insert your phone number বাটনে ক্লিক করতে হবে। একটি পপআপ বক্স আসবে। পুনরায় দেশ নির্বাচন করতে হবে। নিচে মোবাইল নম্বরের ঘরে ব্যবহারকারীর মোবাইল নম্বরের প্রথম ০ ছাড়া বাকি ১১ ডিজিট লিখতে হবে। নম্বরটি ঠিক থাকলে নিবন্ধনকারীর মোবাইলে একটি ৬ ডিজিটের কনফার্মেশন কোড যাবে। কোডটি নির্ধারিত ঘরে প্রবেশ করিয়ে অ্যাকাউন্ট ভেরিফাই করতে হবে। ভেরিফাই হয়ে গেলে পরবর্তী পেইজে নিবন্ধনকারীর নাম, ই-মেইল অ্যাড্রেস ও পাসওয়ার্ড দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। এখন মুঠোফোন নম্বর ও নির্ধারিত পাসওয়ার্ড দিয়ে সাইটটি ব্যবহার করা যাবে। সাধারণ ব্যবহারকারীরা অ্যাকাউন্টে লগইন করে অ্যাপস কিনতে ও ডাউনলোড করতে পারবেন। লগইন করার পর appbajar.com/en/u/dev লিংকে গিয়ে ডেভেলপাররা তাদের অ্যাপসগুলো আপলোড করতে পারবেন। অ্যাপবাজারের নিজস্ব মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমেও ব্যবহারকারীরা অ্যাপস ডাউনলোড, আপলোডসহ সব সুবিধা পাবেন।

 

এখন পাবেন

বেটা সংস্করণ হিসেবে যাত্রার শুরুর দিন থেকেই দেশীয় ডেভেলপারদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে অ্যাপবাজার। যার প্রতিফলন হিসেবে বর্তমানে মার্কেটপ্লেসটিতে ৬০টিরও বেশি অ্যাপস বিক্রির জন্য আপলোড করা হয়েছে। যেগুলো সর্বনিম্ন এক টাকা থেকে শুরু করে ৫০ টাকায় কেনা যাবে।

হবে কর্মসংস্থান

শফিউল আলম জানান, অ্যাপবাজার একই সঙ্গে ডেভেলপারদের জন্য একটি কার্যকর লাইব্রেরি তৈরি করছে। শিগগিরই দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট ও সেগুলোতে অ্যাপবাজারের মাধ্যমে বিক্রি করার বিষয়ে সেমিনার, কর্মশালার আয়োজন করা হবে এবং এই লাইব্রেরিটা সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে অ্যাপবাজারের মাধ্যমে ৫০ হাজার মানুষের আয়ের সুযোগ তৈরি করা হবে। তথ্যের চেয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ বিশেষ করে শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতের অ্যাপ নিয়ে কাজ করা হবে।

 

ছড়িয়ে যাবে সবখানে!

শুধু বাংলাদেশ নয়, শিগগিরই দক্ষিণ এশিয়া থেকে শুরু করে ধারাবাহিকভাবে বিশ্বের বাজারে অ্যাপবাজারকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান সংশ্লিষ্টরা। সে কারণেই বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ সুবিধার পাশাপাশি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অ্যাপস্টোরগুলোর সব সুবিধার পাশাপাশি অ্যাপবাজারকে আরো আধুনিক করা হবে বলে জানান তাঁরা।

 


মন্তব্য