kalerkantho


ঠিকঠাক করে চালাই কম্পিউটার

কেনার পর বছরখানেক ভালোই চলে। এরপর গতি কমে যাওয়া, ঘন ঘন রিস্টার্ট, ইন্টারনেট সংযোগ, সাউন্ড ইত্যাদিতে সমস্যা শুরু হয়। এমন অবস্থায় অনেকে নতুন পিসি কিনে ফেলেন। তবে পার্টস আর সফটওয়্যার বদলে অল্প খরচেই এসব ঝামেলা দূর করা সম্ভব। বিস্তারিত জানাচ্ছেন বদরুদ্দোজা মাহমুদ

১০ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ঠিকঠাক করে চালাই কম্পিউটার

কম্পিউটারের গতি কমে গেলে হতাশ হয়ে বসে না থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিন । মডেল : শফিক ছবি : তারেক আজিজ নিশক

বাড়াই গতি

 

কম্পিউটারের গতি কমে যাওয়ার মূল কারণ ব্যবহৃত সফটওয়্যারের তুলনায় র‌্যাম কম থাকা। নতুন র‌্যাম যুক্ত করে গতি বাড়িয়ে নেওয়া সম্ভব। ডেস্কটপ ও ল্যাপটপে সাধারণত একাধিক র‌্যাম পোর্ট বা স্লট (মাদারবোর্ডে র‌্যাম সংযুক্ত করার স্থান) থাকে। আগেরটি রেখে সঙ্গে বাড়তি র‌্যাম লাগানো যায়। বাজারে ২, ৪, ৮, ১৬ এবং ৩২ গিগাবাইটের র‌্যামও পাওয়া যায়। কাজের ধরন ও স্লট অনুযায়ী র‌্যাম লাগাতে হয়। এ ক্ষেত্রে র‌্যামের বাস ফ্রিকোয়েন্সি দেখে নেওয়া ভালো। বাস যত বেশি হবে, র‌্যামের গতি হবে তত দ্রুত। দেড় থেকে শুরু করে ১০ হাজার টাকায় র‌্যামগুলো যুক্ত করা যাবে।

 

হার্ডডিস্কে জায়গা শেষ!

কেনার সময় ভেবেছিলেন ৫০০ গিগাবাইট হার্ডডিস্কই যথেষ্ট, কিন্তু বছর পার হতেই দেখলেন ড্রাইভগুলোর আইকন লাল হয়ে গেছে। এর মানে ফুরিয়ে আসছে হার্ডডিস্কের ধারণক্ষমতা। আবার মাঝেমধ্যে হার্ডড্রাইভ মিসিং সিগন্যাল দেখায়। বুঝতে হবে নতুন হার্ডড্রাইভ লাগানোর সময় এসেছে।

বাজারে ডেস্কটপের জন্য ব্র্যান্ডভেদে ৫০০ গিগাবাইটের হার্ডড্রাইভ দেড় হাজার থেকে দুই হাজার ৩০০, এক টেরাবাইটের সাড়ে তিন হাজার থেকে চার হাজার, দুই টেরাবাইট পাঁচ হাজার ৩০০ থেকে পাঁচ হাজার ৮০০, চার টেরাবাইট ৯ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

ডেস্কটপে একাধিক হার্ডড্রাইভ লাগানোর সুযোগ থাকলেও ল্যাপটপে নেই। তাই বদলে লাগাতে হবে নতুনটি। ল্যাপটপের হার্ডডিস্ক ৫০০ গিগাবাইট তিন হাজার থেকে তিন হাজার ৪০০ ও এক টেরাবাইটের তিন হাজার ৬০০ থেকে চার হাজার ২০০ টাকায় পাওয়া যাবে।

বাজারে এখন নতুন প্রযুক্তির এসএসডি হার্ডডিস্কও চলছে বেশ। এগুলোর মধ্যে ১২০ গিগাবাইট দুই হাজার ৭০০ থেকে তিন হাজার, ২৫০ গিগাবাইট ছয় হাজার ৫০০ থেকে ছয় হাজার ৭০০ টাকা, ৪২০ গিগাবাইট সাত হাজার ৮০০ থেকে আট হাজার ৪০০, ৫০০ গিগাবাইট ৯ হাজার ৭০০ থেকে ১৬ হাজার ও এক টেরাবাইট ২৪ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকায় পাওয়া যাবে।

 

গ্রাফিকসে অসন্তুষ্টি?

কম্পিউটারে নির্বিঘ্নে গেইম খেলতে দরকার গ্রাফিকস কার্ড। ফটোশপ, ইলাস্ট্রেটর কিংবা ভিডিও এডিটিংয়ের মতো সফটওয়্যার চালাতেও গ্রাফিকস কার্ড লাগে। গ্রাফিকস কার্ড কেনার আগে কুলিং সিস্টেম, মডেল নম্বর, কম্পিউটারে লাগানো প্রসেসরের সঙ্গে চলনসই কি না, কেসিংয়ে গ্রাফিকস পোর্ট আছে কি না ইত্যাদি বিষয় দেখে নিতে হয়। 

বাজারে ব্র্যান্ডভেদে দুই গিগাবাইট ডিডিআর৩ গ্রাফিকস কার্ড চার হাজার ৩৫০ থেকে চার হাজার ৭০০, দুই গিগাবাইট ডিডিআর৫ গ্রাফিকস কার্ড পাঁচ হাজার ১০০ থেকে ১৩ হাজার, চার গিগাবাইট ডিডিআর৫ ১৪ হাজার থেকে ১৯ হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

 

আছে সাউন্ড সমস্যারও সমাধান

কম্পিউটারে ভালো মানের স্পিকার, হোম থিয়েটার ইত্যাদি সংযুক্ত করেও অনেক সময় ভালো শব্দ পাওয়া যায় না। কম্পিউটারে সাউন্ড পোর্ট ঠিকঠাক কাজ না করলে এমনটা হয়। এ ক্ষেত্রে ডেস্কটপে লাগিয়ে নিতে পারেন আলাদা সাউন্ড কার্ড।

বাজারে তিন থেকে পাঁচ হাজার টাকায় সাধারণ মানের এবং ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকায় উন্নতমানের সাউন্ড কার্ড পাওয়া যায়। পোর্ট সমস্যা হলে ইউএসবি টু অডিও পোর্ট কনভার্টারও লাগিয়ে নিতে পারেন। খরচ পড়বে ২০০ থেকে ৩৫০ টাকা।

ব্যাটারি চলবে

প্রথম বছর ভালো চললেও দ্বিতীয় বছর থেকে সাধারণত ল্যাপটপ ব্যাটারি ব্যাকআপে সমস্যা করে।

ব্যাটারি সারিয়ে নেওয়ার উপায় নেই, নতুন কিনে বদলে নিতে হয়। ব্যাটারি কেনার সময় ল্যাপটপের মডেল, সেল সংখ্যা, ভোল্টেজ এবং মিলিঅ্যাম্পিয়ার দেখে নেওয়া উচিত। ব্র্যান্ডভেদে এক থেকে আড়াই হাজার টাকায় ব্যাটারি পাওয়া যায়।

ঠাণ্ডা করুন ‘গরম’

ডেস্কটপ ও ল্যাপটপ দুই ধরনের কম্পিউটারই দীর্ঘক্ষণ কাজ করলে গরম হয়। প্রসেসর গরম হয়ে কম্পিউটার রিস্টার্টও নেয় অনেক সময়। কুলিং ফ্যান ঠিকঠাক কাজ না করলে এ সমস্যা হয়। ডেস্কটপে কেসিংয়ের সঙ্গে আলাদা কুলিং ফ্যান যুক্ত করা যায়। হাজার টাকার মধ্যেই ভালোমানের কেস কুলিং ফ্যান পাওয়া যায়।

ব্যাটারি ও প্রসেসরের তাপ বিকিরণ করতে না পারলে ল্যাপটপ গরম হয়। বিছানা, বালিশ, এমনকি কোলের ওপরে রাখলে গরম বাতাস বের হওয়ার পথে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। ফলে ল্যাপটপ গরম হয়ে যায়। তাই ল্যাপটপ সমতল জায়গায় ব্যবহার করার চেষ্টা করবেন। প্রয়োজনে কিনে নিতে পারেন ল্যাপটপ কুলার। এগুলোর সঙ্গে ফ্যান থাকে। দাম ৬০০ থেকে দুই হাজার টাকা।

 

আর নয় সংযোগহীন

ডেস্কটপে ইথারনেট পোর্ট বা ল্যাপটপে ওয়াই-ফাই কাজ করলে ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক অ্যাডাপ্টর লাগিয়ে নিতে হবে। ইউএসবি পোর্টের মাধ্যমে এই নেটওয়ার্ক অ্যাডাপ্টরে যুক্ত হওয়া যাবে। ব্র্যান্ড ও গতিভেদে এসব অ্যাডাপ্টরের দাম ২৫০ থেকে ৬০০ টাকা।

কেবলের মাধ্যমে ডেস্কটপ কিংবা ল্যাপটপে ইন্টারনেট যদি ব্যবহার করতে চান, তাহলে ইউএসবি টু ইথারনেট অ্যাডাপ্টর (কনভার্টার) ব্যবহার করতে পারেন। দাম পড়বে এক থেকে দেড় হাজার টাকা।

 

ভাইরাস দূরে

কম্পিউটারের ডাটা সুরক্ষায় অ্যান্টিভাইরাস ব্যবহার করতে হয়। ব্র্যান্ড ও সুবিধাভেদে অ্যান্টিভাইরাস পাওয়া যায় ৫০০ থেকে এক হাজার টাকায়। কেনার পর অ্যান্টিভাইরাস নিয়মিত আপডেট করতে হবে।

 

বিদায় অপ্রয়োজনীয় ফাইল

কম্পিউটার দীর্ঘদিন চললে রেজিস্ট্রি, ওয়েব ব্রাউজারের বিভিন্ন টেম্পোরারি ফাইল, ইউআরএল হিস্টোরি, কুকিজ, ডাউনলোড হিস্টোরি, উইন্ডোজের রিসেন্ট ডকুমেন্ট, রিসাইকেল বিন, টেম্পোরারি ফাইল, লোগো ফাইল ইত্যাদি টেম্পোরারি বা জাংক ফাইল তৈরি হয়। এসব অপ্রয়োজনীয় ফাইল কম্পিউটারের গতি কমিয়ে দেয়। উইন্ডোজের ডিস্ক ক্লিনআপ প্রগ্রামের মাধ্যমে এসব অপ্রয়োজনীয় ফাইলের কিছু অংশ মুছে ফেলা যায়। তবে পরিপূর্ণভাবে মুছে ফেলতে সবচেয়ে কাজের সফটওয়্যার সিক্লিনার।

ডাউনলোড ঠিকানা: https://www.ccleaner.com/

 

নতুন করে অপারেটিং সিস্টেম

কম্পিউটারের নৈমিত্তিক সমস্যার সহজ সমাধান হলো অপারেটিং সিস্টেম আপগ্রেড করা। প্রয়োজন, ডিভাইসের ধরন ও মান ইত্যাদির ওপর ভিত্তি করে অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতে পারেন। বর্তমানে চলছে উইন্ডোজ ১০। সিডি-ডিভিডি থাকলে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম নিজেই ইনস্টল করা যায়। এ ছাড়া মাইক্রোসফটের ওয়েবসাইট থেকে পছন্দের অপারেটিং সিস্টেম ডাউনলোড করে কম্পিউটারে ইনস্টল ও আপগ্রেড করতে পারেন।



মন্তব্য