kalerkantho


সিএসবিডি অ্যানোনিমাস দ্য চ্যাম্পিয়ন

২০ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



সিএসবিডি অ্যানোনিমাস দ্য চ্যাম্পিয়ন

গেইমিংয়ে দেশসেরা হওয়ার পর আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টেও চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশের সিএসবিডি অ্যানোনিমাস দল। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের গেইমারদের পেছনে ফেলে ইন্ডিয়ান সাইবার গেইমিংয়ে (আইসিজিসি) চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তারা। দলের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আগে-পরের গল্প ও দেশের অন্য গেইমারদের প্রতি তাঁর পরামর্শ তুলে ধরেছেন তুসিন আহম্মেদ

 

‘সেদিন ঘরে পিসিতে বসে খেলছিলাম। গেইম ওভার হওয়ার পর হেডফোন সরাতেই পাশের ঘরে থেকে মায়ের গলা শুনলাম। ফোনে আত্মীয়দের কাউকে আমাদের চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খবর দিচ্ছেন। খুব খুশি। দোয়া চাচ্ছিলেন আমাদের জন্য। ইন্ডিয়া থেকে ফেরার পর চার-পাঁচ দিন ধরে এটা চলছেই। অথচ এর আগের কয়েক মাস গেইম খেলার জন্য শুধু বকাই খেয়েছি মায়ের কাছ থেকে! চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর আর বকা খাচ্ছি না। সামনের কয়েক মাসও কম খাব মনে হচ্ছে।’ সাফল্যের অনুভূতি জানতে চাইলে হাসতে হাসতে এভাবেই শুরু করলেন দলনেতা সুদীপ্ত কুমার মণ্ডল। জানালেন, শুধু পরিবার নয়, বন্ধু-পরিচিত সবাই খুব খুশি। সবার কাছ থেকে শুভেচ্ছার পাশাপাশি উৎসাহও পাচ্ছেন। দলের অন্য সদস্যরাও পরিবার ও পরিচিতদের কাছ থেকে শুভেচ্ছা ও উৎসাহ পাচ্ছেন বলে জানালেন তিনি।

 

যেভাবে এই দল

কনসোল পিএস৪-এ ‘রেইনবো সিক্স : সিজ’ খেলার সূত্রে পরিচয়। ধীরে ধীরে পরিণতি পায় বন্ধুত্বে। আরেকটু খোলাসা করলেন দলের অন্যতম সদস্য জয় শাওন। বললেন, ‘আমরা ৯ জন—সুদীপ্ত কুমার মণ্ডল, রেশাদ ফারহান, সালিম সাদমান, ইমতিয়াজ অর্ণব, নাহিয়ান বিন ইউসুফ, সাদিক ওয়ালিদ, তানভীর হোসাইন, জামিল পাটওয়ারী ও আমি। ভালো লাগত, তাই একসঙ্গে গেইম খেলতাম। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে দল গঠনের চিন্তা মাথায় আসে। ২০১৫ সালে তৈরি করি দল। নাম রাখা হয় সিএসবিডি অ্যানোনিমাস। অনেকটা পিএস৪ থেকে উৎসাহিত হয়ে নামটি নির্বাচন করা হয়। লক্ষ্য ছিল দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আসরে অংশ নেওয়ার। দেশকে উপস্থাপনা করতে তাই দলের নামের সঙ্গে ‘বিডি’ জুড়ে দেওয়া।’

তবে আইসিজিসিতে সুদীপ্তর নেতৃত্বে রেশাদ, সাদমান, অর্ণব, নাহিয়ান আর শাওন—এই ছয়জন অংশ নেন। নানা কারণে সাদিক, তানভীর আর জামিল ভারত যেতে পারেননি।

 

যেভাবে চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণ

চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে ইন্ডিয়ান সাইবার গেইমিং চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতার অনলাইন নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়। দলের সব সদস্য সিদ্ধান্ত নেয় প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার। সবার মতামত নিয়ে ‘রেইনবো সিক্স : সিজ’-এর জন্য নিবন্ধন করা হয়। প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী প্রথমে অনলাইনে দুটি বাছাই পর্ব খেলতে হয়। সেখানে ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, পাকিস্তানসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের ৬০টিরও বেশি দল অংশ নেয়। এই দুই রাউন্ডে পর্যায়ক্রমে চ্যাম্পিয়ন ও রানার-আপ হয়ে প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত আসরে জায়গা করে নেয় সিএসবিডি অ্যানোনিমাস। সুদীপ্ত বলেন, অনলাইনে ও দেশের অনেক গেইমিং প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হলেও বিদেশের মাটিতে এটিই ছিল আমাদের প্রথম অংশ নেওয়া।

কোয়ালিফায়িং রাউন্ড দুটি সাফল্যের সঙ্গে পার হওয়ায় আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার টার্গেট নিই তখন। লক্ষ্যপূরণে পরিশ্রমও করতে হয়েছে অনেক। প্রতিদিনই দলের সব সদস্য তিন থেকে চার ঘণ্টা অনুশীলন করেছে। অনলাইনে শীর্ষস্থানীয় গেইমারদের বিভিন্ন গেইমিং টিপস ও গেইমের রেকর্ড করা ভিডিওগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা দেখে নিজেদের দক্ষতা বাড়িয়েছি। দলের সবাই শিক্ষার্থী হওয়ায় এই প্রস্তুতি পর্বে পড়ালেখার সাময়িক ক্ষতি হয়েছে। তবে পরবর্তী সেমিস্টারে এটুকু পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ আছে, আমরা এই ক্ষতিটুকু মেনে নিয়েছি। আর চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় সবাই মানসিকভাবে চাঙ্গা আছি। তাই পরবর্তী সময়ে ক্লাসের পরীক্ষার ফলও ভালো হবে বলে আশাবাদী আমরা।

 

নতুন গেইমারদের জন্য

সুদীপ্তর মতে, অনলাইন গেইমিং প্রতিযোগিতায় সাধারণত ফার্স্ট পারসন শুটিং গেইম সিএসগো, রেইনবো সিক্স : সিজ ছাড়া ডোটা ২, ফিফা, ওভারওয়াচ খেলা হয়। একজন সব গেইমে দক্ষ না-ও হতে পারে। তাই পছন্দ ও দক্ষতা অনুযায়ী গেইম নির্বাচন করতে হবে। অনলাইনে অনেক গেইমিং কমিউনিটি রয়েছে। সেগুলোর সঙ্গে যুক্ত থেকে নিজেকে আপডেট রাখতে হবে। তিনি বলেন, গেইমিং প্রতিযোগিতায় জেতার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ধৈর্য ও লক্ষ্য নির্ধারণ। নতুন গেইমারদের অনেক বেশি অনুশীলন করতে হবে। পড়াশোনা ঠিক রেখে অবসর সময়টুকু আড্ডা না মেরে বা টিভি না দেখে নিয়মিত গেইম খেলে অর্জন করতে হবে দক্ষতা। শুধু খেললেই হবে না, ভুলগুলো থেকে শিখতে হবে। একই ভুল যেন বারবার না হয়, সেদিকেও নজর রাখতে হবে।

 

এই দলের আরো অর্জন

২০১৫ সাল থেকে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে দলটি, পেয়েছে নানা পুরস্কারও। গেল বছর দেশে অনুষ্ঠিত গিগাবাইট গেইমিং ফেস্ট ও ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড গেইমিং প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়নও হয়েছে তারা। চলতি বছরও গিগাবাইট গেইমিং প্রতিযোগিতা এবং ইএসএল গোপ্রো গেইমিং প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে দলটি।

 

পাশে ছিল গিগাবাইট

এশিয়ার অন্যতম আলোচিত গেইমিং প্রতিযোগিতা ইন্ডিয়ান সাইবার গেইমিং চ্যাম্পিয়নশিপে (আইসিজিসি)। এবারের আয়োজনে দেশের হয়ে গিগাবাইট অরোজের ব্যানারে ‘সিএসবিডি অ্যানোনিমাস’ ও ‘সিএসবিডি রিভেঞ্জ’ নামে দুটি দলের ১২ গেইমার অংশ নেন। দল দুটির পৃষ্ঠপোষক গেইমিং মাদারবোর্ড নির্মাতা প্রতিষ্ঠান গিগাবাইট। গিগাবাইটের কান্ট্রি ম্যানেজার খাজা আনাস খান বলেন, আইসিজিসির মতো একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দল যাতে অংশ নিতে পারে, সে চেষ্টা আমাদের অনেক দিনের। দেশে বিভিন্ন গেইমিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আমরা দলগুলোকে প্রস্তুত হতে সাহায্য করছি। সিএসবিডি অ্যানোনিমাস চ্যাম্পিয়ন হওয়ায় আমাদের সে লক্ষ্য অনেকটাই পূরণ হয়েছে। আমরা আনন্দিত। ভবিষ্যতেও এ ধরনের টুর্নামেন্টে আমাদের দল পাঠাতে চাই এবং বাংলাদেশের জন্য সম্মান বয়ে আনতে চাই।’



মন্তব্য