kalerkantho


অগ্রজ চার অ্যাকসেলারেটর

১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



অগ্রজ চার অ্যাকসেলারেটর

রকেটস্পেস

প্রযুক্তি বিশ্বের নামকরা সব প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার পেছনে বড় ভূমিকা রাখে স্টার্টআপ অ্যাকসেলারেটর। এই কম্পানিগুলোকে ‘উদ্যোক্তা তৈরির কারখানা’ বললেও ভুল হবে না। অ্যাকসেলারেটরগুলো নতুন উদ্যোগে বিনিয়োগ, কাজের পরিবেশ, পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করে। বিশ্বের আলোচিত চার স্টার্টআপ অ্যাকসেলারেটর কম্পানি নিয়ে লিখেছেন মিজানুর রহমান

 

উই ওয়ার্ক

নামটিই বলে দিচ্ছে ধরন। এটি বিশ্বাস করে একসঙ্গে কাজ করেই কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাওয়া যায়। একজনের স্টার্টআপ থেকে শুরু করে এক হাজার কর্মীর প্রতিষ্ঠান সব ধরনের জন্যই কাজের আধুনিক পরিবেশ নিশ্চিত করে উই ওয়ার্ক। এই কার্যালয়ে শুধু ব্যস্ত ও দক্ষ মানুষের দেখা মিলবে। তাদের সঙ্গে নিয়মিত ব্রেইনস্টর্মিং বা যোগাযোগের ফলে নিজের আইডিয়াটিকে আরো শাণিত করে নেওয়া যাবে। প্রাকৃতিক পরিবেশ, আলো, শিল্পের মিশেলে এ যেন এক অন্য রকম পরিবেশ। এই পরিবেশ পেতে উদ্যোক্তার কিছুই করতে হয় না।

বিশ্বব্যাপী দুই লাখেরও বেশি সদস্য উই ওয়ার্কের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করে। একঘেয়ে অফিস নয়, বরং খোলামেলা পরিবেশে কাজের জায়গা করা সর্বত্র। টেবিল, চেয়ার, সোফা, ইজি চেয়ার—সবখানেই কাজের বন্দোবস্ত করা আছে। শুধু যেখানে কাজ করতে সুবিধা সেখানে বসে কাজ করা শুরু করা যাবে। অবসর কাটানোর জন্য জিমনেসিয়াম, সিনেমা তো আছেই।

 

রকেটস্পেস

একই টেবিলে সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ, কফি কাউন্টারে অন্য কোনো উদ্যোক্তার সঙ্গে হাই-হ্যালো, গেইম রুমে বড় কোনো করপোরেটের সঙ্গে বিলিয়ার্ড, কনফারেন্সে ভিনদেশি কারো সঙ্গে বন্ধুত্ব। রকেটস্পেসের পরিবেশের সংক্ষিপ্ত রূপ কিছুটা এমন। এখানে আপনি কাজ করতে করতে সহজে ক্লান্ত হবেন না। যদি একটু ক্লান্তি আসেও দূর করার জন্য আছে সিনেমা, ইনডোর গেইম, রেস্ট, গান, গল্প।

রকেটস্পেস বিশ্বাস করে স্টার্টআপরা বাজারে সাড়া ফেলার মতো ধারণা নিয়ে আসে, আর সেটিকে করপোরেটের সঙ্গে মিশেল ঘটিয়ে তবেই ভালো কিছু তৈরি করা যায়। সপ্তাহ প্রতি গড়ে দুটি স্টার্টআপ এখানকার বিনিয়োগ পায়। এটি সম্ভব হয় বড় বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরির মাধ্যমে। হয়তো একজন তাঁর আইডিয়া বাস্তবে রূপ দিতে পারছেন না। এ ক্ষেত্রে শুরুতে তাঁকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেবে রকেটস্পেসের কনসালট্যান্টরা। পরের ধাপে কম্পানিকে চমৎকার সূচনা দেওয়ার জন্য করপোরেটরা তো আছেনই। মোটকথা একটি ভালো আইডিয়া রকেটস্পেসে এসে সাফল্য পাওয়া সময়ের ব্যাপার।

 

ইউএসম্যাক

থিংক বিগ, স্টার্ট স্মার্ট, স্কেল ফাস্ট স্লোগান নিয়ে ১৯৯৫ সালে যাত্রা শুরু করে এই কম্পানি। ভিনদেশি উদ্যোক্তাদের যুক্তরাষ্ট্রে সাফল্য অর্জনে সহায়তা করা প্রথম স্টার্টআপ অ্যাকসেলারেটর এটি। ৫০টিরও বেশি দেশের সহস্রাধিক উদ্যোগকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে অবস্থান তৈরিতে সহায়তা করেছে এই অ্যাকসেলারেটর। ইউএসম্যাকের তৈরি কম্পানিগুলোর সমন্বিত বাজার মূল্য এখন দুই বিলিয়ন ডলার। আর এখান থেকে মোট চাকরি সৃষ্টি করেছে ২০ হাজার জনের। রকেটস্পেসের সঙ্গে পার্টনারশিপেও কাজ করে তারা। ইউএসম্যাকের মাধ্যমে কম্পানির আকার বাড়াতে চাইলে আছে তিনটি ধাপ।

প্রথমে গো-গ্লোবাল বুট ক্যাম্প। এই বুট ক্যাম্পের মাধ্যমে ইউএসম্যাক কম্পানিটি সম্পর্কে সবিস্তারে জ্ঞান লাভ করে। এরপর আট সপ্তাহের মার্কেট ভ্যালিডেশন প্রগ্রামের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখা হয় কিভাবে স্টার্টআপটির ব্যবসার মডেল যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে খাপ খায়। শেষ ধাপে কম্পানিটিকে শুরুর বিনিয়োগ পাইয়ে দেওয়া হয়।

 

টি-ল্যাবস

খোলা অফিস যেখানে অনেক স্টার্টআপ একসঙ্গে কাজ করছেন, নিজেদের মধ্যে আইডিয়া শেয়ার করছেন, সংযোজন-বিয়োজন করছেন, অভিজ্ঞদের আলোচনা থেকে নিজেদের ঝালাই করছেন—এসব কর্মকাণ্ডের মধ্যে টি-ল্যাবসে স্টার্টআপগুলো কম্পানিতে পরিণত হয়। ভারতের আলোচিত স্টার্টআপ অ্যাকসেলারেটর এটি। এই কম্পানিটি নতুন সব স্টার্টআপকে ব্যবসা শুরু করার জন্য সিড মানি থেকে শুরু করে বড় বিনিয়োগের ব্যবস্থা করে। সঙ্গে বুদ্ধি ও পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করার বিষয়টি তো থাকছেই। ২০১১ সালে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি নানাভাবে প্রযুক্তিভিত্তিক নতুন কম্পানিগুলোকে সহায়তা করে আসছে। কাজের জন্য ভালো পরিবেশ দেওয়ার পাশাপাশি এখানে আছে ইন-হাউস অভিজ্ঞ টিম, যারা সপ্তাহে একবার স্টার্টআপদের সঙ্গে মিটিং করবেন এবং ব্যবসার নানা দিক সম্পর্কে নিজেদের পরামর্শ তুলে ধরবেন। ১০০-এর বেশি বিশেষজ্ঞ নিয়ে তৈরি ‘নেটওয়ার্ক’ প্রয়োজনের ভিত্তিতে স্টার্টআপদের সহায়তা দেয়।



মন্তব্য