kalerkantho


মক্কার ট্যাংকে কালিয়াকৈরের আইওটি

১১ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



মক্কার ট্যাংকে কালিয়াকৈরের আইওটি

ডিভাইসটি দেখতে লাইট বা ফ্যানের সুইচ বোর্ডের মতো। ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবের মক্কায় পানি সমস্যার সমাধানে বসানো হচ্ছে বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠান ডাটা সফটের তৈরি প্রযুক্তি। পানির স্তর ২০ শতাংশের নিচে নেমে এলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে জানাবে এই প্রযুক্তি। বাংলাদেশের হাইটেক পার্কে তৈরি এই আইওটি প্রযুক্তির বিস্তারিত নিয়ে লিখেছেন মিলন হোসেন

 

ডাটা সফট যে আইওটি ডিভাইস তৈরি করেছে সেটি আসলে একটি স্বয়ংক্রিয় অ্যালার্ট সিস্টেমের মাধ্যমে রিজার্ভে পানির স্তর এবং যেকোনো পরিবর্তন সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানান দেবে। ট্যাংকে পানি কতটুকু রয়েছে, কতক্ষণ ব্যবহার করা যেতে পারে, আবার কখন পানি তোলা দরকার জানা যাবে সব কিছুই। বলা যায়, এর মাধ্যমে পুরো ট্যাংকের ‘অ্যানালিটিকস’ পাওয়া যাবে। এই ব্যবস্থাকে বলা হচ্ছে ‘ওয়াটার ট্যাংক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সল্যুশন’।

 

কী আছে?

‘ওয়াটার ট্যাংক ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম সল্যুশন’ প্রযুক্তিতে সফটওয়্যারের পাশাপাশি একটি ডিভাইস সংযুক্ত করতে হয়। ডিভাইসটি দেখতে সাধারণ অনেকটা লাইট বা ফ্যানের সুইচ বোর্ডের মতো। লাগানোও হয় দুই বাই তিন ইঞ্চির সুইচ বোর্ডের সঙ্গে। তাই এটি যে আলাদা কোনো ডিভাইস, তা বোঝারও উপায় থাকে না। এটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয় অ্যাডাপ্টরের মাধ্যমে। আর পানির ট্যাংকের ভেতরে বসানো থাকে সেন্সর।

 

কাজ করবে যেভাবে

আইওটি ডিভাইসটি কাজ করবে জিপিআরএস যোগাযোগের মাধ্যমে। সেন্সর থেকে রিসিভার হয়ে সার্ভার এবং সর্বশেষ সেটি গ্রাহককে জানান দেওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হবে কাজ।

প্রথমে আইওটি ডিভাইসগুলো মক্কার বাসাবাড়ির পানির ট্যাংকের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হবে। ট্যাংকের ভেতরে বসানো থাকবে মোট দুটি সেন্সর। আর একটি রিসিভার বসানো হবে বাসার যেকোনো স্থানে। রিসিভারটিতে অ্যান্টেনা থাকবে।

এই অ্যান্টেনার মাধ্যমে ট্যাংকের অবস্থা রিসিভারে পাঠিয়ে দেবে সেন্সরের মাধ্যমে। রিসিভারে আসা তথ্যগুলো চলে আসবে বাংলাদেশে থাকা ডাটা সফটের ক্লাউড সার্ভারে। সার্ভারে জমা হওয়া সব তথ্য তিনটি পদ্ধতিতে জানতে পারবেন বাড়ির মালিক—ই-মেইল, এসএমএস এবং মোবাইল অ্যাপে। এ ক্ষেত্রে মোবাইল অ্যাপে পাওয়া যাবে বিস্তারিত।

 

কাজ করছেন তরুণ প্রকৌশলীরা

আইওটি ডিভাইসটি তৈরিতে যুক্ত আছেন এক দল তরুণ প্রকৌশলী। তাঁদের মধ্যে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করছেন মো. আখতারুজ্জামান। এ ছাড়া সার্ভার ব্যবস্থাপনায় আছেন সুমাইয়া নোহা, মোবাইল অ্যাপে হৃদয়, অন্যান্য প্রকৌশলে কাজ করেছেন হাসান মাহমুদ, আরিফুল হক এবং অপূর্ব সাহা। 

 

শুরু হয়েছে রপ্তানি

ডাটা সফটের তৈরি করা আইওটি ডিভাইস রপ্তানি শুরু হয়েছে। প্রথম অবস্থায় ডিভাইসটি আমদানি করছে সৌদি আরবের মক্কার একটি প্রতিষ্ঠান স্যাক আলভাতানিয়া। ৩১ জুলাই গাজীপুরের কালিয়াকৈর বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটির ডাটা সফট কার্যালয়ে প্রথম লটের ডিভাইসগুলো হস্তান্তর চুক্তি হয়। প্রথম লটে ১০০টি আইওটি ডিভাইস রপ্তানি করল ডাটা সফট সিস্টেম লিমিটেড। তবে এই সংখ্যা ৫ হাজার এবং তারপর ১০ হাজার হওয়ার সম্ভাবনার কথা বলছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাহবুব জামান। মক্কা ছাড়া অন্যান্য শহরেও যোগাযোগ শুরু করছে ডাটা সফট।

 

বড় উৎপাদনের লক্ষ্য

আইওটি ডিভাইসটি তৈরি হয়েছে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু হাইটেক সিটিতে। সেখানে এটি ডাটা সফটের প্রথম কোনো আইওটি ডিভাইস তৈরি। প্রথমে তৈরি হয়েছে ১০০টি।

যদি ব্যবহারে সফলতা আসে, তবে এই উৎপাদন বাড়িয়ে উন্নীত করা হবে লাখে।

 

তৈরি হচ্ছে আরো ডিভাইস

আইওটির পাশাপাশি ডাটা সফট সিস্টেমস আরো কিছু ডিভাইস তৈরিরে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে ও ব্যাবসায়িক কাজে ব্যবহারের জন্য স্বল্প মূল্যের কম্পিউটার ‘তালপাতা-ক’ ও ‘তালপাতা-ব’ তৈরি করেছে তারা।

এই ল্যাপটপগুলো সৌরশক্তির মাধ্যমেও চালানো সম্ভব হবে।

এ ছাড়া যেকোনো মনিটর বা টিভিকে কম্পিউটারে রূপান্তর করার ডিভাইস ‘পকেট পিসি’ নিয়ে শিগগিরই বাজারে আসবে তারা।

দূরলিখন ও করপোরেট কাজে ব্যবহারের জন্য স্মার্ট হোয়াইট বোর্ডও তৈরি করছে প্রতিষ্ঠানটি। বছরের শেষভাগে ডিভাইসটি বাজারে পাওয়া যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

পাশাপাশি ক্যাসিনো, ক্রুজশিপ ও সমুদ্রবন্দরে ব্যবহারের জন্য আইওটিভিত্তিক সল্যুশন নিয়ে কাজ চলছে ডাটা সফটে। আর তাদের তৈরি নিরাপত্তা কাজে ব্যবহৃত ফেইস রিকগনিশন, স্মার্ট হোম, স্মার্ট টোলসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি তো এরই মধ্যে ব্যবহার শুরু হয়েছে দেশ-বিদেশে।



মন্তব্য