kalerkantho


গ্যাজেটে ‘ঠাণ্ডা’ জয়!

ঠাণ্ডা পানি, খাবার আর ঘরের পরিবেশ কিছুটা হলেও উষ্ণ করতে কিনতে পারেন গিজার, ওয়াটার হিটার, রুম ওয়ার্মারসহ বিভিন্ন গ্যাজেট। এসব পণ্য কোথায় পাওয়া যায়, কেমন বিদ্যুৎ খরচ হয়, দামই বা কেমন—তা জানাচ্ছেন ইমরান হোসেন মিলন

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



গ্যাজেটে ‘ঠাণ্ডা’ জয়!

মডেল : রাত্রি চৌধুরী, অনন্যা চৌধুরী ছবি : শেখ হাসান

গোসল থেকে শুরু করে, রাতে শোবার ঘর অবধি এখন স্মার্ট পণ্যের ছড়াছড়ি। আর এই পণ্যগুলোই শীতে মানুষকে স্বস্তি দিচ্ছে নিমেষেই। এমন হরেক রকম ইলেকট্রনিক পণ্যের পসরা এখন দেশি-বিদেশি ইলেকট্রনিক পণ্য নির্মাতাপ্রতিষ্ঠানগুলো এনেছে। ব্র্যান্ড ও নন-ব্র্যান্ড মিলিয়ে স্বল্প-মাঝারি দামে তা পাওয়াও যাচ্ছে ঢের। আর অনলাইনের বদৌলতে এগুলো মানুষের হাতের মুঠোয়।

 

গিজার

শীতে ঠাণ্ডা পানি ব্যবহারে অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এই ভয়ে গোসলও করেন না অনেকে। তবে গিজার থাকলে এই মুশকিলে আসান। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গোসলখানার ফলস ছাদে গিজার বসানো হয়। পানি ব্যবহারের ১০ মিনিট আগে থেকে গিজার চালিয়ে রাখলেই হবে। গিজার চালু করার পর পানি গরম হয়ে গেলে গিজার আপনা-আপনি বন্ধ হয়ে যাবে।

স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বেশ কিছু ব্র্যান্ডের গিজার রয়েছে বাজারে। সাধারণত লিটার মাপে গিজার বিক্রি হয়। সাধারণ ব্র্যান্ডের অনেক গিজারই কম দামে পাওয়া যায়। এগুলোর মধ্যে ৪৫ লিটারের দাম তিন হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু। ৬৫ লিটার গিজারের দাম শুরু হয় তিন হাজার ৮০০  টাকা থেকে। আর ৯০ লিটার পাঁচ হাজার ২০০ টাকা। নামি ব্র্যান্ডের মধ্যে কোরিয়ার হুন্দাই ৯ হাজার টাকা আর সেনবো ১২ হাজার টাকা থেকে শুরু।

গিজারে বিদ্যুৎ খরচ কিছুটা বেশি। স্বাভাবিক ব্যবহারে মাসে অতিরিক্ত ৫০০ থেকে এক হাজার টাকা বেশি বিদ্যুৎ বিল যুক্ত হতে পারে। গিজার লাগাতে বিদ্যুৎ সংযোগের তারটিও যাচাই করে নেওয়া ভালো।

রাজধানীর প্রায় প্রতিটি বড় ইলেকট্রনিক পণ্যের দোকানে গিজার পাওয়া যায়। এ ছাড়া নিউ মার্কেট, স্টেডিয়াম মার্কেট, গুলশানের ডিসিসি মার্কেটসহ প্রায় প্রত্যেক এলাকায়ই গিজার পাওয়া যায়।

 

ওয়াটার হিটার

গিজারের পাশাপাশি বৈদ্যুতিক উপায়ে পানি গরম করার আরেকটি উপায় হচ্ছে ওয়াটার হিটার। এ ব্যবস্থায় পানি গরম করতে গিজারের চেয়েও সময় কম লাগে। অল্প পরিমাণ পানি গরমের ক্ষেত্রে ওয়াটার হিটার উপযুক্ত।

মানভেদে ৫০০ থেকে দেড় হাজার টাকার মধ্যে ওয়াটার হিটার পাওয়া যায়। সাধারণ ইলেকট্রনিক পণ্যের দোকানেও এখন ওয়াটার হিটার পাওয়া যায়। অনলাইনে https://goo.gl/bWzde5-সহ আরো কিছু ই-কমার্স সাইটেও গ্যাজেটটি পাওয়া যাবে। এটি ব্যবহারে কিছুটা সাবধানতা জরুরি। সংযোগ চালু অবস্থায় পানিতে হাত না দেওয়াই ভালো।

 

ফ্লাস্ক

ফ্লাস্ক অনেকটা ইলেকট্রনিক কেটলির মতো কাজ করে। তবে খুব কম বিদ্যুৎ খরচ হওয়ায় এটি বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অফিসে চা, কফি বানানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। দেশে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ফ্লাস্ক পাওয়া যায়। ফ্লাস্কের দাম মানভেদে বিভিন্ন হয়। ব্র্যান্ডের হলে দাম কিছুটা বেশি। তবে নন-ব্র্যান্ডের ফ্লাস্কের দাম ৫০০ থেকে শুরু করে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত হয়। বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ব্র্যান্ডের শোরুম ও ইলেকট্রনিক পণ্যের দোকানে এ ধরনের ফ্লাস্ক পাওয়া যায়। ই-কমার্স সাইটগুলোতেও অনেক ধরনের ফ্লাস্ক রয়েছে।

 

রুম হিটার

শীতের তীব্রতা এড়িয়ে ঘর উষ্ণ রাখতে রুম হিটার ব্যবহার করা যেতে পারে। এই হিটার থেকে বের হওয়া গরম বাতাসে রুম উষ্ণ হয়। হিটারটি কিছু সময় চালালেই ঘর স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ফিরে আসে। তখন এটি বন্ধও করে দেওয়া যায়। ব্র্যান্ড ও নন-ব্র্যান্ড দুই ধরনের রুম হিটারই পাওয়া যায়। নন-ব্র্যান্ডের দাম হাজার টাকা থেকে শুরু।

ব্র্যান্ডের মধ্যে হিটাচির দাম দুই থেকে চার হাজার টাকার মধ্যে। নোভার দাম দুই হাজার ৫০০ থেকে তিন হাজার ৫০০ টাকা। মিয়াকো ও নোভিনা পাওয়া যাবে দেড় হাজার থেকে চার হাজার ৫০০ টাকার মধ্যে। ওয়ালটনের দাম এক হাজার থেকে তিন হাজার টাকা। রুম হিটারের বিদ্যুৎ খরচ সাধারণ ফ্যানের কাছাকাছি।

অনলাইনে পাওয়া যায়

https://goo.gl/oLHBHJ-এ|

 

ইনস্ট্যান্ট ওয়াটার হিটার

বিদ্যুৎ সংযোগের সীমাবদ্ধতা, স্থান সংকুলানসহ বিভিন্ন কারণে অনেকের জন্য গিজার লাগানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাদের জন্য গ্যাজেট ইনস্ট্যান্ট ওয়াটার হিটার।

এই ওয়াটার হিটার আবার দুই ধরনের হয়। একটি বাথরুমের শাওয়ারের সঙ্গে লাগানো হয়, অন্যটি ট্যাপের সঙ্গে।

ট্যাপ বা শাওয়ারের সঙ্গে লাগানো ইনস্ট্যান্ট হিটারগুলো বিদ্যুৎ লাইন টেনে লাগিয়ে দিতে হয়। সংযোগ চালু করে দিলে পানি গরম হয়ে পড়তে থাকে।

বিদ্যুতায়িত যাতে না হয়, সে ক্ষেত্রে এটি ব্যবহারে সতর্কতা জরুরি।

ইনস্ট্যান্ট হিটারের দাম নাগালের ভেতরেই, ৮০০ থেকে শুরু করে দুই হাজার টাকার মধ্যে।

এই হিটারগুলো অনলাইনে বা ই-কমার্স সাইটগুলোতে বেশি পাওয়া যায়।  

 https://goo.gl/h53UMF

 https://goo.gl/ViKALq

 

ইলেকট্রিক কেটলি

ইলেকট্রিক কেটলি ব্যবহার করে সহজে ও দ্রুত পানি গরম করা যায়। বাজারে পাওয়া এই ইলেকট্রিক কেটলির পানি ধারণক্ষমতা এক থেকে শুরু করে ১০ লিটার পর্যন্তও হয়।

এ ধরনের কেটলিতে বিদ্যুৎ খরচ কিছুটা বেশি। চলে ২২০ ভোল্টেই। পাওয়া যায় ৯০০ থেকে দুই হাজার টাকার মধ্যে। বিভিন্ন ইলেকট্রিক শোরুম ও ই-কমার্স সাইটেও কিনতে পাওয়া যায়।

রয়েছে রাজধানীর নিউ মার্কেট, গুলশান ডিসিসি মার্কেট, স্টেডিয়াম মার্কেটেও।

 https://goo.gl/doxaSb

 https://goo.gl/avs2AR

 

ইলেকট্রিক লাঞ্চ বক্স

খাবার গরম করার ঝক্কি এড়াতে এখন বাজারে অনেক ধরনের ইলেকট্রিক লাঞ্চ বক্স পাওয়া যায়। এই বক্সগুলোতে দীর্ঘক্ষণ খাবার গরম রাখা যায়। এমনকি এর খাবার ঠাণ্ডা হয়ে গেলেও খুব সহজেই তা গরম করে নেওয়ার ব্যবস্থা থাকে। ওই বক্সেই থাকে জ্যাক, যেখানে সরাসরি বিদ্যুত্সংযোগ দিলে খাবার গরম হয়ে যায়। সরাসরি বিদ্যুৎ, আবার কোনোটি ইউএসবি লাইনেও চলে। বহন ও সহজে ব্যবহারযোগ্য লাঞ্চ বক্সগুলো ১১০ ভোল্ট (ইউএসবি প্লাগ), ২২০ ভোল্ট ইলেকট্রনিক প্লাগ এবং ২৪ ভোল্টের কার প্লাগের সাহায্যেও ব্যবহার করা যায়।

দাম আকারভেদে ৭০০ টাকা থেকে শুরু।

রাজধানীর নিউ মার্কেট, গুলশান ১-এর ডিসিসি মার্কেটসহ ই-কমার্স সাইটগুলোতে পাওয়া যায়।

 https://goo.gl/TWytj5

 https://goo.gl/MqoJT8

 

ইলেকট্রিক কম্বল

মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করা যায় এমন কম্বল এখন জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে। এর তাপমাত্রাও নিয়ন্ত্রণ করা যায়। আর অ্যাপের সাহায্যে কম্বলটি বিছানায় বিছানোও যায়।

দেশে এমন কম্বল পাওয়া না গেলেও অনেকেই এটি ই-কমার্স সাইট আমাজন থেকে কিনতে পারেন। দাম ৪৯.৯৫ ডলার।

https://goo.gl/iVJqzf


মন্তব্য