kalerkantho


গেইম

ভাগ্যের উপত্যকায় গতির লড়াই

সামীউর রহমান   

২৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ভাগ্যের উপত্যকায় গতির লড়াই

১৯৯৪ থেকে ২০১৭, এই সময়ের ভেতর প্রযুক্তিজগতে ঘটে গেছে নানা পরিবর্তন। ফেসবুক, টুইটার, স্ন্যাপচ্যাটের জগতে এক মুহূর্ত একা থাকার উপায় নেই।

স্মার্টফোন, ট্যাবলেট আর ল্যাপটপ তো জামাকাপড়ের মতোই প্রয়োজনীয়। আর গাড়ি? রীতিমতো সুপার কার যুগে পৌঁছে গেছে যান্ত্রিক শকট। এত কিছুর পরও কিন্তু গতির নেশা কমেনি! তাইতো উৎসাহের কমতি নেই নিড ফর স্পিড সিরিজের গেইমের জন্যও! এনএফএস সিরিজের ২৩তম গেইম ‘পেব্যাক’। বলা হচ্ছে, গেইমের ধাঁচটা হচ্ছে রেসিং অ্যাকশন। এই গেইমে ভাঙতে হবে পাতানো রেসের সিন্ডিকেট, পালাতে হবে সিন্ডিকেটের পকেটে থাকা পুলিশের হাত থেকে জান বাঁচিয়ে, একই সঙ্গে নিতে হবে প্রতিশোধও। গতির নেশার সঙ্গে টান টান উত্তেজনার হলিউডি কাহিনিতে যদি স্টিয়ারিংয়ের পেছনে জায়গাটা নিতে চান, তাহলে খেলতে বসে পড়ুন ‘নিড ফর স্পিড পেব্যাক’। যুক্তরাষ্ট্রের কাল্পনিক এক শহর ফরচুন ভ্যালি, সৌভাগ্যের উপত্যকা। এ শহরেরই ভাগ্যানুসন্ধানী তিন পাকা ড্রাইভার—টেইলর, জেস আর ম্যাক। তিনজনেরই রয়েছে সাংকেতিক নাম। টেইলর হচ্ছে ‘রেসার’, জেস হচ্ছে ‘হুইলম্যান’ আর ম্যাক হচ্ছে ‘শোম্যান’। পেব্যাক গেইমে তাদের যেকোনো একজনের ভূমিকায়ই নামতে হবে গেইমারকে। এনএফএস আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে স্ট্রিট রেসিং ও মডিফায়েড গাড়ির প্রতি বাড়তি একটা ঝোঁক দেখা যায় গেইমারদের, যেটি পূর্ণতা পায় এনএফএস মোস্ট ওয়ান্টেড গেইমে এসে। সিজিআইয়ের বদলে সত্যিকারের মানুষের মাধ্যমে চরিত্র চিত্রায়ণ, পুলিশের তাড়া আর হেলিকপ্টার ও এসইউভির ধাওয়া খেয়ে ছুটে পালানো—সব রোমাঞ্চই ছিল মোস্ট ওয়ান্টেডে। পেব্যাক তাতে রং চড়িয়েছে আরো। বিশাল একটা ওপেন ওয়ার্ল্ড, যেখানে হচ্ছে প্রচুর রেস। যোগ দেওয়া যাবে সেসব রেসে। কামানো যাবে অর্থ। কেনা যাবে গাড়ি ও গ্যারেজ। চ্যালেঞ্জে জিতে নেওয়া যাবে প্রতিপক্ষের গাড়ি, কোনো বিশেষ মোটর পার্টস—যেকোনো কিছু। সবই করতে হবে পুলিশের ছোঁয়াচ বাঁচিয়ে। কারণ স্ট্রিট রেসিংটা যে অবৈধ! বাস্তবের দুনিয়ায় তাই ফার্মগেটের জ্যামে বসে আটকে থাকলেও ফরচুন ভ্যালিতে নিজের প্রিয় গাড়িতে চেপে ছুটতে পারবেন ১০০ কিলোমিটারের বেশি বেগে। এনএফএস পেব্যাক যেন ফাস্ট অ্যান্ড দ্য ফিউরিয়াস সিনেমার দুনিয়ারই গেইম সংস্করণ। ধুন্ধুমার অ্যাকশনের দুনিয়া, যেখানে কোথাও না কোথাও কিছু না কিছু চলছেই। নানা ধরনের রেস লেগেই আছে। অফ রোড রেস, হাই জাম্প রেস, স্ট্রিট রেস, ড্রিফট রেস, ড্র্যাগ রেস—সবই আছে। রিকমেন্ডেশন পয়েন্টের ওপর ভিত্তি করে এসব রেসে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ মিলবে। একবারেই উঠে পড়ার সুযোগ নেই মগডালে! এনএফএস পেব্যাক তাই কিছুটা ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস, কিছুটা বার্নআউট সিরিজ আর খানিকটা মোস্ট ওয়ান্টেড। সমালোচকদের কাছে তাই খুব একটা ভালো রিভিউ পায়নি গেইমটি। বেশির ভাগই মত দিয়েছে মাঝারি মানের। গোটা গেইম শেষ করতে ৩০ ঘণ্টার কিছু বেশি সময় লাগতে পারে। তবে একজন রিভিউয়ারের কাছে গেইমের স্টোরি মোডের চেয়ে পছন্দের গাড়ি নিয়ে ফ্রি রোমিং করতেই বেশি ভালো লেগেছে বলে জানিয়েছে গেইমস্পটকে। কার রেসিংয়ের গেইমে কাহিনি খোঁজাটা আসলে অর্থহীন। শেষ পর্যন্ত সব উত্তেজনা তো ড্রাইভিংয়েই। কল্পনায় চমৎকার রাস্তায় ম্যাকলারেনের মতো দামি গাড়িতে গতির ঝড় তুলে ফরচুন ভ্যালির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখে ঘুরে বেড়ান। রেস করুন। খুব সিরিয়াস হয়ে খেলার দরকার নেই। যে শহরে গাড়ির গড় গতিবেগ ঘণ্টায় সাত কিলোমিটার, সেই শহরের বাসিন্দা হয়ে পর্দায় গতির ঝড় তুলতে যে কারোরই ভালো লাগার কথা!

 

খেলতে হলে যা লাগবে

ওএস : উইন্ডোজ ৭ বা তদূর্ধ্ব, ৬৪ বিট

সিপিইউ : ইন্টেল আইথ্রি ৬৩০০ @ ৩.৮ গিগাহার্টজ প্রসেসর

র‌্যাম : ৬ গিগাবাইট

ভিডিও কার্ড : জিফোর্স জিটিএক্স ৭৫০ টিআই/জিটিএক্স ১০৫০

হার্ডডিস্কে ৩০ গিগাবাইট ফাঁকা জায়গা

 

বয়স

১৩+


মন্তব্য