kalerkantho


ইউটিউবের ‘পরবর্তী’ দেশি প্রজন্ম

ইউটিউবের জন্য ভিডিওচিত্র নির্মাণের প্রতিযোগিতা ‘নেক্সট টিউবার’ আয়োজন করে বাংলালিংক। ৯ হাজারের বেশি প্রতিযোগী এতে অংশ নেয়। এতে আহনাফ নাসিফ ও রাফিদ মাহাদীর ফিউশন প্রডাকশন্স প্রথম, রাসেল তপু দ্বিতীয় এবং সাদমান সাদিক তৃতীয় স্থান পায়। বিস্তারিত জানাচ্ছেন তুসিন আহম্মেদ

২৫ নভেম্বর, ২০১৭ ০০:০০



ইউটিউবের ‘পরবর্তী’ দেশি প্রজন্ম

ছেলেবেলার বন্ধু আহনাফ নাসিফ আর রাফিদ মাহাদী। ছবি : সংগৃহীত

সবার সেরা ‘ফিউশন প্রডাকশন্স’

ছেলেবেলার বন্ধু আহনাফ নাসিফ আর রাফিদ মাহাদী। দুজনের দারুণ মিল।

পড়েন একই প্রতিষ্ঠানে—রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে। দুজনই গান করেন। বানাতে পারেন ভিডিও। নবম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় খুলেছিলেন ইউটিউব চ্যানেল—ফিউশন প্রডাকশন্স। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে তৈরি র‌্যাপ গান ও মজার ভিডিও তৈরি করে আপলোড করেন চ্যানেলটিতে।

আহনাফ দক্ষ আইডিয়াবাজ। আর রাফিদের হাত ভালো সম্পাদনায়। পড়ার ফাঁকে সময় দিয়ে মোটামুটি ৩০ দিন খেটে একটি ভিডিও করে ফেলেন। এভাবে চ্যানেলটিতে ভিডিও জমেছে ১৫টি।

এসব ভিডিও দেখেছেন প্রায় ১০ লাখ দর্শক। ‘নেক্সট টিউবার’ বিচারকদের রায়ে সেরা হয়েছে ফিউশন প্রডাকশন্স। পুরস্কার হিসেবে পেয়েছেন দেড় লাখ টাকা। সঙ্গে বাংলালিংকের ‘ডিজিটাল অ্যাম্বাসাডর’ তকমা।

তবে বাংলালিংক নেক্সট টিউবার আয়োজনে অংশ নিয়ে বুঝেছেন—শেখার বাকি অনেক কিছু। বিশেষ কৌশল রপ্ত করে চার ভাগের এক ভাগ সময়ে কিভাবে একটি ভিডিও বানানো যায়, শিখেছেন এই আয়োজনে নাম লিখিয়েই। দক্ষতা বেড়েছে অনেক। রাফিদ জানালেন, ৩০ দিনের বদলে এখন সাত কি আট দিনেই তৈরি করে ফেলছেন ভিডিও। এ নিয়ে উচ্ছ্বসিতও দুজন। সেরা হিসেবে শিগগিরই সিঙ্গাপুরে গুগলের এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের হেডকোয়ার্টার্সে প্রশিক্ষণ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন জেনে সবচেয়ে খুশি তাঁরা। এতে দক্ষতা বাড়বে অনেক।

চ্যাম্পিয়ন হলে কেমন লাগছে? জানতে চাইলে নাসিফ বলেন, আমাদের দুজনের মা-বাবা বেশি খুশি হয়েছেন। তাঁদের খুশি করতে পেরে ভালো লাগছে খুব।

ধৈর্য, সময় ও চেষ্টা না থাকলে কখনো ভালো ভিডিও তৈরি করা যায় না বলে মনে করেন ফিউশন প্রডাকশন্স দলের সদস্যরা। তাঁদের মতে, ইউটিউবে ভিডিও তৈরির আগে নীতিমালাগুলো ভালো করে দেখে নেওয়া উচিত। অশালীন ভিডিও নির্মাতারা বেশি দিন স্থায়ী হতে পারবে না। কেননা ইউটিউব এ ধরনের ভিডিওগুলো ও চ্যানেল ব্যান্ড করে দেয়।

আগামী বছরের মধ্যে এক লাখ নিবন্ধিত গ্রাহক পাওয়ার লক্ষ্যে কাজ করছে ফিউশন প্রডাকশন্স। তাতেই পূরণ হবে বর্তমান স্বপ্ন—সিলভার বাটন।

ফিউশন প্রডাকশন্সের ইউটিউব লিংক : https://goo.gl/MJsthZ

 

এর পরেই রাসেল তপু

২০১৪ সালে স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক শেষ করে মুক্ত পেশাজীবী হিসেবে অনলাইনে গ্রাফিকস ডিজাইনের কাজ করছেন রাসেল তপু। অবসরে আড্ডা মারেন বন্ধুদের সঙ্গে। সেই আড্ডায় রাসেলের কৌতুকে পেটে খিল ধরে যায় সবার। বন্ধুরাই রাসেলকে বলেছিল এসব কৌতুক নিয়ে ভিডিও তৈরি করে ইউটিউবে আপলোড করে দিতে। তাহলে মজা পাবে দর্শকরা। আইডিয়াটা খারাপ মনে হয়নি, তাই ভিডিও তৈরি করে ইউটিউবে চ্যানেল খুলে আপলোডও করে দিলেন একদিন। ‘রাসেল তপু ভ্লগস’ নামের সেই চ্যানেল বাহবা পেল শুরুতেই। বন্ধু আর দর্শকদের উৎসাহ পেয়ে একে একে বাড়তে থাকল ভিডিও। সংখ্যাটা এখন ৯০-এ ঠেকেছে। ৯ লাখের বেশিবার দেখা চ্যানেলটি নিবন্ধন করেছে ২১ হাজার দর্শক। ‘নেক্সট টিউবারে’ দ্বিতীয় হয়ে রাসেল তপু পুরস্কার হিসেবে জিতে নেন এক লাখ টাকা।

রাসেল জানান, আমার দৈনন্দিক জীবনে অনেক মজার ব্যাপার ঘটে। সেগুলোই চ্যানেলে গল্পের আকারে মজা করে তুলে ধরার চেষ্টা করি।

একটি ভিডিও তৈরি করতে রাসেল সময় নেন তিন দিন। ভিডিও রেকর্ড করতে ব্যবহার করেন ক্যানন ৭০ডি ক্যামেরা। সম্পাদনের জন্য তাঁর প্রিয় সফটওয়্যার অ্যাডোবি প্রিমিয়াম প্রো।

একটি ভালো ভিডিও তৈরি করতে সবার প্রথমে ভিডিও কোয়ালিটি ও অডিওর দিকে মনোযোগ দেওয়ার পাশাপাশি ভালো গল্পের দিকেও নজর দেওয়া উচিত বলে মনে করেন রাসেল।

রাসেল তপুর ইউটিউব লিংক : https://goo.gl/w5wkZJ

 

তৃতীয় সাদমান সাদিক

পুরস্কার পাওয়া সেরা তিনে নবীনতম ইউটিউব চ্যানেলটি সাদমান সাদিকের। শুরু করেছেন চলতি বছরের জানুয়ারিতে। তবে সংখ্যায় সবার চেয়ে বেশি ভিডিও তাঁর।

প্রায় প্রতিদিন একটি করে ভিডিও আপলোড করেন তিনি। এখন তাঁর চ্যানেলে ভিডিওর সংখ্যা ৩২৪। নিবন্ধিত দর্শক আছেন ২১ হাজার। ‘নেক্সট টিউবারে’ তৃতীয় সাদমান সাদিক পুরস্কার হিসেবে জিতে নেন ৭৫ হাজার টাকা।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে (আইবিএ) তৃতীয় বর্ষে পড়ছেন সাদমান। অনলাইন শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম টেন মিনিট স্কুলে প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করছেন।

প্রতিদিন সময়মতো ভিডিও আপলোড করার কৌশল কী—এমন প্রশ্নে সাদমান বলেন, আমি অনেক বই পড়ি। আইডিয়া সেখান থেকেই আসে। ইন্টারনেটেও রয়েছে নানা গল্প। এসব গল্পে মানুষের যেসব সমস্যা তুলে ধরা হয়, সেগুলো টুকে রাখি। এরপর সমস্যা ও সমাধানগুলো নিয়ে ভিডিও তৈরি করি। ভিডিওগুলো অনেকের কাজে আসছে—এই ভাবনা থেকেই ভিডিও তৈরির অনুপ্রেরণা পাই।

প্রথমে সাদমান সাদিক ইউটিউবে ভিডিও এডিটিং, গ্রাফিকস ডিভাইন, পাওয়ার পয়েন্টসহ বিভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহারের টিউটরিয়াল ভিডিও তৈরি করত। পাওয়ার পয়েন্ট প্রো নামে আরেকটি চ্যানেল (https://goo.gl/VAw5Ly) আছে তাঁর। সেখানেও নিবন্ধিত দর্শক প্রায় ২০ হাজার।

সফটওয়্যার টিউটরিয়াল নিয়ে একটি ভিডিও তৈরি করতে আগে সাদমানের সময় লাগত দুই দিনের মতো। আর এখন লাগে ৩০ মিনিটের মতো। চিত্র গ্রহণে ব্যবহার করেন ক্যানন ডিএসএলআর ক্যামেরা। আর সম্পাদনায় অ্যাডোবি প্রিমিয়ার প্রো। এই সফটওয়্যারটি কিভাবে ব্যবহার করতে হয়, তা নিয়েও সাদমানের টিউটরিয়াল আছে https://goo.gl/SbEorZ ঠিকানায়।

প্রায় সাড়ে সাত হাজার প্রতিযোগীকে পেছনে ফেলে তৃতীয় ‘নেক্সট ইউটিউবার’ হতে পেরে কেমন লাগছে—এমন প্রশ্নের জবাবে সাদমান বলেন, ইউটিউবে ভিডিও তৈরি নিয়ে দেশে কোনো স্বীকৃতি ছিল না। এই প্রতিযোগিতায় তৃতীয় হয়ে মনে হচ্ছে, আমার স্বীকৃতি আছে। অনুভূতি আসলেই ভালো লাগার।

সাদমান সাদিকের ইউটিউব লিংক : https://goo.gl/ UdxnFn

 

আয়োজন সম্পর্কে

ইউটিউবে ভিডিও অ্যাপ করে লাখো দর্শক টানছেন উন্নত বিশ্বের অনেকে। তারকাও বনে যাচ্ছেন কেউ কেউ। এগিয়ে আসছেন বাংলাদেশের অনেক তরুণ। এই নতুন ইউটিউবারদের খুঁজে বের করতে মোবাইল ফোন অপারেটর বাংলালিংক আয়োজন করে দেশের প্রথম ডিজিটাল রিয়ালিটি শো ‘নেক্সট টিউবার’। জাঁকজমক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আয়োজন শুরু হয় ১৮ সেপ্টেম্বর। রেজিস্ট্রেশন করে ৯ হাজারের বেশি প্রতিযোগী। বাছাই প্রক্রিয়ায় শিক্ষা, অভিনয়, সংগীত, নৃত্য, লাইফস্টাইলসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর নির্মিত ভিডিও কনটেন্ট জমা দেয় প্রতিযোগীরা। এরপর ধাপে ধাপে নির্বাচন করা হয় বিজয়ীদের। বিচারক ছিলেন দেশের জনপ্রিয় ইউটিউব তারকা সালমান মুক্তাদির, সৌভিক আহমেদ, তামিম মৃধা ও আসিফ আজাদ।


মন্তব্য